বন্ধু’র জন্য প্রার্থনা

আপডেট : ২৬ ডিসেম্বর ২০১৯, ২০:১৫

 

এন্ড্রু দা আর আমার একসঙ্গে একটা গানের জীবন বহমান। একসঙ্গে রেকর্ডিং, দ্বৈতগান কিংবা কনসার্ট। সব মিলিয়ে আমাদের দু’জনের এই দীর্ঘ কর্মজীবনে এন্ড্রু দা’র কাজের প্রতি অদম্য নেশা থেকে অনেককিছু শিখেছি। তাই যখনই শুনলাম এন্ড্রু দা অসুস্থ মনটা ভীষণ খারাপ হয়ে গেল। ভাবির সঙ্গে কথা বললাম। খোঁজখবর নিচ্ছি ঠিকমতো।

আমাদের দেশের সুরের এই সাম্রাজ্যে একজন এন্ড্রু কিশোরের যে কী পরিমাণ অবদান তা বলে বোঝানো যাবে না।

যখন শুনলাম এন্ড্রু দার চিকিত্সা ভীষণ ব্যয়বহুল, সেদিন থেকেই পরিকল্পনা করেছি কিছু একটা করতে হবে। আমি জানি আমি যদি আজ এন্ড্রু দার মতো এভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ে থাকতাম, দাদা স্থির থাকতে পারতেন না। ভীষণ চনমনে এক দারুণ জীবনীশক্তির এই মানুষটিকে তাই আমি শ্রদ্ধা করি যেমন আমার ভীষণ কাছের মানুষ, বন্ধু হিসেবে ভাবি তাকে। আমার যেকোনো ব্যক্তিগত ভালো-মন্দ দাদার সঙ্গে শেয়ার করি। সেই তাগিদ থেকেই নিউইয়র্কের জনপ্রিয় আয়োজক আমার ছোট ভাই আলমগীর খান আলমকে বললাম,‘তুই অ্যারেঞ্জ কর। আমরা সবাই গাইবো। একটা ভালো অ্যামাউন্ট তুলে আমাদের দাদাকে পাঠাতে হবে। এটা কোনো সাহায্য তহবিল নয়। দায়িত্বের কাজ। সেভাবেই আমি সকলকে একমঞ্চে করলাম। নিউইয়র্কের ছোট-বড় সবাই আমরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিয়েছি এই কনসার্টে। দাদার সঙ্গে যখন ফোনে কথা বলি, দাদা বললো ভিডিও করে পাঠাস দেখবো, কে কেমন গাইলো। আমি জানি, বিশ্বাস করি, এন্ড্রু দাকে ঈশ্বর সুস্থ করে তুলবেন। আবারো তিনি ফিরবেন সেই একই স্মিত হাসি নিয়ে। দাদার জন্য প্রার্থনা।

লেখক:জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী