চট্টগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ চট্টগ্রাম-৮ সংসদীয় আসনের উপ-নির্বাচনে প্রধান দুই দলের প্রার্থীদ্বয় পুরো এলাকা চষে বেড়াচ্ছেন। চট্টগ্রাম জেলার বোয়ালখালী উপজেলা এবং নগরীর চান্দগাঁও থানা ও পাঁচলাইশ ও বায়েজিদ থানার অংশ বিশেষ নিয়ে চট্টগ্রাম-৮ নির্বাচনী এলাকা। ঐ আসনের ভোটারের ক্ষেত্রে বোয়ালখালীর চেয়ে নগরীতে ভোটার বেশি। তাই মহানগরীর তিনটি থানার ভোটার বেশি হওয়ায় ভোটের ফলাফলের ক্ষেত্রেও ব্যাপক ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকার ভোটারদের অভিমত। প্রায় ৪ লক্ষাধিক ভোটারের মধ্যে ১ লাখের কিছু বেশি ভোটার বোয়ালখালী এলাকায়। বাকি ভোটার নগরীর এই তিনটি থানা এলাকায়।
চট্টগ্রাম-৮ আসনের পরপর তিনবার নির্বাচিত জাসদের একাংশের কার্যনির্বাহী সভাপতি মঈনুদ্দিন খান বাদলের মৃত্যুতে ঐ আসনটি শূন্য হয়। তিনি ১৪ দলের প্রার্থী হিসেবে নৌকা প্রাতীক নিয়ে গত ২০০৮ সাল থেকে এই আসনের সংসদ সদস্য। নির্বাচনী এলাকার বিভিন্ন উন্নয়নের প্রতিশ্রুতির কথা প্রার্থীগণ বলে বেড়ালেও ঐ আসনের প্রধান ইস্যু হচ্ছে কালুরঘাট সেতু নির্মাণ। অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ রেল ও যানবাহন চলাচলের কাজে এটি ব্যবহার হয়ে আসছে। কর্ণফুলী নদীর ওপর প্রথম এই সেতুর স্থলে নতুন একটি সেতু নির্মাণের দাবি দীর্ঘদিনের হলেও তা বাস্তবায়ন প্রতিশ্রুতির মধ্যে রয়ে গেছে। প্রতিবার ঐ নির্বাচনী এলাকায় ভোট চাওয়ার ক্ষেত্রে কালুরঘাট সেতু নির্মাণের ইস্যুটি সামনে আসে। ঐ আসনের প্রয়াত সংসদ সদস্য মঈনুদ্দিন খান বাদল মৃত্যুর কয়েক মাস পূর্বে সংবাদ সম্মেলনে ঘোষণা দিয়েছিলেন ডিসেম্বরের মধ্যে সেতু নির্মাণের কার্যকরি পদক্ষেপ নিতে না পারলে তিনি সংসদ সদস্য থেকে পদত্যাগ করবেন।
আসন্ন নির্বাচনে উক্ত আসন থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হয়েছেন দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোসলেম উদ্দিন আহমেদ। বিএনপির প্রার্থী হয়েছেন দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু সুফিয়ান। নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী ইতিপূর্বে পার্শ্ববর্তী পটিয়া আসন থেকে প্রার্থী হলেও জয়লাভ করেননি। বিএনপি প্রার্থী আবু সুফিয়ান গত ২০১৮ সালের নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৮ আসন থেকে প্রার্থী ছিলেন।
আগামী ১৩ জানুয়ারি চট্টগ্রাম-৮ আসনের নির্বাচনকে সামনে রেখে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর মূল প্রচারণা হচ্ছে চলমান উন্নয়ন প্রকল্প এগিয়ে নিতে এবং দেশের উন্নয়নে নৌকা প্রতীকে ভোট দিন। অপরদিকে বিএনপির প্রার্থীর প্রচারণার মূল দাবি হচ্ছে অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন।
