পার্বত্য ভূমি কমিশন আইনে কোনো সম্প্রদায়ের ক্ষতি হবে না বিচারপতি আনোয়ারুল হক

আপডেট : ২৪ ডিসেম্বর ২০১৯, ০০:৩৩

ভূমি কমিশন আইনের মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রামের কোনো সম্প্রদায়ের কোনো ক্ষতি হবে না বলে মন্তব্য করেছেন পার্বত্য ভূমি কমিশনের চেয়ারম্যান বিচারপতি আনোয়ারুল হক। গতকাল সোমবার সকালে পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশনের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে কমিশনের চেয়ারম্যান বিচারপতি আনোয়ারুল হক এ কথা বলেন। এদিকে ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশনের মামলার নিষ্পত্তির প্রথম বৈঠককে ঘিরে রাঙ্গামাটিতে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। ভূমি কমিশন আইন বাতিলের দাবিতে গতকাল বিক্ষোভ করে পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ। এ সময় ভূমি কমিশনের চেয়ারম্যান ও সন্তু লারমাসহ অন্য সদস্যদের ২ ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখা হয়।

বিচারপতি আনোয়ারুল হক বলেন, ভূমি কমিশনের আইনে সকলেই সঠিক বিচার পাবে। আন্দোলনকারী সংগঠনগুলো যে দাবি করেছে তা সরকার বরাবর পাঠিয়ে দেওয়া হবে, সরকার যে সিদ্ধান্ত নিবে ভূমি কমিশন সেভাবেই কাজ করবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। বৈঠকে পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ চেয়ারম্যান জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা ওরফে সন্তু লারমা, রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বৃষ কেতু চাকমা, বান্দরবান জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ক্যা শৈ হ্লা, রাঙ্গামাটি সার্কেল চীফ ব্যারিস্টার রাজা দেবাশীষ রায়, বান্দরবান বোমাং সার্কেল চীফ উ চ প্রু, পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশনের সচিব মো. আলী মনছুর উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, পার্বত্য চট্টগ্রামের ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য এ পর্যন্ত কমিশনের কাছে ২২ হাজার ৯০টি অভিযোগ জমা পড়েছে।

এদিকে রাঙ্গামাটিতে ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশনের মামলার নিষ্পত্তির প্রথম বৈঠককে ঘিরে শহরে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। গতকাল রাঙ্গামাটি ভূমি কমিশন অফিসের সামনে সকাল থেকে রাস্তায় ব্যারিকেড দিয়ে বিক্ষোভ করে পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদের নেতাকর্মীরা। রাস্তায় ব্যারিকেড দিয়ে বিক্ষোভ সমাবেশ করায় শহরে সকল ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকে। এ সময় রাস্তায় আটকা পড়েন ভূমি কমিশন চেয়ারম্যান বিচারপতি আনোয়ারুল হক, আঞ্চলিক পরিষদ চেয়ারম্যান সন্তু লারমা, বান্দরবান বোমাং রাজাসহ কমিশনের সদস্যরা।

পরে ভূমি কমিশনের চেয়ারম্যান পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদের নেতাকর্মীদের ডেকে কথা বলেন। এ সময় চেয়ারম্যান বিচারপতি আনোয়ারুল হক তাদের দাবি দাওয়া নিয়ে কমিশনের বৈঠকে কথা বলার পরামর্শ দেন। চেয়ারম্যানের আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে ব্যারিকেড তুলে নিলেও রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সম্মুখে বিক্ষোভ সমাবেশ করে পাহাড়ি বাঙালিরা।