ধারণ ক্ষমতার তিন গুণের বেশি বন্দি থাকায় খুবই সমস্যায় রয়েছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগারের বন্দিরা। বিশেষ করে রাতযাপনে তাদের বেশি সমস্যা হচ্ছে। জানা গেছে, কারাগার সমপ্রসারণে ছয়তলা বিশিষ্ট দুইটি ভবনের টেন্ডার সম্পন্ন হলেও ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান নির্মাণ কাজ শুরু করছে না। তবে বন্দি সংখ্যা কারাগারের ধারণ ক্ষমতার বেশি হলেও কোনো সমস্যা হচ্ছে না জানিয়ে জেল সুপার বলেন, নতুন ভবন দুইটি হলে বন্দিদের সুবিধা বাড়বে। আর প্রস্তাবনাধীন জমি অধিগ্রহণ হলে ধারণ ক্ষমতা স্বাভাবিক থাকবে।
জেলা প্রশাসক ও কারা পরিদর্শক বোর্ডের সভাপতি জানান, টেন্ডার হওয়া ভবন দুইটির নির্মাণ কাজ দ্রুত করার ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কারাগার সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ উপকারাগারে বন্দিদের স্থান সংকুলান না হওয়ায় ১৯৯৮ সালে নগরীর কালীরবাজার এলাকা থেকে স্থানান্তর করে ফতুল্লার সস্তাপুর এলাকায় জেলা কারাগার প্রতিষ্ঠা করা হয়। ১২ একর জমিতে ৫টি দ্বিতল ভবন, ১টি কিশোর ও ১৫টি কনডেম সেলসহ কারাগারে ধারণ ক্ষমতা ২০০ জন বন্দির। সম্প্রতি টিনসেড ভবন নির্মাণের মাধ্যমে কারাগারে আরো ১০০ বন্দির ধারণ ক্ষমতা বাড়ানো হয়। এখন ধারণ ক্ষমতা ৩০০ হলেও বন্দি আছে তিনগুণেরও বেশি। সাম্প্রতিক এক পরিসংখ্যান অনুযায়ী কারাগারে বর্তমান বন্দি সংখ্যা প্রায় ১ হাজার ৮০০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১ হাজার ৭৪২ জন, আর নারী ৫৮ জন। এ কারাগারে ৮ জন ফাঁসির আসামি, ২০ জন জঙ্গি, ১ জন টপটেরর এবং ভিআইপি মর্যাদায় আছেন দুদকের সাবেক একজন পরিচালক। সরকারের নির্দেশে নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগারটি বন্দিদের সংশোধন ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে পরিণত করতে নানা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কারা অভ্যন্তরে নির্মিত ‘রিজিলিয়ান্স’ গার্মেন্টসের উত্পাদিত পণ্য বিপণন ও অর্ডার প্রাপ্তির ব্যবস্থা, নারী বন্দিদের শিক্ষা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে একটি মিনি স্কুল ও মাদ্রাসা নির্মাণ, নারী বন্দিদের পুনর্বাসনের জন্য সমিতির মাধ্যমে বিউটি পার্লার ও বিউটিফিকেশনের প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মাদকাসক্ত বন্দিদের জন্য ডাক্তার দ্বারা মাদকের নেশা ত্যাগে মোটিভেশন ও সচেতনতা তৈরি করা হচ্ছে। এ অবস্থায় কারাগারে ধারণ ক্ষমতার তিন গুণেরও বেশি বন্দি থাকায় রাতযাপনে নানা সমস্যায় ভুগছেন বলে জানিয়েছেন বন্দিরা। স্বজনদের সাথে সাক্ষাতের সময় তারা তাদের করুণ দশার কথা বর্ণনা করেন।
নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগারের জেল সুপার সুভাষ কুমার ঘোষ জানান, বন্দিদের সংখ্যা কারাগারের ধারণ ক্ষমতার বেশি হলেও কোনো সমস্যা হচ্ছে না। ছয়তলা বিশিষ্ট দুইটি নতুন ভবন নির্মাণের জন্য টেন্ডার সম্পন্ন হয়েছে। ভবন হলে বন্দিদের সুবিধা বাড়বে। এছাড়া সম্প্রসারণের জন্য এক একর জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়াধীন এবং আরো দুই একর জমি অধিগ্রহণের প্রস্তাব করা হয়েছে। তিনি বলেন, জেলা কারাগারে জেল সুপার, একজন জেলার, দুইজন সহকারী জেলার ও ৬ জন কর্মকর্তাসহ ১৩৩ জন স্টাফ কর্মরত আছেন। বন্দিদের তুলনায় স্টাফ সংখ্যাও কম আছে। আন্তর্জাতিক আইনে ৩ জন বন্দির জন্য ১ জন আর দেশীয় আইনে ৮ জনের জন্য ১ জন স্টাফ থাকবে। স্টাফদের প্রয়োজনের তুলনায় আবাসিক সুবিধা কম বলেও জানান জেল সুপার। এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক ও কারা পরিদর্শক বোর্ডের সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন বলেন, প্রস্তাবনাধীন জমি অধিগ্রহণ হলে ধারণ ক্ষমতা স্বাভাবিক থাকবে। টেন্ডার হওয়া ভবন দুইটির নির্মাণ কাজ দ্রুত শেষ করার ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রাথমিকভাবে কাগজে কিছু ত্রুটির কারণে অধিগ্রহণে বিলম্ব হচ্ছে বলে জানান তিনি।
