ডিএনসিসি

১ বছর ধরে বন্ধ মৃত কর্মীর আর্থিক অনুদান

আপডেট : ২৬ ডিসেম্বর ২০১৯, ০০:২৮

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে (ডিএনসিসি) ১ বছর ধরে বন্ধ রয়েছে চাকরিরত অবস্থায় মৃত্যুবরণকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীর আর্থিক অনুদান। কোনো কর্মী মারা গেলে পরিবারকে ৮ লাখ টাকা আর্থিক অনুদান দেওয়ার বিধান থাকলেও তা পাচ্ছেন না তাদের পরিবার। যার কারণে অর্থ কষ্টে দিন কাটছে অনেকের। মৃত কর্মী পরিবারের সদস্যরা জানান, স্বজন মারা যাওয়ার পরে অনুদান পেতে তারা আবেদন করেছেন। কিন্তু ডিএনসিসি কর্তৃপক্ষ অনুদান দিচ্ছে না। এক বছরের বেশি সময় ধরে এই অনুদান দেওয়া বন্ধ রয়েছে। প্রাপ্য অনুদান না পাওয়ায় তাদের অর্থ কষ্টে জীবন যাপন করতে হচ্ছে।

জানা যায়, ২০১৬ সালের ২৭ জুন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে। এতে বলা হয়, সরকারি বেসামরিক প্রশাসনে চাকরিরত অবস্থায় কোনো কর্মচারী মারা গেলে তার পরিবারকে ৮ লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপন জারির পাঁচ মাস পরে ডিএনসিসির ১২ তম করপোরেশন সভায় ঐ অনুদান প্রদানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে এ সংক্রান্ত একটি অফিস আদেশ জারি করতেই আরো দুই মাস লাগে সংস্থাটির। ২০১৭ সালের ২৫ জানুয়ারি অফিস আদেশ জারি করা হয়।

ডিএনসিসির কর্মকর্তা কর্মচারীরা জানান, এ পর্যন্ত ১০ জন কর্মী এই অনুদান পেয়েছেন। ২০১৮ সালের আগস্টে ওয়ার্ড সচিব জাহাঙ্গীর কবিরকে সর্বশেষ এই অনুদানের টাকা দেওয়া হয়েছিল। এর পরে আরো অনেকে চাকরিরত অবস্থায় মারা গেলেও আর কাউকেই অনুদানের ঐ টাকা দেওয়া হয়নি।

মৃত কর্মীর এক স্বজন বলেন, শুনেছি কোনো ঝামেলার কারণে ৮ লাখ টাকা অনুদান দেওয়ার সিদ্ধান্ত বন্ধ রাখা হয়েছে। কিন্তু আগে যে ৫ লাখ টাকা অনুদান দেওয়া হতো আমরা এই টাকাও পাচ্ছি না। ডিএনসিসি শ্রমিক-কর্মচারী লীগের সহসভাপতি আব্দুল খালেক মজুমদার বলেন, মৃত কর্মীর পরিবারের সদস্যরা আবেদন করলেও অনুদান দেওয়া হচ্ছে না। অনেকের পরিবার ও স্বজনেরা অর্থ কষ্টে দিনযাপন করছেন।

এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করা সত্ত্বে ডিএনসিসির প্রশাসন শাখার এক কর্মকর্তা বলেন, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় প্রজ্ঞাপন জারি করলেও কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতনভাতা বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রয়োজন হয়। কিন্তু সেটি না করেই সরাসরি ডিএনসিসি বোর্ড সভায় এই অনুদান প্রদানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তিনি বলেন, অর্থ মন্ত্রণালয় অনুদান দেওয়ার বৈধতার বিষয়টি জানতে চেয়েছে। তাই পরবর্তী সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত এই অনুদান বন্ধ রাখা হয়েছে।