মৌসুমি

পৌষ তোদের ডাক দিয়েছে

আপডেট : ২৬ ডিসেম্বর ২০১৯, ২১:২২

পৌষ-মাঘ শীতকাল। এই ঋতুতে নানা ফসলের প্রাচুর্য থাকে পুরো বাংলাদেশে। নানান সবজি এই ঋতুকে করেছে বড়োই আকর্ষণীয়। শীতের পিঠা, কাঁথা সেলাই, মোরগলড়াই, মাছ-পাখি শিকার, বিয়েশাদির জাঁকজমক অনুষ্ঠান, আত্মীয় বাড়ি বেড়ানো ইত্যাদি নিয়ে গ্রামবাংলার মানুষ বড্ডো ব্যস্ত থাকে। পুঁথিপাঠ, গম্ভীরা, যাত্রা, কবিগানে মুখর সর্বত্র। গাই-মোষ জবাই চলে এ সময়। খাবারদাবারের আয়োজন এ ঋতুর অন্যতম বৈশিষ্ট্য।

পানি অনেক সময় কমে যায় বলে নদী-বিল-খালে নানারকম মাছ ধরার মধ্যে কত-না আনন্দ। পুতুল, সার্কাস, যাত্রা, থিয়েটার না হলে জমে না বাঙালির অবসর বিনোদন। পৌষ মাসকে নিয়েই তো রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর লিখেছেন—‘পৌষ তোদের ডাক দিয়েছে, আয় রে চলে আয় আয় আয়/ডালা যে তার ভরেছে আজ পাকা ফসলে...হাওয়ার নেশায় উঠল মেতে দিগ্বধূরা ধানের খেতে...।’

পৌষ-মাঘ এই দুমাসে রাত কুয়াশায় ঢাকা থাকে। কুয়াশা কাটতে কখনো-বা দুপুর গড়িয়ে যায়। সূর্যের দেখা মেলে না সহজে, শীত জেঁকে বসে। সর্বত্রই ঠান্ডা বাতাস বয়। উত্তরের জনপদ—রায়গঞ্জ, দিনহাটা, তুফানগঞ্জ, দার্জিলিং, কালিম্পং, কার্শিয়াং, বালুরঘাট, মালদহ, শিলিগুঁড়ি, গীতলদহ, দিনাজপুর, পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, রংপুর, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, নীলফামারী, জলপাইগুঁড়ি, কোচবিহার, আলীপুর দুয়ার—সর্বত্রই কুয়াশার চাদরে ঢেকে থাকে। দূরে কোথাও এই শীতে বেড়ানোর যে আনন্দ তা আর কোথাও মেলে না।

ভাপা, চিতই, পাটিসাপটাসহ হরেকরকম পিঠা খাওয়ার মৌসুম এই শীত। খেজুর রসে ভেজানো চিতই পিঠা তৈরির ধুম পড়ে গ্রামবাংলার ঘরে ঘরে। শীতে মাঠঘাট শুকিয়ে যায়—তাই এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় পায়ে হেঁটে বেড়ানোতে দারুণ আনন্দ—এ যেন নতুন বৈচিত্র্য খুঁজে পাওয়া।

শীত মানে সন্ধ্যা হতেই লেপ গায়ে দিয়ে দেহ গরম করা। কেউবা সন্ধ্যা হতেই আগুন জ্বালিয়ে শীত থেকে নিজেকে রক্ষা করতে চান। এ দৃশ্যটি গ্রামবাংলায় বেশি দেখা মেলে। পৌষকে আদর করে কাজী নজরুল ইসলাম লিখেছেন ‘পউষ’। আর কবিতার চরণ হলো: ‘পউষ এলো গো পউষ এলো/অশ্রু-পাথর হিম-বরাবার পারায়ে/ঐ যে এলো গো কুজ্ঝটিকার ঘোমটা-পরা দিগম্বরে দাঁড়ায়ে।’