ঢাকায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) অতিথি ভবনের জন্য জমিসহ ইমারত ক্রয়ে সরকারি ক্রয় নীতিমালা লঙ্ঘন ও গুরুতর জালিয়াতির অভিযোগ তদন্তে হাইকোর্টের নির্দেশনা আড়াই বছরেও বাস্তবায়িত হয়নি। দুদকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেছেন, হাইকোর্টের নির্দেশে বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত কবে শেষ হবে তা সুনির্দিষ্ট করে বলা মুশকিল।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালে তত্কালীন প্রশাসনের বিরুদ্ধে ঢাকায় রাবির অতিথি ভবনের জন্য জমিসহ ইমারত কেনায় সরকারি ক্রয় নীতিমালা লঙ্ঘন করে গুরুতর জালিয়াতির অভিযোগ ওঠে। এক্ষেত্রে দরপত্র দাখিলকারী প্রতিষ্ঠানের দরপত্র মূল্যায়নের পর বাতিল এবং পুনরায় দরপত্র আহ্বান ছাড়াই ব্যক্তির সঙ্গে ১৩ কোটি ২৫ লাখ টাকার বেচা-কেনায় (দলিল এবং চুক্তি সম্পাদন) অনিয়ম ও দুর্নীতিসহ নানা অসঙ্গতির মাধ্যমে অন্তত সাড়ে ৭ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে।
এ বিষয়ে ২০১৭ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি দৈনিক ইত্তেফাকের শেষের পাতায় ‘জমি কেনায় রাবিতে গুরুতর জালিয়াতি’ শীর্ষক শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এরপর আরো কয়েকটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় এ বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে রাবির সাবেক শিক্ষার্থী আসাদুজ্জামান বিষয়টি নিয়ে ২০১৭ সালের ১২ মার্চ হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করেন। শুনানি শেষে হাইকোর্টের বিচারপতি নাইমা হায়দার ও বিচারপতি আবু তাহের মো. সাইফুর রহমান ২০১৭ সালের ১৪ মার্চ রুল জারি করে চার সপ্তাহের মধ্যে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান, স্বরাষ্ট্র সচিব, পুলিশের আইজি, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের তত্কালীন ভিসি, প্রো-ভিসি, রেজিস্ট্রার ও ট্রেজারারকে জবাব দাখিলের নির্দেশ দেন।
জানা যায়, জমি ক্রয়ে জালিয়াতির অভিযোগ তদন্তে ২০১৭ সালের ২৮ মে ঢাকা থেকে দুদকের একজন প্রতিনিধি জমি ক্রয় কমিটির আহ্বায়ক ও সাবেক প্রো-ভিসি, সাবেক ভিসি, রেজিস্ট্রার, ট্রেজারার ও বর্তমান ভিসিসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেন এবং জমি ক্রয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত যাবতীয় নথিপত্র সংগ্রহ করেন। এ ব্যাপারে দুদকের ঢাকাস্থ প্রধান কার্যালয়ের উপপরিচালক জাহাঙ্গীর হোসেন বুধবার বিকালে মোবাইলে ইত্তেফাককে বলেন, ‘হাইকোর্টের নির্দেশনার পর বিষয়টি নিয়ে দুদক কাজ করছে। বর্তমানে এটি অনুসন্ধান পর্যায়ে রয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তা সরেজমিনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে গিয়েছেন। তদন্ত শেষ হলে হয় মামলা হবে, নয়তো পরিসমাপ্তি হবে। তবে তদন্ত কতদিনে শেষ হতে পারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটা সুনির্দিষ্ট করে বলা মুশকিল। তদন্ত কর্মকর্তাকে সময় দেওয়া আছে। সে অনুযায়ী তিনি তদন্ত করছেন। তদন্ত সম্পন্ন হলে তিনি কর্তৃপক্ষকে প্রতিবেদন দিবেন।’ চার সপ্তাহের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশনার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আসলে বিষয়টি ঐরকম বিষয় না। কমিশনে অনেক কাজ। এখানে যখন আসছে, তখন কমিশন কমিশনের মতো করেই তদন্ত সম্পন্ন করবে। এরপর সংশ্লিষ্ট কোর্টে একটি প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।’
এ বিষয়ে রাবির সাবেক প্রো-ভিসি অধ্যাপক ড. চৌধুরী সারওয়ার জাহান বলেন, ‘আমরা দুদককে যাবতীয় তথ্য দিয়েছি। তারা এখন তদন্ত করে দেখবে, অনিয়ম হয়েছে কি হয়নি।
