মিলনমেলায় বক্তারা
ইত্তেফাক রিপোর্ট
উত্তরা, ১৫ নম্বর সেক্টর, দিয়াবাড়ীর ‘আরপিসিটি’ এলাকায় বসেছিল স্নায়ুবিকাশ ঘাটতিসম্পন্ন সুবর্ণ শিশুদের মিলনমেলা। প্রবেশ মুখেই চোখে পড়ে সারি সারি লাল-সবুজ আর নীল-হলুদের পতাকা দিয়ে সাজানো সবুজ মাঠ। যেখানে একদিকে চলছিল শিশুদের বিভিন্ন খেলার প্রতিযোগিতা, অন্যদিকে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। পাশাপাশি চলছিল খানাপিনা। সুইড বাংলাদেশের ৫ শতাধিক স্কুল থেকে আসা ৩ হাজারের অধিক বিশেষ শিশু ও তাদের তত্ত্বাবধায়কদের উপস্থিতিতে চলে এই বার্ষিক আনন্দ সমাবেশ।
গতকাল বুধবার সকালেই রাজধানীসহ অন্যান্য জেলা থেকে আসতে থাকে শিশুদের দল। বিশেষ শিশুদের এই আনন্দ সমাবেশের আয়োজন করে ‘আহাম্মেদ আব্দুর রহমান ট্রাস্ট’। সুবর্ণ নাগরিক আহমেদ আব্দুর রহমান ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ট্রাস্টের চেয়ারম্যান ফরিদ আহমেদ ভূঁইয়া। বিশেষ অতিথি ছিলেন সুইট বাংলাদেশের সভাপতি জওয়াহেরুল ইসলাম মামুন ও ডা. তাসকেরা খানম।
সমাবেশের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, সরকার এই শিশুদের ‘গোল্ডেন সিটিজেন’ বা সুবর্ণ নাগরিক হিসেবে আখ্যায়িত করায় সমাবেশে তাদের প্রত্যেককে ‘গোল্ড মেডেল’ পরিয়ে বরণ করা হয়। আনন্দ সমাবেশে অংশ নেওয়া প্রতিটি শিশুর পরনে ছিল সবুজ রঙের টিশার্ট ও গলায় গোল্ডমেডেল।
স্নায়ুবিকাশ ঘাটতিসম্পন্ন শিশু তাসনীম তাহেরের মা বলেন, সে এখানে এসে খুব খুশি, যে কারণে তাকে স্থির রাখা যাচ্ছে না। অন্য এক জন বিশেষ শিশু বলেন, আমার নাম রাকা, সে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান দেখে মুগ্ধ এবং নিজেও নাচার চেষ্টা করছে। এসব শিশুর মধ্যে আছে নৃত্যশিল্পী, অভিনয় শিল্পী এমন কি তারা খেলাধুলাতেও দক্ষ।
সমাবেশে আসা এক জন শিক্ষক বলেন, আমি দীর্ঘ ১০ বছর যাবত্ এই শিশুদের নিয়ে কাজ করছি। এই শিশুরা সবকিছুই করতে পারে। তাদের বোঝার মতো বোধ-বুদ্ধি কেবল আমাদের মতো সাধারণ মানুষের নেই। এই শিশুরা তার খেয়াল-খুশিমতো কাজ করে। অন্যের কথায় তারা চালিত খুব কম হয়। পৃথিবীর জটিলতা আর কূটিলতা তাদের স্পর্শ করতে পারে না। এরা অনেকে বয়সে বড়ো হয়ে গেলেও এদের স্বভাব-চিন্তা শিশুদের মতোই থাকে।
অন্য এক জন অভিভাবক রাহেলা বেগম বলেন, আমার বাচ্চা অনেক বেশি চঞ্চল ছিল, এখন সে স্থির হয়েছে। ও রং করতে পছন্দ করে। আর যাকে সে পছন্দ করে না, তাকে সে বিরক্ত হয়ে এড়িয়ে চলে। আর কাউকে পছন্দ হলে সে খুব খুশি হয়, হাসে, তার কাজ দেখানোর চেষ্টা করে।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, আমাদের দেশে অনেক কোটিপতি মানুষ আছেন, কিন্তু এসব মহত্ কাজে তাদের অর্থ ব্যয় করার মতো মানসিকতা নেই। আমাদের দেশে এই সুবর্ণ নাগরিকদের পেছনে রেখে এসডিজি অর্জন সম্ভব নয়, ফলে স্নায়ুবিকাশ ঘাটতি শিশুদের এগিয়ে নিতে সমাজের বিত্তবান ও হূদয়বান ব্যক্তিদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে উপস্থাপনা করেন সুলতানা মেহজাবিন টুসি ও সোহেল রানা।
