সবাই না চাইলে ইভিএমে ভোট নয় :সিইসি

আপডেট : ২৫ ডিসেম্বর ২০১৯, ২২:১৪

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা বলেছেন, ‘যদি সবাই বলেন, ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) দিয়ে ভালোভাবে নির্বাচন পরিচালনা করা যায় না, তাহলে করব না। জাতীয় নির্বাচনসহ বিভিন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার করে আমরা সুফল পেয়েছি, তাই ধরে রেখেছি।’ গতকাল বুধবার আগারগাঁওয়ে নির্বাচনি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে ঢাকা    উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের রিটার্নিং ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের নিয়ে আয়োজিত কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তেব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ঢাকার দুই সিটি নির্বাচন সামনে রেখে এই প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়। এতে সিইসি ও চার কমিশনার বক্তব্য রাখেন।

বিএনপিসহ বেশির ভাগ রাজনৈতিক দল ইভিএম ব্যবহারের বিরোধিতা করে আসছে। তবে আওয়ামী লীগসহ বেশ কিছু রাজনৈতিক দল ইভিএমে ভোটের পক্ষে রয়েছে। এই পক্ষ-বিপক্ষ অবস্থানের মাঝে গত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনসহ সিটি করপোরেশন ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার করে আসছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিইসি বলেন, ‘এই যে একটা অবস্থানে আপনারা (ইসির কর্মকর্তা-কর্মচারী) ইভিএমকে নিয়ে এসেছেন, এটা নিয়ে কি আপনাদের কম ঝামেলার মধ্যে পড়তে হয়েছে? কত লোকের আঁকাবাঁকা, তেড়া কথা শুনতে হয়েছে। আরো শুনতে হবে। আরো দর্শনভিত্তিক কথা শুনতে হবে। কবিতা আবৃত্তি করে কেহ, সাহিত্য রচনা করবে কেহ, উপন্যাস রচনা করবে কেহ, এখানকার নানা রকমের আঙ্গিক করবেন কেহ, পুস্তক রচনা করবেন কেহ—এরা আছে, এরা থাকবে। এগুলোর দিকে কান দিলে চলবে না। নানা রকমের আলোচনা-সমালোচনার মধ্য দিয়ে নির্বাচন পরিচালনা করেন আপনারা। যারা নির্বাচিত হন, তাদের স্বস্তির মধ্যে রাখেন। এটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।’

অনুষ্ঠানে সিইসি বলেন, ‘অনেক প্রতিকূলতার মধ্যে ইভিএমে টিকে আছি। আপনারা (কর্মকর্তারা) অনেকে ইভিএমে নির্বাচন করেছেন। ইভিএমে নির্বাচন পরিচালনায় কোনো অসুবিধা দেখিনি। এর মাধ্যমে ভোটাধিকার প্র?য়োগ সফলভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়। ইভিএম যারা মাঠে-ময়দানে দেখেন, প্রয়োগ করবেন। তাদের কাছে সন্দেহ থাকলে আমাদের বলবেন। যদি সবাই বলেন, এটা দিয়ে ভালোভাবে নির্বাচন পরিচালনা করা যায় না, তাহলে করব না।’

ইভিএম ব্যবহার প্রসঙ্গে মাহবুব তালুকদার বলেন, ‘ঢাকার উভয় সিটি করপোরেশন নির্বাচনে এবারই সার্বিকভাবে ইভিএম ব্যবহার করা হচ্ছে। ইভিএম নিয়ে অংশীজনের অনেকের মধ্যে দ্বিধাদ্বন্দ্ব রয়েছে। নির্বাচন কমিশনের জন্য এটি একটি অগ্নিপরীক্ষা। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আমরা যদি সফলকাম হতে পারি, তাহলে পরবর্তী সময়ে সর্বক্ষেত্রে ইভিএম ব্যবহার করা সম্ভব হবে। ইভিএমে ভোটগ্রহণ প্রশ্নবিদ্ধ হলে নির্বাচনও প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়বে।’

রিটার্নিং ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের উদ্দেশে সিইসি বলেন, নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক, প্রতিযোগিতামূলক ও অংশগ্রহণমূলক হবে। মনে রাখতে হবে, প্রত্যেক প্রার্থী কার কী ধর্ম, কার কী বর্ণ, কার কী রং, কী রাজনৈতিক ব্যাকগ্রাউন্ড, সেটি নির্বাচনে যারা দায়িত্বে থাকবেন তাদের দেখার বিষয় নয়। প্রত্যেকের সঙ্গে সমান আচরণ করতে হবে। প্রত্যেকের কথা ধৈর্য ধরে শুনতে হবে। নীতিনির্ধারণী এলাকা ছাড়া সব দায়িত্ব আপনাদের ওপর অর্পিত রয়েছে। সেখানে ছন্দ, গদ্য, পদ্যের দরকার নেই। বাস্তব প্রেক্ষাপটে কী আছে, সেটা দেখতে হবে। অনেকে অনেক লালিত-পালিত কথা বলবে, কিন্তু আপনারা মাঠে থাকবেন। যা দেখবেন, সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবেন। সমস্যা হলে ব্যবস্থা নেবেন। নির্বাচনের অনেক পরিপত্র জারি হয়ে গেছে। সেখানে সব নির্দেশনা আছে।

তিনি বলেন, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচন সামনে রেখে আমি কোনো নিরাশার কথা শুনতে চাই না। এই নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার, সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও অন্যান্য সহায়ক কর্মকর্তাগণ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নির্বাচনি দায়িত্ব পালনে যে দক্ষতা ও পারদর্শিতা অর্জন করবেন, তা সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য অপরিহার্য।

বিশেষ অতিথি নির্বাচন কমিশনার মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, গ্রহণযোগ্য ও আইনানুগ নির্বাচন চায় ইসি। সবাইকে অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হবে। কোনো অনিয়ম যাতে না হয়, তা খেয়াল রাখতে হবে। নির্বাচন কমিশনার বেগম কবিতা খানম বলেন, এটি সক্ষমতার পরীক্ষা। নির্বাচন যেন প্রশ্নের ঊর্ধ্বে থাকে। নির্বাচন নিয়ে যেন কোনো প্রশ্ন না ওঠে, সেজন্য ইভিএমে ভোট হবে। ইভিএম নিয়ে যেন প্রশ্ন না ওঠে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। অনাগ্রহের জায়গাগুলো চিহ্নিত করতে হবে।

নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহাদত হোসেন চৌধুরী বলেন, ইভিএম পরিচালনায় প্রতি কেন্দ্রে দুজন করে সেনাবাহিনীর টেকনিশিয়ান নিয়োগ দেওয়া হবে। কর্মকর্তাদের ওপর নির্ভর করে কমিশনের ভাবমূর্তি। প্রার্থীরা যেন লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড পান, সেভাবে কাজ করতে হবে। নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচন চায় ইসি।

ইসির সিনিয়র সচিব মো. আলমগীরসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। আগামী ৩০ জানুয়ারি ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটির নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে।