রাজধানীতে মাইজভাণ্ডারীর অনুসারী নিজ বাসায় খুন

আপডেট : ২৫ ডিসেম্বর ২০১৯, ২২:০৫

রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানাধীন শান্তিনিকেতন এলাকায় মাইজভাণ্ডারীর এক অনুসারীকে নিজ বাসায় কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। নিহত ঐ ব্যক্তির নাম তোবারক হোসেন (৭২)। গতকাল ভোরে শান্তিনিকেতনের ১৭৮ নম্বর বাসার চারতলার ফ্ল্যাটে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ বলছে, তোবারক ঐ বাসার নিজ ফ্ল্যাটে একাই থাকতেন। তিনি চট্টগ্রামের শফি মাইজভাণ্ডারীর অনুসারী ছিলেন। মতাদর্শগত পার্থক্য কিংবা অর্থ লুটের জন্য তাকে হত্যা করা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। খুনের ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বাসার গৃহকর্মী, দারোয়ান, পালক পুত্রসহ ছয় জনকে আটক করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, ভোরে মুখোশ পরিহিত অজ্ঞাত দুই ব্যক্তি তোবারকের ফ্ল্যাটের ডোরবেল বাজায়। এ সময় তার এক কর্মচারী দরজা খুলে দেন। দুর্বৃত্তরা ঘরে ঢুকে তোবারককে                 এলোপাতাড়ি কুপিয়ে চলে যায়। পরে তার ঐ কর্মচারী পুলিশকে ফোন করলে ঘটনাস্থলে পুলিশ আসে। গুরুতর আহত অবস্থায় তোবারককে স্থানীয় মহাখালী মেট্রোপলিটন হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিত্সক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

পুলিশের তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল জোনের সহকারী কমিশনার এম এম মঈনুল ইসলাম জানান, ঘটনার সময় তোবারকের কর্মচারীর কী ভূমিকা ছিল তা এখনো স্পষ্ট নয়। তাকেসহ আরো কয়েক জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ঐ বাসা থেকে মূল্যবান কিছু জিনিসপত্র খোয়া গেছে কি না, তাও জানা যায়নি। তোবারক দীর্ঘদিন ধরে পরিবার থেকে আলাদা হয়ে নিকেতনের বাসায় একাই থাকতেন। তিন মেয়েকে নিয়ে মহাখালী এলাকায় আলাদা থাকেন তার স্ত্রী। আর এক ছেলে থাকেন দেশের বাইরে। নিহতের গ্রামের বাড়ি কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ থানার চরপাড়ে। মহাখালীতে মামা প্লাজা নামে একটি ভবনের মালিক ছিলেন তোবারক। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন।

তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কাজী শরিফুল ইসলাম জানান, নিহত তোবারকের ফ্ল্যাটে সাইফুল ইসলাম ও হাসান নামে দুজন কর্মচারী থাকতেন। মঙ্গলবার রাতেও তারা ছিলেন। ঘটনার পর সাইফুল থানায় ফোন করেন এবং তিনি ফ্ল্যাটেই ছিলেন। অপর কর্মচারী হাসান ঘটনার পর থেকেই পলাতক রয়েছে। আলমারি ভাঙা পাওয়া গেছে। সেখান থেকে টাকা লুট করা হয়েছে। তিনি চট্টগ্রামের মাইজভাণ্ডারীর ভক্ত থাকায় তার বাসায় মাঝেমধ্যেই মাইজভাণ্ডারীর মুরিদেরা আসতেন। সেখানে ওরস পালন করা হতো।

পুলিশের তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, মতাদর্শগত কোনো পার্থক্যের কারণে তাকে হত্যা করা হতে পারে। আবার তার বাসার আলমারিও ভাঙা পাওয়া গেছে। এতে ধারণা করা হচ্ছে, অর্থ লুট করতেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে। তবে সব বিষয় বিবেচনায় নিয়েই ঘটনার তদন্ত কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

উল্লেখ্য, ধর্মীয় মতাদর্শকে কেন্দ্র করে এর আগেও রাজধানীতে খুনের পৃথক তিনটি ঘটনা ঘটেছে। ২০১৩ সালের ২১ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় রাজধানীর গোপীবাগের আর কে মিশন রোডে ৬৪/৬ নম্বর আয়নাবাড়ির দোতলায় কথিত ইমাম মাহাদির প্রধান সেনাপতি পরিচয় দানকারী লুত্ফর রহমান ফারুক (৬০), তার ছেলে মনির হোসেনসহ (৩০) ছয় জনকে গলা কেটে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। ২০১৫ সালের ২৭ আগস্ট রাতে পূর্ব রাজাবাজারের বাসায় ঢুকে ইসলামি অনুষ্ঠানের উপস্থাপক ও হাইকোর্ট মাজার মসজিদের খতিব নূরুল ইসলাম ফারুকীকে একই কায়দায় গলা কেটে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। ঐ বছরের ৬ অক্টোবর রাতে মধ্য বাড্ডার বাসায় ঢুকে পিডিবির সাবেক চেয়ারম্যান ও পির খিজির খানকে তার খানকা শরিফে গলা কেটে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এসব খুনের ঘটনায় দায়ের করা মামলার এখনো কোনো কূলকিনারা হয়নি।