ইত্তেফাক রিপোর্ট
দেশের আমদানি-রপ্তানির সব পণ্য শতভাগ স্ক্যানিং নিশ্চিত করার পাশাপাশি বেসরকারিভাবি পরিচালিত অফ ডকের (বন্দরের বাইরে যেখানে পণ্য রাখা হয়) স্ক্যানিংও নিশ্চিত হতে চায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। বন্দরের বাইরে কোন অফ ডকে স্ক্যানার নেই, সে বিষয়ে খোঁজ নেওয়ার জন্য কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন এনবিআরের চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর কাকরাইলে আইডিইবি ভবনে এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, দেশের সমুদ্রবন্দরে সব পণ্য স্ক্যানিং হবে। পর্যাপ্ত স্ক্যানারের জন্য ইতোমধ্যে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। পুরো স্ক্যান হলে খালি কনটেইনার আসা-যাওয়া (পণ্য আমদানি-রপ্তানির আড়ালে) ঠেকানো সম্ভব হবে। এর মাধ্যমে অর্থ পাচার রোধ করতে হবে।
এনবিআরের আওতাধীন কাস্টমস ও ভ্যাট বিভাগের কর্মকর্তাদের নতুন পোশাক (ইউনিফর্ম) প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধন উপলক্ষ্যে ঐ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এনবিআরের সদস্য সাইফুল ইসলামের সভাপতিত্বে এতে এনবিআরের সদস্য খন্দকার আমিনুর রহমানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বন্দরের সব পণ্য স্ক্যান করার জন্য এনবিআরকে নির্দেশনা দিয়েছিলেন। তবে প্রায় এক বছর পার হলেও সব পণ্য স্ক্যান করার কর্যক্রম এখনো শুরু করতে পারেনি এনবিআর। সম্প্রতি পাঁচটি স্ক্যানিং মেশিন ক্রয়ের জন্য দরপত্র আহ্বান করেছে এনবিআর।
ইউরোপে সম্প্রতি একটি রপ্তানি চালানে প্রত্যাশিত পণ্য না যাওয়ার উদাহরণ তুলে ধরে এনবিআরের চেয়ারম্যান বলেন, পণ্য পাঠানোর পর আমদানিকারক কনটেইনার খুলে দেখলেন ওপরে কিছু টি-শার্ট আর ভেতরে সব ঝুট। এই সমস্যার সমাধানে ইলেকট্রনিক সিল লক ব্যবস্থা বাস্তবায়নে গুরুত্ব দেন তিনি। এটি নিশ্চিত করতে না পারলে এই ব্যবসা পুরোটাই বিদেশিদের হাতে চলে যাবে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে বিশেষায়িত ইলেকট্রনিক হিসাবযন্ত্র (ইলেকট্রনিক ফিসক্যাল ডিভাইস বা ইএফডি) ব্যবহার নিশ্চিত করতে এনবিআরের অগ্রগতির বিষয়টিও তুলে ধরেন এনবিআরের চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, ইতোমধ্যে ইএফডির প্রথম চালান এসে পৌঁছেছে। চলতি মাসের শেষ কিংবা জানুয়ারির শুরু থেকে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ইএফডি মেশিন স্থাপনের কার্যক্রম শুরু হবে।
এনবিআর সূত্র জানিয়েছে, নতুন ইউনিফর্ম হবে শার্ট জলপাই ও প্যান্ট গাঢ় জলপাই রঙের। কর্মকর্তাদের পদমর্যাদা অনুযায়ী এতে বিভিন্ন সংখ্যার ‘গৌরব তারকা’ খচিত থাকবে। এনবিআরের চেয়ারম্যান বলেন, আগামী মার্চ থেকে সব কর্মকর্তার জন্য এ ধরনের পোশাকের ব্যবহার বাধ্যতামূলক হবে। এ লক্ষ্যে একটি আদেশ জারি করা হবে। নতুন এই পোশাকের মর্যাদা রক্ষার আহ্বান জানিয়ে মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া বলেন, পোশাকের সঙ্গে যেন বেইমানি না করি। কর আহরণের পাশাপাশি দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, সন্ত্রাসী কার্যক্রমে যেসব দ্রব্য আদান-প্রদান হয়, তা ঠেকাতে কাস্টমস বিভাগকে জলে-স্থলে কাজ করতে হবে।
