সংকট আছে, চলছে কাউন্সিলের প্রস্তুতিও

আপডেট : ২৬ ডিসেম্বর ২০১৯, ০৪:৪৬

এক দিন পরেই জাতীয় পার্টির (জাপা) নবম কাউন্সিল অনুষ্ঠানের কথা থাকলেও দলটিতে নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণ প্রশ্নে উদ্ভূত সংকট এখনো কাটেনি। সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ দলের চেয়ারপারসন হবেন, নাকি জি এম কাদেরই চেয়ারম্যান পদে বহাল থাকবেন—এ নিয়ে জাপার নেতাকর্মীরা এখনো ধন্দে। তবে সব সংশয়কে মাথায় রেখেই শনিবার কাউন্সিল অনুষ্ঠানের সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিচ্ছেন জাপার চেয়ারম্যান জি এম কাদের ও তার অনুসারীরা।

দলের একাংশ রওশন এরশাদকে চেয়ারপারসন ও জি এম কাদেরকে নির্বাহী চেয়ারম্যান করার ফরমুলা সামনে আনলেও এ নিয়ে ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়েছে। কাউন্সিল ছাড়াই জি এম কাদেরের জাপার চেয়ারম্যান পদে থাকা কেন অবৈধ হবে না—দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মুহাম্মদ জহির উদ্দিনের করা এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার হাইকোর্ট এই রুল জারি করায় দলের নেতাকর্মীরা এখন নানা প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন, নানা সূত্র দিয়ে অঙ্ক মেলানোর চেষ্টা করছেন।

হাইকোর্ট রুল ইস্যু করার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই রিটকারী জহিরকে দল থেকে বহিষ্কার করেন জি এম কাদের। সংক্ষুব্ধ জহির গতকাল বুধবার বিকালে রাজধানীর শাহজাদপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলেছেন, ‘যেহেতু জি এম কাদের বৈধ চেয়ারম্যান নন, সেহেতু তিনি জাপার কোনো সভা, সম্মেলন ও কাউন্সিলে সভাপতিত্ব করতে পারেন না। দলে গঠনতান্ত্রিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এবং গঠনতন্ত্রের পরিপন্থি, বেআইনি ও স্বেচ্ছাচারিভাবে স্বঘোষিত জাপার তথাকথিত চেয়ারম্যান জি এম কাদের অবৈধ ও আইনানুগ কর্তৃত্ব বহির্ভূতভাবে ২৮ ডিসেম্বর সম্মেলন ও কাউন্সিল আহ্বান করেছেন।’ কাউন্সিল ও সম্মেলন স্থগিত করার জন্য প্রশাসনের প্রতি দাবি জানিয়ে জহির বলেন, অন্যথায় এই কাউন্সিল প্রতিরোধ করা হবে। জহির গতকাল ইত্তেফাকের সঙ্গে আলাপকালে অভিযোগ করেন, হাইকোর্টে রিট করায় তাকে দলের কেউ কেউ নানা ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন।

আরও পড়ুন: নুসরাত হত্যাকাণ্ড : ডেথ রেফারেন্স বিজি প্রেসে

হাইকোর্টের রুলের বিষয়ে বিশিষ্ট আইনজীবী ব্যারিস্টার খায়রুল আলম চৌধুরী গতকাল ইত্তেফাককে জানান, যেহেতু কাউন্সিল অনুষ্ঠান কিংবা জি এম কাদেরের চেয়ারম্যান পদের ওপর আদালত কোনো স্থগিতাদেশ দেননি, সেক্ষেত্রে কাউন্সিল অনুষ্ঠানে আইনি কোনো বাধা নেই। একইমত জি এম কাদের ও তার অনুসারীদেরও। জাপার প্রেসিডিয়াম সদস্য জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু ইত্তেফাককে বলেন, হাইকোর্ট রুল দিয়ে চার সপ্তাহের মধ্যে জবাব চেয়েছেন, কিন্তু এর অনেক আগেই অর্থাত্ শনিবার কাউন্সিল হয়ে যাচ্ছে। সুতরাং কাউন্সিল অনুষ্ঠানে আইনি কোনো জটিলতা আছে বলে আমরা মনে করি না।

এদিকে, রওশনকে চেয়ারপারসন ও জি এম কাদেরকে দলের নির্বাহী চেয়ারম্যান করার ফরমুলা সৃষ্টির শুরুতে যারা সম্পৃক্ত ছিলেন তাদের বেশির ভাগই এখন পক্ষ বদল করেছেন। রওশনের সঙ্গ ছেড়ে তারা জি এম কাদেরের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। বিষয়টি মীমাংসার জন্য রওশন গত রবিবার তার গুলশানের বাসায় জি এম কাদেরসহ দলের সিনিয়র নেতাদের বৈঠক ডাকলেও দলের মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা ও জ্যেষ্ঠ প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ ছাড়া আর কেউ যাননি। অবশ্য পর দিন রওশনের সঙ্গে পৃথকভাবে আলাপ করেছেন দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য মুজিবুল হক চুন্নু ও ফখরুল ইমাম। এ ব্যাপারে চুন্নু ইত্তেফাককে বলেন, ‘আসলে কোনো পক্ষই খোলামেলাভাবে আমাদেরকে কিছু বলেননি। দেখা যাক কী হয়।’ ফখরুল ইমাম ইত্তেফাককে বলেন, ‘রওশন এরশাদকে চেয়ারপারসন ও জি এম কাদেরকে নির্বাহী চেয়ারম্যান করার বিষয়ে আলোচনা চলমান, আশা করছি এ ব্যাপারে একটা সম্মানজনক সমাধান আসবে।’

তবে চেয়ারম্যান পদ নিয়ে কোনো আপসে যেতে রাজি নন জি এম কাদের। তিনি বলেছেন, ‘জাপা কারো জমিদারি নয়, কারো ব্যক্তিগত সম্পত্তিও নয়। নেতৃত্ব নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন উঠলে প্রয়োজনে কাউন্সিলে ভোটাভুটি হবে, আমরা সে ধরনের প্রস্তুতিও নিয়ে রাখছি। কাউন্সিলররাই নেতৃত্ব নির্বাচন করবেন। এখানে কারো ব্যক্তিগত চাওয়া না চাওয়ায় কিছু যায় আসে না।’

জাপার দায়িত্বশীল একাধিক নেতা জানান, চলমান সংকট উত্তরণে জি এম কাদের একাধিক বিকল্প কৌশল নিয়ে এগোচ্ছেন।

ইত্তেফাক/এমআরএম