কারখানার ছাদ থেকে লাফিয়ে নারী শ্রমিকের আত্মহত্যা

আপডেট : ২৪ ডিসেম্বর ২০১৯, ০০:১১

সাভারে একটি পোশাক কারখানায় কর্তৃপক্ষের অপমান সইতে না পেরে এক নারী শ্রমিক ঐ কারখানার সাততলা ভবনের ছাদ থেকে লাফিয়ে পড়ে আত্মহত্যা করেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। অসুস্থতার কারণে অতিরিক্ত ছুটি কাটিয়ে কারখানায় যোগদান করতে এসে কর্তৃপক্ষের লাঞ্ছনা ও গালি সহ্য করতে না পেরে ঐ নারী শ্রমিক আত্মহত্যার পথ বেছে নেন বলে জানিয়েছেন তার সহকর্মীরা। সোমবার দুপুরে সাভার সদর ইউনিয়নের দক্ষিণ কলমা এলাকার স্ট্যান্ডার্ড গ্রুপের কাজীপুর ফ্যাশন্স লিমিটেড কারখানায় এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগ উঠেছে ঐ নারী শ্রমিক ঘটনাস্থলে মারা গেলেও কারখানা কর্তৃপক্ষ বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য লাশটি ঢাকা মেডিক্যালে পাঠিয়ে দেয়।

নিহত ঐ নারী শ্রমিকের নাম ফাহিমা খাতুন (২৮)। তিনি পাবনা সদর থানা এলাকার তারাবাড়িয়া গ্রামের ইদ্রিস মোল্লার ছেলে মিরাজুল ইসলামের স্ত্রী। পোশাক শ্রমিক স্বামীর সঙ্গে কলমা এলাকার একটি বাড়িতে ভাড়া থেকে গত তিন বছর ধরে স্ট্যান্ডার্ড গ্রুপের কাজীপুর ফ্যাশন্স লিমিটেড কারখানার ৬ষ্ঠ তলার ফিনিশিং শাখায় অপারেটর হিসেবে কাজ করতেন ফাহিমা খাতুন।

নিহতের প্রতিবেশী শরিফা বেগম বলেন, ফাহিমা খাতুন ও মিরাজুল ইসলামের বাকপ্রতিবন্ধী ছেলে জাকির (৮) গ্রামের বাড়িতে দাদা-দাদির কাছে থাকে। ১৫ দিন আগে প্রতিবন্ধী ছেলেটি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে ফাহিমা কারখানা থেকে তিন দিনের ছুটি নিয়ে বাড়িতে যান। সেখান থেকে ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় তিনি আহত হলে তার ডান হাতে ১৮টি সেলাই দেওয়া হয়। এ অবস্থাতেই ছুটির নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কর্মস্থলে পৌঁছে অসুস্থতার বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে অবগত করেন তিনি। এ সময় গালিগালাজ করে কর্তৃপক্ষ তাকে কাজ থেকে বাদ দিয়ে দেন। এরপর তিনি চিকিত্সা শেষে দুই দিন পর গতকাল সোমবার পুনরায় কারখানায় প্রবেশ করে কাজে যোগদানের অনুমতি চান। কিন্তু কর্তৃপক্ষ তাকে কাজে যোগদানের অনুমতি না দিয়ে সকলের সামনে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও লাঞ্ছিত করলে অপমান সইতে না পেরে তিনি ৭তলার ছাদ থেকে লাফ দিয়ে আত্মহত্যা করেন।

নিহতের স্বামী মিরাজুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে তিনি কারখানায় ছুটে যান। কিন্তু সেখানে তাকে না পেয়ে ঢাকা মেডিক্যালে গিয়ে খোঁজ করে তাকে মৃত অবস্থায় পান। এরপর তিনি কারখানায় ছুটে গিয়ে ফাহিমার সহকর্মীদের কাছ থেকে পুরো ঘটনা জানতে পারেন। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।

কারখানার ব্যবস্থাপক মো. রেদুয়ানুল হক বলেন, ‘ফাহিমা কয়েক দিন ছুটিতে ছিলেন। আমাদের নিয়ম হলো মেডিক্যাল থেকে রিপোর্ট নিয়ে এসে কাজে যোগ দিতে হবে। কিন্তু তিনি তা না করে সরাসরি কাজে যোগ দিতে আসে। পরে শুনতে পেরেছি সে ছাদ থেকে লাফিয়ে পড়ে আত্মহত্যা করেছে। ঘটনাটি কর্তৃপক্ষের কারণে ঘটছে নাকি অন্য কোনো বিষয় রয়েছে তা আমরা খতিয়ে দেখছি।’

সাভার মডেল থানার ওসি এ এফ এম সায়েদ বলেন, পোশাক শ্রমিকের মৃত্যুর বিষয়টি শুনেছি। এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে আইগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।