জলবায়ু সম্মেলনে অর্থায়ন নিয়ে সুনির্দিষ্ট অগ্রগতি না হওয়ায় টিআইবির উদ্বেগ

আপডেট : ২৪ ডিসেম্বর ২০১৯, ২২:১৭

স্পেনের মাদ্রিদে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘ জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলনে (কপ-২৫) দীর্ঘমেয়াদি জলবায়ু অর্থায়নের ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় উদ্বেগ ও হতাশা প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। গতকাল মঙ্গলবার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে সংস্থাটি বলেছে, এবারের সম্মেলনে ‘ক্ষয়ক্ষতি’ মোকাবিলায় আলাদা তহবিল গঠনে কোনো সিদ্ধান্তও হয়নি। বৈশ্বিক তাপমাত্রা কমিয়ে আনতে ‘জাতীয়ভাবে নির্ধারিত অনুমিত অবদান’-এর প্রতিশ্রুতি হালনাগাদ হয়নি এবং সর্বোপরি কপ-২৪ সম্মেলনে গৃহীত প্যারিস চুক্তির খসড়া ‘রুলবুক’ বা বাস্তবায়ন নির্দেশিকা চূড়ান্ত হয়নি। অথচ জলবায়ু পরিবর্তনে ক্ষতিগ্রস্ত দেশের ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় বীমা সংস্থাসহ মুনাফাভোগী ব্যক্তি মালিকানাধীন খাত প্রসারের পরিকল্পনা হয়েছে—যা হতাশাজনক।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, শিল্পোন্নত দেশের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ২০২০ সাল হতে ‘নতুন’ এবং ‘অতিরিক্ত’ অর্থ হিসাবে প্রতি বছর ১০০ বিলিয়ন ডলার প্রদানের বিষয়টি কপ-২৫ সম্মেলনের আলোচনায় না থাকায় জলবায়ু অভিযোজন খাতে অনুদানভিত্তিক দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন ক্রমেই অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। সম্মেলনে ক্ষতিগ্রস্ত দেশের ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় বীমা ব্যবস্থা চালুর মাধ্যমে মুনাফাভোগী বেসরকারি খাতকে অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা চলছে। এই বিষয়গুলো পরবর্তী কপ-২৬ সম্মেলনে আলোচনার জন্য রেখে দেওয়ায় কার্যত ২০২০ সাল থেকে প্যারিস চুক্তি বাস্তবায়নকে অসম্ভব করে তুলেছে বলে মনে করে টিআইবি।

এই প্রেক্ষিতে ২০২০ সাল থেকে প্যারিস চুক্তি বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুত জলবায়ু তহবিল বিশেষ করে অভিযোজন এবং ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি অনুদাননির্ভর অর্থায়ন নিশ্চিত করা, প্যারিস চুক্তির সঠিক বাস্তবায়নে কার্যকর জবাবদিহিতা নিশ্চিতে বাংলাদেশের উদ্যোগে ঝুঁকিপূর্ণ সব দেশের অংশগ্রহণে সমন্বিত ক্লাইমেট ডিপ্লোমেসি জোরদার করার দাবি জানিয়েছে টিআইবি।