খাশোগির হত্যাকাণ্ডে ন্যায়বিচার বাদে সব হয়েছে

আপডেট : ২৪ ডিসেম্বর ২০১৯, ২২:১৫

সৌদি সাংবাদিক জামাল খাসোগিকে গত বছরের অক্টোবরে তুরস্কে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার বিচারে সৌদি আদালত যে রায় দিয়েছে তাতে অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে তুরস্ক ও জাতিসংঘ। তাদের পক্ষ থেকে এই রায়কে ‘ন্যায়বিচার ছাড়া সব কিছু’ বলে মন্তব্য করা হয়েছে।

১১ জনের নামে মামলা হলেও ঐ ঘটনায় সৌদি আদালত গত সোমবার পাঁচ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেয়। তিন জনকে ৮ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। কিন্তু হত্যার পর যাদের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি বার বার গণমাধ্যমে এসেছিল তারা পার পেয়ে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সৌদি আরবের সরকারি কৌঁসুলি দাবি করেছেন, কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণ এবং অনুমোদনের বাইরে গিয়ে ঐ পাঁচ জন প্রত্যক্ষভাবে জড়িত থেকে এই হত্যাকাণ্ড ঘটান। ৩১ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে মোট ১১ জন ব্যক্তিকে এই ঘটনার জন্য বিচারের মুখোমুখি করা হয়। তাদের ৫ জন দোষী প্রমাণিত হয়েছেন। গুরুতর সংশ্লিষ্ঠতা না মেলায় ৩ জনকে কারাদন্ড দেয়া হয়। বাকি তিনজনকে খালাস দেয়া হয়। এই ঘটনায় সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সংশ্লিষ্টতা তদন্তেরও আহ্বান জানিয়েছিলেন জাতিসংঘের পক্ষ থেকে। তবে যুবরাজ সালমান এ ঘটনার সঙ্গে তার কোন সম্পর্কের   কথা অস্বীকার করেছেন।

কিন্তু জাতিসংঘের একজন বিশেষ দূত বলেছেন, বিচারের নামে যা করা হয়েছে তা সাময়িকভাবে সমালোচনা চাপা দেয়ার চেষ্টা। তুরস্কের মানবাধিকাগ্রুপগুলো এই বিচারকে ‘ন্যায়বিচার’ বলতে নারাজ। তারা পুনতদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন।

মার্কিন সংবাদপত্র ওয়াশিংটন পোস্টের কলামিস্ট জামাল খাসোগজিকে সর্বশেষ দেখা গিয়েছিল গত বছরের ২ অক্টোবর ইস্তাম্বুলে সৌদি কনস্যুলেটে ঢোকার সময়। তিনি সেখানে গিয়েছিলেন তার তুর্কি বান্ধবীকে বিয়ে করার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জোগাড় করতে। সেখানে খাসোগিকে হত্যার সময়ের কথাবার্তা গোপনে রেকর্ড করেছিল তুর্কি গোয়েন্দা সংস্থা। সেই রেকর্ডিং শুনে গোটা বিশ্ব জানতে পারে কিভাবে নৃসংশভাবে হত্যা করা হয়েছিল এই সাংবাদিককে। রেকর্ডিং থেকে জানা যায়, হত্যার পর লাশ টুকরা টুকরা করে স্থানীয় এক দালালের কাছে টুকরোগুলো হস্তান্তর করা হয়েছিল আলামত গায়েব করার জন্য। সেগুলো এখনো খুঁজে পাওয়া যায়নি।