সাভারে গোলাপের বাণিজ্যিক চাষে স্বাবলম্বী অনেক চাষি

আপডেট : ২৬ ডিসেম্বর ২০১৯, ০০:৩৮

ফুল ভালবাসে না এমন মানুষ খুব কম পাওয়া যাবে। আর এই ভালোবাসা থেকেই মানুষ ফুলের বাগান তৈরি করে, কেউবা শখের বসে বাড়ির বেলকনি বা ছাদে ফুলের গাছ লাগান। আবার অনেকে বাণিজ্যিকভাবে ফুলের চাষ করেন। ঢাকার অদূরে সাভার উপজেলার বিরুলিয়া ইউনিয়নটি ‘গোলাপ গ্রাম’ হিসেবে খ্যাত। এ এলাকার ফুল চাষিরা বাণিজ্যিকভাবে গোলাপ ফুলের চাষ করছেন। শুধুমাত্র গোলাপ ফুল চাষ করে ভাগ্য বদলেছেন এ এলাকার অনেক মানুষ, হয়েছেন স্বাবলম্বী। অনেক বেকার যুবক গোলাপ চাষকে স্থায়ী পেশা হিসেবে গ্রহণ করে হয়েছেন স্বনির্ভর। বিভিন্ন দিবস ও অনুষ্ঠানে ফুলের ব্যাপক চাহিদা থাকায় ক্রমান্বয়ে গোলাপ ফুল চাষ বৃদ্ধি পাচ্ছে। সরকার থেকে ফুল চাষিদের প্রশিক্ষণ, কৃষি উপকরণ এবং সহায়তা প্রদান করা হলে গোলাপ ফুলের আবাদ বাণিজ্যিক বৃদ্ধিসহ এর বাজার আরো সম্প্রসারিত হবে বলে জানান ফুল চাষিরা।

কোনো ধরনের প্রশিক্ষণ ছাড়াই সাভারের ১৪টি গ্রামের দুই শতাধিক চাষি বাণিজ্যিক ভিত্তিতে ফুলের চাষ করছে। উপজেলার একমাত্র বিরুলিয়া ইউনিয়নের প্রায় ৩শ একর জমিতে গোলাপ চাষ করা হচ্ছে। এ ইউনিয়নের বাগ্নীবাড়ী, মইস্তাপাড়া, কাকাব, সামাইর, সাদুল্লাপুর, শ্যামপুর, আকরান সর্বত্রই গোলাপের বাগান চোখে পড়ে। এছাড়াও সাভারের ব্যাংক টাউন, ফুলবাড়িয়া, হেমায়েতপুর, সাধাপুর, চাকুলিয়া, জিরাবো, দোসাইদ, রাজাশন, আড়াপাড়া, ভাগলপুর, কাতলাপুর, ছায়াবীথি ও কলমা এলাকায় বাণিজ্যিকভাবে গোলাপসহ বিভিন্ন ফুলের চাষ হচ্ছে।  প্রতিদিন  সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ফুলপ্রেমীরা দূর-দুরান্ত থেকে ফুল দেখতে এবং কিনতে আসেন। এসব গ্রামের কৃষকরা প্রতিদিন ভোরে সাভার থেকে মিনিবাস এবং ট্রাকযোগে রাজধানীর শাহবাগে গোলাপ বিক্রি করতে যায়। এছাড়া দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ফুল ব্যবসায়ীরাও পাইকারি দরে এখান থেকে ফুল কিনে নিয়ে যান।

বিরুলিয়া ইউনিয়নের মইস্তাপাড়া ফুল মার্কেটে প্রতিদিন সন্ধ্যায় জমজমাট ফুলের হাট বসে।  দৈনিক এ হাটে কয়েক লাখ টাকার ফুল বিক্রি হয়। মাসিক বেতনের শ্রমিক ছাড়াও দৈনিক মজুরিতে শ্রমিক এনে ফুলের বাগানের পরিচর্যা করা হয়। নিয়মিত পানি সেচ, সার ও কীটনাশক প্রয়োগসহ বাগান পরিচর্যায় ব্যস্ত থাকেন এখানকার গোলাপ চাষীরা।

গোলাপ চাষের পাশাপাশি বাগানের পাশেই ফুল বিক্রির জন্য দোকান সাজিয়ে বসেছেন চাষিরা। গোলাপ গ্রামে ঘুরতে আসা দর্শনার্থীরা ফুল দর্শনের পাশাপাশি এসব দোকান থেকে ফুল কেনেন। এসব দোকানে প্রতিটি গোলাপ বিক্রি হচ্ছে ৬ টাকায়, গ্লাডিওলাস ১৫ টাকা, জারবেরা ২০ টাকা এবং বিভিন্ন ফুলের সমন্বয়ে তৈরি ফুলের পাগড়ি ৮০ টাকায় বিক্রি হয়।

গোলাপ চাষিরা জানান, নিয়মিত পরিচর্যা ছাড়া এ ব্যবসায় লাভ করা সম্ভব নয়। শুক্রবার, নববর্ষ, ভালোবাসা দিবস, বসন্তবরণ, একুশে ফেব্রুয়ারিসহ বিভিন্ন দিনে ফুলের চাহিদা বেশি থাকায় দামও বেশি থাকে। একবার গোলাপের চারা রোপন করলে ৫/৭ বছর গোলাপ বাগানের স্থায়ীত্ব থাকে। বড়ো গোলাপ মেরিন্ডা, ছোটো সাইজের চাম্পা গোলাপ, গন্ধ বেশি পাপা মিলনে আর লিংকন গোলাপ দীর্ঘদিন স্থায়ী হয়। এছাড়াও সাদা, গোলাপী, বেগুনি, কমলা, লাল, নীল ও হলুদ রঙের গোলাপ চাষের পাশাপাশি এ এলাকায় জারবেরা ও রজনীগন্ধা ফুলের ব্যাপক চাষ হচ্ছে। বছরে প্রতি একর জমি থেকে আড়াই থেকে তিন লাখ টাকা আয় হয়।

বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরে গোলাপচাষি আব্দুল আজিজ বলেন, ভেজাল কীটনাশকে বাজার সয়লাব হয়ে গেছে। কারণ আগে যে পরিমাণ সার প্রয়োগ করে যত ফুল পাওয়া যেত তার কয়েক গুণ বেশি সার প্রয়োগেও সেই ফসল পাওয়া যাচ্ছে না। ফুল বিক্রির জন্য সাভারে স্থায়ীভাবে কোনো বাজার সৃষ্টি না হওয়ায় অনেক সময় উত্পাদিত ফুল নষ্ট হয়ে কৃষকদের লোকসানের মুখে পড়তে হচ্ছে।