কচুরিপানার দখলে জকিগঞ্জের খাল-বিল-হাওর

আপডেট : ২৫ ডিসেম্বর ২০১৯, ০০:৩৫

কুশিয়ারা নদীর পলিতে উর্বর জনপদ সিলেটের জকিগঞ্জ। খাল-বিল ও হাওর-বাঁওড়ে সমৃদ্ধ এ জনপদে এককালে নৌকাযোগেই চলাচল করা যেত। খালগুলোতে পানি থাকত বারো মাস। জাল ফেলে মাছ ধরার দৃশ্যও চোখে পড়ত। পুকুর-দিঘি-জলাশয়ে দেখা যেত সাদা রঙের শাপলা। যুগের বিবর্তনে জকিগঞ্জে এখন নৌকার স্থান দখল করে নিয়েছে বাস, ট্রাক, লেগুনা, টমটম, রিকশা-অটোরিকশাসহ গ্যাস-বিদ্যুত্-পেট্রোল চালিত যানবাহন। ফলে সংকুচিত হয়ে পড়েছে নিকট-অতীতের প্রশস্ত খালগুলো।  কোথাও কোথাও খালগুলো ভরাট হয়ে সড়কের সঙ্গে মিশে যাচ্ছে।  ফলে চাষবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে এ অঞ্চলের মাটি। বর্তমানে জকিগঞ্জের হাওর-বাঁওড় এবং খাল-বিলগুলো কচুরিপানার তীর্থস্থান হয়ে উঠেছে। সর্বত্রই কচুরিপানার রাজত্ব। একসময় এগুলোকে জমির উর্বরাশক্তি বৃদ্ধিতে আশীর্বাদ মনে করা হলেও এখন অভিশাপ মনে হচ্ছে। হাওরাঞ্চলের অধিকাংশ জমিতেই এই জলজ উদ্ভিদটি প্রচণ্ডভাবে ছড়িয়ে পড়ায় এগুলো অপসারণ করে সার-বীজ-ট্রাক্টর খরচ মিটিয়ে চাষাবাদ করে কোনোভাবেই লাভবান হওয়া সম্ভব নয়। ফলে কৃষকের আগ্রহে পড়েছে ভাটা। এতে অনাবাদিই থেকে যাচ্ছে হাজার হাজার একর কৃষিজমি। এ অবস্থায়, জকিগঞ্জের কৃষকসমাজকে কৃষিকাজে পুনরুজ্জীবিত করার জন্য কচুরিপানা অপসারণে ব্যবস্থা গ্রহণ একান্ত প্রয়োজন। এ ব্যাপারে সংশ্লি­ষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

মো.ইউনুছ আলী

সহ-শিক্ষক, ২৮ নং কামালপুর (খ) সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কামালপুর, জকিগঞ্জ, সিলেট