বানারীপাড়ায় বিলুপ্তপ্রায় গ্রামবাংলার ঐতিহ্য খেজুররস

আপডেট : ২৫ ডিসেম্বর ২০১৯, ২২:০০

এস মিজানুল ইসলাম, বানারীপাড়া (বরিশাল) সংবাদদাতা

গ্রামবাংলার ঐতিহ্যের খেজুররস এখন আর তেমন পাওয়া যাচ্ছে না। সময়ের বিবর্তনে প্রায় বিলুপ্তির পথে যেন খেজুরগাছ। কয়েক বছর আগেও শীতের মৌসুমে গাছিরা গ্রামের পর গ্রাম ঘুরে রস আহরণের জন্য অগণিত খেজুরগাছ চেছে পাইল করতেন। গাছে হাঁড়ি উঠলেই শুরু হতো পিঠা, গুড় আর পায়েস খাওয়ার উত্সব। পল্লিবাংলার পল্লিশিল্পী আব্দুল আলীমের “বধূর বাড়ি মধুপুর ...মোদের মিলন বাঁশির সুর” এ গান যারা শুনেছেন নিশ্চয়ই খেজুর গুড়ের বর্ণনা কত সুন্দরভাবে দরাজকণ্ঠে শিল্পী গেয়েছেন তা অনুধাবন করতে পারবেন। রাতের প্রথম প্রহরের খেজুররসের শিরনি শীতের মধ্যে চাদর-কাঁথা মুড়িয়ে অনেকে একত্রে মিলে খাওয়ার স্বাদ যারা পেয়েছেন, তারা নিশ্চয়ই ফিরে যাবেন ছোটোবেলার স্মৃতিমন্থনে। সেই  যে আনন্দ শিশু, কিশোর, যুবক ও বৃদ্ধরা মিলে গাছেরতলায় জড়ো হতেন জ্যোত্স্নারাতে। সেই সব দৃশ্য এখন তেমন একটা চোখে পড়ে না বললেই চলে।

অনেক পরিবার তাদের জীবিকানির্বাহ করত খেজুররস বিক্রির মাধ্যমে। এ সময় দেখা যেত কাঁচা রাস্তার দুই পাশে সারি সারি খেজুরগাছ। বিকাল হলেই দেখা যেত গাছিদের খেজুরগাছের মাথায় রস সংগ্রহের জন্য হাঁড়ি রাখার দৃশ্য।

খেজুরগাছের সংখ্যা কমে যাওয়ার পেছনে বিবিধ কারণ রয়েছে। সৈয়দকাঠী গ্রামের সত্তরোর্ধ্ব গাছিয়া আ. হক জানান, যখন পালাক্রমে গাছ কাটতাম তখন ৪০-৫০ হাঁড়ি খেজুররস বিক্রি করতাম, এখন ইটভাটাদের লইগগা সে রকম গাছও নেই আর রসও নেই। 

পরিবেশ নিয়ে কাজ করেন মো. খালেদ হোসেন, তিনি জানান, ইটভাটায় বেশির ভাগ খেজুরগাছ দিয়ে ইট পোড়ান হয়। কম খরচে গৃহ নির্মাণের জন্য খেজুরগাছ ব্যবহার করায় গাছের সংখ্যা কমেছে। যার ফলে এখন আর দেখা মেলে না শীতের সকালে কুয়াশা ভেদ করে পাড়ার বাজারে, গলির মোড়ে গাছিদের রসের হাঁড়ির পসরা। দেখা যায় না রস বোঝাই হাঁড়ি কাঁধে নিয়ে বাড়ি বাড়ি ফেরি করার সেই সব দৃশ্য।