নীলফামারীর নীলকুঠি ভবন
নীলফামারী প্রতিনিধি
জনতার বাধায় রক্ষা পেল ব্রিটিশ শাসনামলের ঐতিহ্যবাহী নীলফামারীর নীলকুঠি ভবন। ভবনটি না জেনে ভাঙতে শুরু করে জেলা পুলিশ। পরে স্থানীয়রা টের পেয়ে সেখানে গিয়ে প্রতিবাদ করলে ভাঙার কাজ বন্ধ করে দেয় পুলিশ প্রশাসন।
এলাকাবাসী অভিযোগ করে বলেন, মঙ্গলবার হঠাত্ করে শ্রমিক লাগিয়ে ভবন ভাঙতে শুরু করায় বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন তারা।
বর্তমান সরকারের গত মেয়াদে সেই ভবনটিকে পুরাকীর্তি হিসেবে সংরক্ষণের উদ্যোগ নেয় সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর। ভাঙার কাজ করা শ্রমিক আমিনুর রহমান ও আক্কাছ আলী বলেন, কয়েক দিন ধরে পুলিশ লাইনে নির্মাণকাজ করছিলাম। হঠাত্ করে চার জন শ্রমিককে ঐ ভবনটি ভাঙার কাজে পাঠায়। সেখানে এসে কাজ শুরু করলে বাধা দেয় এলাকাবাসী।
পলাশবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মমতাজ আলী প্রামাণিক বলেন, ‘আমার মনে হয়েছিল ঐ নিদর্শনটি সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় সংরক্ষণের কাজ শুরু করেছে। সেটি হঠাত্ করে কে বা কারা ভাঙছে শুনে এলাকার লোকজন বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে ভাঙার কাজ বন্ধ করে দেই।
এ বিষয়ে পুলিশ সুপার মুহাম্মদ আশরাফ হোসেন বলেন, ‘ভবনটির পুরাকীর্তি ঘোষণার প্রক্রিয়া আমার জানা ছিল না। বিষয়টি জানার পর সঙ্গে সঙ্গে কাজ বন্ধ করে দেই। তবে ভবনটি যে জমিতে রয়েছে, সেটি জেলা পুলিশের রেকর্ডীয় সম্পত্তি। নবঘোষিত নীলফামারী মেডিক্যাল কলেজ স্থাপনের প্রস্তাবনা থাকায় ঐ পুরাতন স্থাপনাসহ জমি স্বাস্থ্য বিভাগের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলমান আছে। ধারণা ছিল স্বাস্থ্য বিভাগ সেটি ভেঙে ফেলবে। ঐ ধারণা থেকে পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতির (পুনাক) একটি শোরুম নির্মাণের জন্য ইটের প্রয়োজন হয়। সেই কারণে কিছু ইট সংগ্রহ করতে যায় শ্রমিকরা।’
