লোকবল-সংকট, নেই অর্থ বরাদ্দ

আপডেট : ২৫ ডিসেম্বর ২০১৯, ২১:৫৮

নীলফামারীর হাঁস প্রজনন খামার

মো. আমিরুজ্জামান, সৈয়দপুর (নীলফামারী) সংবাদদাতা

২০১৩ সালে নীলফামারী শহরের মেলারডাঙ্গায় আট বিঘা জমির ওপর স্থাপিত হয় আঞ্চলিক হাঁস প্রজনন খামার। মা হাঁস থেকে উত্পাদিত ডিমের বাচ্চা ফুটানো ও বাজারজাতকরণের লক্ষ্যে এটি গড়ে তোলা হয়। একসময় খামারটিতে সাড়ে ২৮ হাজার ডিম ফুটানো হতো। লোকবল ও সরকারি বরাদ্দ না থাকায় এখন মাত্র ৫০০টি ডিম ফুটানো হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আবার সচল করা গেলে কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি পোলট্রি শিল্পের উন্নয়নে খামারটি বড়ো অবদান রাখতে পারত ।

সরেজমিনে দেখা গেছে, খামারে বিশাল আকৃতির সাতটি শেড রয়েছে। রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ছয়টি শেডই পরিত্যক্ত অবস্থায় আছে। শেডে রাখা হয়েছে অপ্রয়োজনীয় মালপত্র। কয়েকটি শেডে বাণিজ্যমেলার ব্যানার-ফেস্টুন ও কাঠের টুকরো রাখা হয়েছে। খামারজুড়ে করা হয়েছে সবজি বাগান। হ্যাচারি অ্যাটেনডেন্ট নূর আলম জানান, ২০১৮ সালের ৩০ জুন প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ধস নামে খামারটিতে। দৈনিক সাড়ে ২৮ হাজার ডিম ফুটানোর ক্ষমতা থাকলেও এখন মাত্র ৫০০টি ডিম ফুটানো হচ্ছে। খামারের অধিকাংশ শেড ব্যবহার অনুপযোগী হওয়ায় এ অঞ্চলের খামারিদের চাহিদা অনুযায়ী বাচ্চা সরবরাহ সম্ভব হচ্ছে না। খামারে বাচ্চা নিতে আসা সৈয়দপুর উপজেলার কাশিরাম বেলপুকুর ইউনিয়নের জেম চৌধুরী বলেন,‘খামারটি এখন নামসর্বস্ব একটি প্রতিষ্ঠান হয়ে দাঁড়িয়েছে। অধিকাংশ সময় আমাদের বাচ্চা দিতে পারে না। এই অঞ্চলের পোলট্রি শিল্পের উন্নয়নে তেমন কোনো কাজে আসছে না এটি।’

একই উপজেলার হাঁস চাষি মশিউর রহমান বলেন, ‘সরকারি এই প্রতিষ্ঠানে লোকবল সংকট একটি বড়ো সমস্যা। তারপরও নেই কোনো বরাদ্দ। খামারটি সচল করা গেলে পুষ্টি চাহিদা পূরণে বড়ো ধরনের ভূমিকা রাখতে পারতো।’ খামারের অফিস সহকারী গোলাম মোক্তাদি বলেন, খামার চালাতে নেই সরকারি বরাদ্দ। শুরুতে ১১ জন স্টাফ দিয়ে খামারটি চলত। প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর বেতনভাতা বন্ধ হওয়ায় চার জন চাকরি ছেড়ে চলে গেছেন। এখন সাত জন দিয়ে কোনোরকমে চালানো হচ্ছে। তারপরও দীর্ঘদিন ধরে তাদের বেতনভাতা বন্ধ রয়েছে। শুধু চাকরি সরকারিকরণের আশায় তারা এখানে পড়ে আছেন।’