পপেল চন্দ্র সাহা, সহকারী অধ্যাপক
আবদুল কাদির মোল্লা সিটি কলেজ, নরসিংদী
স্বপ্নসিড়ি প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসায়িক কার্যক্রম সারা দেশ জুড়ে বিস্তৃত। উক্ত প্রতিষ্ঠানটি ব্যবসায়ের প্রয়োজনে নিজ নামেই পরিচালিত হয় এবং অন্য কোনো পক্ষের সাথে চুক্তিবদ্ধ হতে পারে। প্রতিষ্ঠানটির দুজন সদস্যের আকস্মিক মৃত্যু ও কয়েকজন সদস্য ব্যবসায় ছেড়ে চলে যাওয়ায় ব্যবসায়িক কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হয়।
ক. বায়িং হাউজ কী?
খ. কোন দলিলকে কোম্পানির জন্মসনদ বলা হয় এবং কেন?
গ. স্বপ্নসিড়ি প্রতিষ্ঠানটির নিজ নামে পরিচিতি কোম্পানি সংগঠনের কোন বৈশিষ্ট্যের সাথে সাদৃশপূর্ণ? ব্যাখ্যা কর।
ঘ. উদ্দীপকে বর্ণিত পরিস্থিতি সত্ত্বেও স্বপ্নসিড়ি প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসায় চালিয়ে রাখা সম্ভব বিশ্লেষণ কর।
উত্তর: ক) কমিশনের ভিত্তিতে বায়ারের পক্ষে ক্রয় প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী প্রতিষ্ঠানসমূহ বায়িং হাউজ নামে পরিচিত।
উত্তর: খ) নিবন্ধন পত্রকে কোম্পানির জন্মসনদ বলা হয়।
কোম্পানি আইনের বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতা পালন করে কোম্পানির উদ্যোক্তাগণ কোম্পানি নিবন্ধকের নিকট হতে নিবন্ধনের প্রমাণ হিসেবে যে সনদ প্রাপ্ত হয় তাকেই নিবন্ধনপত্র বলে। এরূপপত্র কোম্পানির আইনগত সভা নির্দেশ করে। এরূপ দলিল পাওয়ার পর আইনগত সভার জন্মলাভ ঘটায় একে কোম্পানির জন্মসনদ বলা হয়ে থাকে। প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি এটি পাওয়ার পরই কাজ শুরু করতে পারে।
উত্তর: গ) স্বপ্নসিঁড়ি প্রতিষ্ঠানটির নিজ নামে পরিচিত কোম্পানি সংগঠনের কৃত্রিম ব্যক্তিসত্ত্বা বৈশিষ্ট্য এর সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
ব্যক্তি না হয়ে ব্যক্তির ন্যায় অধিকার ও মর্যাদা লাভকে কৃত্রিম ব্যক্তিসত্ত্বা বলে। কৃত্রিম ব্যক্তিসত্ত্বার ফলে কোম্পানি নিজ নামে গঠিত ও পরিচালিত হতে পারে। তাছাড়াও অন্য কোনো পক্ষের সাথে চুক্তিবদ্ধ হতে পারে এবং প্রয়োজনে মামলা ও করতে পারে।
উদ্দীপকে স্বপ্নসিঁড়ি প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসায়িক কার্যক্রম সারাদেশে বিস্তৃত। উক্ত প্রতিষ্ঠানটি ব্যবসায়ের প্রয়োজনে নিজ নামেই পরিচালিত হয় এবং অন্য কোনো পক্ষের সাথে চুক্তিবদ্ধ হতে পারে। যা কোম্পানি ব্যবসায়ের কৃত্রিম ব্যক্তিসত্ত্বাকে নির্দেশ করে। তাই বলা যায়,স্বপ্নসিঁড়ি প্রতিষ্ঠানটি নিজ নামে পরিচিত কোম্পানি সংগঠনের কৃত্রিম ব্যক্তিসত্ত্বার বৈশিষ্ট্যের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
উত্তর: ঘ) উদ্দীপকে বর্ণিত পরিস্থিতি সত্ত্বেও স্বপ্নসিঁড়ি প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসায় চালিয়ে রাখা সম্ভব মন্তব্যটি যথার্থ।
কোম্পানি আইনের অধীনে গঠিত ও পরিচালিত কৃত্রিম ব্যক্তিসত্ত্বার অধিকারী সীমিত দায় বিশিষ্ট ব্যবসায় সংগঠনকে কোম্পানি সংগঠন বলা হয়।
উদ্দীপকে স্বপ্নসিঁড়ি প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম সারাদেশে বিস্তৃত। প্রতিষ্ঠানটির দুজন সদস্যের আকস্মিক মৃত্যুতে কয়েকজন সদস্য ব্যবসায় ছেড়ে চলে যাওয়ায় ব্যবসায়িক কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হয়। কিন্তু উক্ত ব্যবসায়টি আইনগত সত্ত্বার কারণে চালিয়ে রাখা সম্ভব। ১৯৯৪ সালের কোম্পানি আইন অনুযায়ী যদি কেউ মৃত্যুবরণ করে অথবা ব্যবসায় ছেড়ে চলে যায় তবুও উক্ত প্রতিষ্ঠানের বিলোপ সাধন ঘটবে না। তাই আইনত সত্ত্বার কারণে উদ্দীপকে বর্ণিত পরিস্থিতি সত্ত্বেও স্বপ্নসিঁড়ি প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসায় চালিয়ে রাখা সম্ভব।
