সিসিটিভি ফুটেজ নিয়ে ধোঁয়াশা কাটছে না

আপডেট : ২৪ ডিসেম্বর ২০১৯, ১৬:৪৭

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহসভাপতি (ভিপি) নুরুল হক নুর ও তার সহযোগীদের ওপর হামলার ঘটনার পর গায়েব হয়ে গেছে ডাকসু ভবনের সিসিটিভি ফুটেজ। কে বা কারা ফুটেজগুলো গায়েব করল, সে ব্যাপারে কোনো ধারণা নেই কর্তৃপক্ষের। তবে ডাকসু ভিপি নুুরুল হক বলছেন, হামলা শুরু হওয়ার আগেই তিনি ফুটেজের রুমে তালা লাগিয়ে দিয়েছিলেন।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ডাকসু ভবনের বাইরে এবং ভেতরে মিলিয়ে মোট ৯টি ক্লোজড সার্কিট (সিসি) ক্যামেরা আছে। ক্যামেরার ফুটেজগুলো ধারণ করা হতো ডাকসুর সিনিয়র অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ অফিসার আবুল কালাম আজাদের কক্ষে। সেই কক্ষে একটি মনিটর এবং একটি সিপিইউ ছিল। কিন্তু ডাকসু ভবনে হামলার ঘটনার পর সেই মনিটর এবং সিপিইউয়ের কোনো হদিস পাওয়া যাচ্ছে না।

আবুল কালাম আজাদ বলেন, রবিবার গতকাল দুপুরে যখন ডাকসু ভবনে ভিপি নুরুলের ওপর হামলা হয়, তখন তিনি বিষয়টি জানাতে প্রক্টর গোলাম রব্বানীর কার্যালয়ে যান। পরবর্তীতে দুই পক্ষ যখন দোতলায় মুখোমুখি অবস্থান করছিল, তখন তিনি আবার প্রক্টরের কার্যালয়ে গিয়ে বিষয়টি জানান। প্রক্টর জানান, বিষয়টি তিনি দেখছেন। এরপর প্রক্টরের কার্যালয় থেকে বের হয়ে পরিস্থিতি জানানোর জন্য তিনি ডাকসুর কোষাধ্যক্ষ ও ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ডিন শিবলী রুবাইয়াতুল ইসলামের কার্যালয়ে যান। তাঁকে কার্যালয়ে না পেয়ে মুঠোফোনে চেষ্টা করেন। কিন্তু শিবলী রুবাইয়াতুল ইসলাম ফোন ধরেননি। এরপর তিনি নিজের কক্ষে এসে দেখেন, তাঁর কক্ষের তালা ভাঙা এবং ভেতরে মনিটর ও সিপিইউ নেই। কে বা কারা সেগুলো নিয়ে গেছে, তা তিনি জানেন না।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ডাকসুর অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ অফিসারের রুমের দরজা কিছুটা ভাঙ্গা অবস্থায় রয়েছে। এমন স্পর্শকাতর জায়গায় এ ধরনের দরজা কেন পরিবর্তন করা হয়নি এমন প্রশ্নে আবুল কালাম আজাদ বলেন, দরজা পরিবর্তন করার জন্য তিন সপ্তাহ আগে দরখাস্ত দিয়েছিলাম।

সিসিটিভির বিষয়ে নুরুল হক নুর বলেন, মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ আমাদের উপর হামলা করার পর আমরা প্রথমবার প্রতিরোধ করি। তখন ডাকসুর এক কর্মচারীকে দিয়ে অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ অফিসারের রুমে তালা লাগিয়ে দেই। তখন থেকে কেউ তালা ভাঙ্গেনি। নুরের দাবি, হামলার সময়ও কেউ ওই রুমে ঢোকেনি। পরে এই ফুটেজ চুরি করা হয়।

এ বিষয়ে ডাকসুর এজিএস ও ছাত্রলীগের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন বলেন, হামলার সময় ডাকসুর উপরে নুরুর উগ্রবাদী বাহিনী অবস্থান করছিলো। তারাই ভালো বলতে পারবে সিসিটিভি ফুটেজ কোথায়।

সিসিটিভি ক্যামেরার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় চাইলে অনেক কিছু করতে পারেনা। এই সিসিটিভি ক্যামেরা চুরি হয়ে গেলে তা উদ্ধার করা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে অসম্ভব বিষয় হবে। এর জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাহায্য প্রয়োজন হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাহায্য নেবেন কিনা এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, তদন্ত কমিটি করে দেওয়া হয়েছে। কমিটি যদি মনে করে তাহলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনির সহায়তা নিতে পারবে।

সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশের দাবি

এদিকে সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন বিচারের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ করে অতিসত্ত্বর দোষীদের চিহ্নিত করে তাদেরকে শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানানো হয়। শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘ছাত্রলীগের যেসব সন্ত্রাসী সাদ্দাম এবং সনজিতের নেতৃত্বে হামলা করেছে তা সিসিটিভি ক্যামেরা ফুটেজে আছে। অতিসত্ত্বর সেই ফুটেজ প্রকাশ করতে হবে। যদি প্রকাশ করা না হয়, সেক্ষেত্রে প্রশাসনের লেজুঁড়বৃত্তি আরেকবার প্রস্ফুটিত হবে। যে প্রক্টর ব্যবস্থা নিতে পারেননি তাকে পদত্যাগ করতে হবে। আর কোনো আবরারের লাশ আমরা দেখতে চাই না।’