এসএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি

বনফুল কত সালে মৃত্যুবরণ করেন?

আপডেট : ২৪ ডিসেম্বর ২০১৯, ২০:০৯

বাংলা

মোস্তাফিজুর রহমান লিটন

সিনিয়র শিক্ষক

বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ,ঢাকা

নিমগাছ

 

১.নিচের উদ্দীপকটি পড় এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :                                                                     

                                                                                               জগতের যত বড় বড় জয়, বড় বড় অভিযান,

মাতা ভগ্নী ও বধূদের ত্যাগে হইয়াছে মহীয়ান।

কোন রণে কত খুন দিল নর লেখা আছে ইতিহাসে

কত নারী দিল সিঁথির সিঁদুর, লেখা নাই তার পাশে।                                                                                                            

ক.বনফুল কত সালে মৃত্যুবরণ করেন?                                                                                                                            ১

খ.“এক ঝাঁক নক্ষত্র নেমে এসেছে যেন নীল আকাশ থেকে সবুজ সায়রে।” ব্যাখ্যা কর।                                                              ২

গ. উদ্দীপকটির বিষয়বস্তুর সঙ্গে ‘নিমগাছ’ গল্পের গৃহকর্ম-নিপুণা লক্ষ্মীবউটির দশার সাদৃশ্য ব্যাখ্যা কর।                                        ৩

ঘ.উদ্দীপকটি ‘নিমগাছ’ গল্পের মূলভাবকে ধারণ করেছে উক্তিটির সার্থকতা যাচাই কর।         ৪

ক.বনফুল ১৯৭৯ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি মৃত্যুবরণ করেন।

খ. নিমগাছের পাতার সৌন্দর্য ও থোকা-থোকা ফুলের বাহারে মুগ্ধ হয়ে নতুন ধরনের লোকটি তথা কবি আলোচ্য উক্তিটি করেছেন।

অযত্ন ও অবহেলায় দাঁড়িয়ে থাকা নিমগাছটি অন্য ধরনের লোকটির কাছে ভিন্নমাত্রায় ধরা দিল। তিনি ঔষধি নিমগাছটিকে দেখলেন সৌন্দর্যের দৃৃষ্টিতে। এর সবুজ পাতার সৌন্দর্য ও ফুলের বাহারে মুগ্ধ হলেন তিনি। তার কাছে মনে হলো নিমগাছের অজস্র অসংখ্য সবুজ পাতা যেন এক সবুজ সাগর আর থোকা-থোকা ফুলগুলো যেন নীল আকাশ থেকে নেমে আসা এক ঝাঁক নক্ষত্র। নতুন ধরনের লোকটি একজন কবি। তিনি নিমগাছটিকে কবিরাজের দৃষ্টিতে দেখেননি, কবির দৃষ্টিতে সৌন্দর্যের উত্স হিসেবে দেখেছেন।

গ. উদ্দীপকের বিষয়বস্তুতে নারীর যথার্থ সম্মান না পাওয়ার ঘটনার মধ্য দিয়ে ‘নিমগাছ’ গল্পের গৃহকর্ম-নিপুণা লক্ষ্মীবউটির দশার সাদৃশ্য ব্যক্ত হয়েছে।            নিমগাছ মানুষের বহুমুখী কাজে ব্যবহূত হলেও মানুষ গাছের প্রতি যত্নশীল নয়। ঠিক একই দশা গৃহকর্ম-নিপুণা লক্ষ্মীবউটির। সেও সংসারে কোনো সম্মান বা যত্ন পায় না।                 উদ্দীপকে বলা হয়েছে, জগতের মহত্ কাজগুলোতে নারীর অবদান অসামান্য। কিন্তু কোন যুদ্ধে কত জন পুরুষ প্রাণ দিয়েছেন তা ইতিহাসে লেখা থাকলেও কত নারী স্বামী হারিয়েছেন তা লেখা নেই। ‘নিমগাছ’ গল্পেও দেখা যায়, নিমগাছের দশার মতো ঘরের কাজে নিপুণা লক্ষ্মীবউটির দশা। নিমগাছ যেমন মানুষের বহুমুখী কাজে ব্যবহূত হলেও কেউ গাছের প্রতি যত্নশীল নয় তেমনি লক্ষ্মীবউটিও গৃহকর্মে নিপুণ হলেও তার কোনো সম্মান নেই। সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকের বিষয়বস্তু ‘নিমগাছ’ গল্পে বর্ণিত গৃহকর্ম-নিপুণা লক্ষ্মীবউটির দশার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। কারণ উভয় প্রেক্ষাপটের মূলভাব অভিন্ন।

ঘ.উদ্দীপকটি ‘নিমগাছ’ গল্পের মূলভাবকে ধারণ করেছে কারণ এখানেও নারীর অবস্থাকে গল্পের অনুরূপভাবেই তুলে ধরা হয়েছে।‘নিমগাছ’ একটি প্রতীকী গল্প যেখানে নিমগাছের প্রতীকে গৃহকর্ম-নিপুণা লক্ষ্মীবউটির দুর্দশা চিত্রিত হয়েছে। গল্পটিতে লেখক একটি নিমগাছের করুণ অবস্থা বর্ণনার আড়ালে একজন গৃহবধূর বাস্তবজীবনের চিত্র ফুটিয়ে তুলেছেন।      উদ্দীপকের বিষয়বস্তুতে ফুটে উঠেছে নারীর প্রতি অবহেলা। নারী সব কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করলেও নারীর অবদান স্বীকার করা হয় না। ‘নিমগাছ’ গল্পের মূলভাবেও সমাজে নারীর দুর্দশার চিত্র ফুটে উঠেছে নিমগাছের বিভিন্ন ঘটনা প্রবাহের অন্তরালে। অর্থাত্ উদ্দীপক এবং আলোচ্য গল্পের বিষয়বস্তু একই। ‘নিমগাছ’ গল্পের লেখক খুব নাটকীয়ভাবে গল্পের একদম শেষ লাইনে সীমাহীন কথার আখ্যান পুরে দিয়েছেন। আর এ আখ্যান মূলত অবহেলিত নারী সমাজের দুর্দশার আখ্যান। উভয় প্রেক্ষিতেই নারীদের করুণ অবস্থা ও অবহেলার চিত্র স্পষ্ট হয়েছে। ‘নিমগাছ’ গল্পের মূলভাব উদ্দীপকটিও ধারণ করেছে। সুতরাং আমরা বলতে পারি যে, উদ্দীপকটি ‘নিমগাছ’ গল্পের মূলভাবকে ধারণ করেছে উক্তিটি যথার্থ।