দোহার-নবাবগঞ্জ সাভারসহ বিভিন্ন স্থানে বড়দিন পালিত

আপডেট : ২৬ ডিসেম্বর ২০১৯, ০০:৩৮

খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড়ো ধর্মীয় উত্সব শুভ বড়দিন গতকাল বুধবার ঢাকার দোহার-নবাবগঞ্জ, সাভার, মানিকগঞ্জের শিবালয়, মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানসহ বিভিন্ন স্থানে শান্তিপূর্ণভাবে পালিত হয়েছে। দিনটি উপলক্ষ্যে গির্জায় বিশেষ প্রার্থনা ছাড়াও নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

দোহার-নবাবগঞ্জ (ঢাকা) সংবাদদাতা জানান, ঢাকার দোহার ও নবাবগঞ্জ উপজেলায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের শুভ বড়দিন পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষ্যে গতকাল বুধবার সকাল ৮টা থেকে গির্জায় গির্জায় নারী-পুরুষ শিশুসহ সব বয়সের মানুষ  হাজির হয়ে প্রভু যিশুর কাছে প্রার্থনা করেন। সকাল ১০টা পর্যন্ত তাদের খ্রিষ্টযোগ চলে। এ সময় যিশুর কল্যাণের বাণী নিয়ে আলোচনা হয়।

বড়দিনের উত্সবকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার রাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা, ঢাকা-১ আসনের সংসদ সদস্য সালমান এফ রহমানের পক্ষ থেকে এমপির প্রতিনিধি ইফতেখার আহমেদ হূদয় ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সালাউদ্দীন মনজু দুই উপজেলার ছয়টি গির্জায় কেক পাঠিয়ে বড়দিনের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

বক্সনগর খ্রিষ্টান পল্লির সভাপতি রিচার্ড মুকুল গমেজ বলেন, ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে আমাদের বড়দিন পালিত হয়েছে। হিন্দু, বৌদ্ধ, মুসলিমসহ সব ধর্মের মানুষের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে প্রতি বছর উত্সবটি পালিত হয়ে থাকে। হাসনাবাদ জপমালা রাণীর গির্জার ফাদার ম্যাক্সওয়েল বলেন, ‘দোহার, নবাবগঞ্জ ও মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার প্রায় ৩ হাজার খ্রিষ্টান পরিবার শান্তিপূর্ণ পরিবেশে বড়দিন পালন করেছে। প্রতিটি উপাসনালয়ে প্রভু যিশুর কাছে দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনা করে প্রার্থনা করা হয়।’

সাভার থেকে তুহিন খান জানান, সাভারে বিপুল উত্সাহ উদ্দীপনায় পালিত হয়েছে খ্রিষ্ট ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড়ো ধর্মীয় উত্সব বড়দিন। দিনটি উপলক্ষ্যে মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১২টা ১ মিনিটে সাভারের সব গির্জায় কেক কেটে দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনায় ও ঈশ্বরের নৈকট্য লাভের আশায় বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হয়। গতকাল সকাল হতে সাভারের সবচেয়ে বড়ো ধরেন্ডা সেন্ট যোশেফ গির্জায় শত শত খ্রিষ্টান ধর্মীয় নারী-পুরুষ সমবেত হয়ে বিশেষ প্রার্থনায় অংশ নেন। যিশু খ্রিষ্টের জন্মদিন ও বড়দিন উপলক্ষ্যে সকালে চার্চে এসে খ্রিষ্ট ধর্মাবলম্বীরা উপাসনা করেন। এসময় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান, সাভার উপজেলা চেয়ারম্যান মঞ্জুরুল আলম রাজীব, সাভার পৌর মেয়র আব্দুল গণিসহ খ্রিষ্টান কমিউনিটির নেতা প্রভাত ডি রোজারিও, জ্যোতি গমেজ, মার্সেল পেরেরা, রঞ্জন ফ্রান্সিস রোজারিও, মাইকেল গমেজ, বিলাস বি গমেজ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া সদর ইউনিয়নের ধরেন্ডা এলাকায়  খ্রিষ্টান পল্লিতে উত্সবমুখর পরিবেশে খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীরা দিনটি পালন করেন। ধরেন্ডা গির্জার ফাদার ড. আলবার্ট রোজারিও যিশু খ্রিষ্টের শান্তির অমিয় বাণী পাঠ ও ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান সম্পন্ন করেন। এরপর মৃত ব্যক্তির সমাধিতে তাদের আত্মার শান্তি কামনা করে মোমবাতি ও বিভিন্ন ফুল দিয়ে সজ্জিত করেন স্বজনরা। সাভার পৌর এলাকার শিমুলতলা গির্জা, আনন্দপুর গির্জা, কমলাপুর গির্জা, দেওগাঁও গির্জাসহ বিভিন্ন গির্জায় শান্তিপূর্ণভাবে দিনটি পালিত হয়েছে।

শিবালয় (মানিকগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান, বড়দিন উপলক্ষ্যে গতকাল বুধবার শিবালয় উপজেলার উথলী ব্যাপ্টিষ্ট চার্চ ও সাধবী এঞ্জেলা মেমোরিয়াল স্কুলের উদ্যোগে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এর মধ্যে খ্রিষ্টমাস ট্রি সাজানো, কেক কাটা, উপহার সামগ্রী প্রদান, সংগীতানুষ্ঠান ও বিশেষ প্রার্থনা ছিল অন্যতম। 

সিরাজদিখান (মুন্সীগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান, নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার শুলপুর খ্রিষ্টান পল্লিতে সাধু যোশেফ গির্জায় বড়দিন উদযাপন করা হয়েছে। ১২টা ১ মিনিটে বড়দিনের প্রার্থনা শুরু হয়। এর আগে রাত সাড়ে ১১টায় কেক কাটেন সাধু যোশেফ গির্জার ফাদার ফ্রান্সিস ডিকস্টার। দিনটিকে কেন্দ্র করে গির্জা ও আশপাশের বাড়িগুলো আলোকসজ্জিত করা হয়। গির্জার ভেতরে কুঁড়ে ঘরে রাখা মাদার মেরির কোলে যিশুখ্রিষ্টের প্রতিচ্ছবি দৃষ্টিনন্দনভাবে ডিসপ্লে করায় অনুষ্ঠানের আকর্ষণ আরো বেড়ে যায়। বড়দিন উপলক্ষ্যে খ্রিষ্টান পল্লির মোট ৩৮৫ পরিবারের মধ্যে বইছিল আনন্দের বন্যা। পিঠা-পুলিসহ রকমারি খাবারের আয়োজন ছিল খ্রিষ্টান পল্লিতে।