বন্যা, খরাসহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের পরও আমনের ভালো ফলন হয়েছে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে। ফলন ভালো হলেও বাজারে ধানের ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না কৃষক। ধানের লোকসান কাটিয়ে উঠতে চাষিরা শীতকালীন সবজির দিকে ঝুঁকছেন। মাঠে মাঠে এখন শীতকালীন সবজি চাষের ধুম পড়েছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, একটি পৌরসভা ও ৯টি ইউনিয়নে ১ হাজার ৫৩০ হেক্টর জমিতে সবজি চাষ হচ্ছে। শীতকালীন এসব সবজির মধ্যে টম্যাটো, বেগুন, মুলা, শিম, আলু, বরবটি, শসা, লাউ, কুমড়া, ফুলকপি, বাঁধাকপি, ঢেঁড়শ, লালশাক, পালংশাক, লাউশাকসহ নানা জাতের শাকসবজি রয়েছে। উপজেলার আদমপুর, মাধবপুর, রাণীবাজার, আলীনগর, পতনঊষার ও মুন্সীবাজার এলাকায় ব্যাপকহারে শাকসবজি চাষাবাদ শুরু হয়েছে। কেউ জমি তৈরি করছেন, কেউ খেত পরিচর্যা, রোগ-বালাই দমনে ওষুধ প্রয়োগ করে চলেছেন। কৃষকরা জানান, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ৪০ থেকে ৪৫ দিনের মধ্যেই শীতকালীন শাকসবজি পাওয়া যায়। এতে ধানের লোকসান কাটিয়ে লাভবান হওয়া যাবে। আদমপুরের কৃষক মানিক মিয়া, ব্রজেন্দ্র সিংহ, মনিন্দ্র সিংহসহ স্থানীয় কৃষকরা বলেন, এবার ধানের ফলন ভালো হলেও দাম নেই। লোকসানা গুনতে হচ্ছে। এক মণ ধান উত্পাদনে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা খরচ হচ্ছে। আর বিক্রি করতে হচ্ছে সাড়ে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা। এতে ভর্তুকি দিয়ে খাবারের জন্য চাষাবাদ করতে হয়। ফলে ধান চাষাবাদে কৃষকদের মধ্যে অনীহা সৃষ্টি হচ্ছে।
কমলগঞ্জ উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা বিশ্বজিত্ রায় বলেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে সবজির ভালো ফলন হবে। কৃষকরা যাতে ভালো ফলন পায় সেজন্য কৃষি অফিস সার্বক্ষণিক তদারকি করছে। মাঠ পর্যায়ে মাঠকর্মীরাও কাজ করছেন।
