সামর্থ্য অনুযায়ী ক্রয়

আপডেট : ২৬ ডিসেম্বর ২০১৯, ২১:৫৮

দ্রব্যমূল্য বাড়ছে। কিন্তু প্রত্যেকে যার যার সামর্থ্য অনুযায়ী

ক্রয় করলে অসুবিধা হওয়ায় কথা নয়। আপনি কি তা-ই

মনে করেন? জানতে চাওয়া হয়েছিল পাঠকদের কাছে।

ই-মেইল ও টেলিফোনে পাঠকের দেওয়া প্রতিক্রিয়া

আজ প্রকাশ করা হলো

দ্রব্যমূল্যের হ্রাস-বৃদ্ধি বাজারসাংস্কৃতির স্বাভাবিক নিয়ম। চাহিদা, উত্পাদন ও জোগানের সমন্বয়ের অভাবে এই হ্রাস-বৃদ্ধি ঘটে থাকে। সচেতন ভোক্তারা তাদের ক্রয়ক্ষমতা অনুযায়ী সেই হ্রাস-বৃদ্ধির সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিজেদের চাহিদা পূরণ করে থাকে। তবে সময়ে সময়ে ফড়িয়া, মধ্যস্বত্বভোগী, মজুতদার বিশেষ করে সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন কারসাজির কারণে দ্রব্যমূল্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ঘটে থাকে। ফলে সাধারণ ভোক্তারা বিপাকে পড়ে এবং বাজার-বিশৃঙ্খলা, সামাজিক অস্থিরতাসহ তার জের শেষ অবধি সরকার পর্যন্ত গড়ায়। কাজেই বাণিজ্য মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মনিটরিংয়ের মাধ্যমে দ্রব্যমূল্যের ধারাবাহিক স্থিতিশীলতা রক্ষা করা সম্ভব বলে ভুক্তিভোগীদের দাবির সঙ্গে আমরাও একমত।

ভূঁইয়া কিসলু বেগমগঞ্জী

চৌমুহনী, হাজীপুর, বেগমগঞ্জ, নোয়াখালী

দেশের অল্প কিছু লোকের ক্রয়ক্ষমতা বেড়েছে। এটা দিয়ে বোঝানো যাবে না যে বর্তমানে বাংলাদেশের মানুষর ক্রয়ক্ষমতা বেড়েছে। সার্মথ্যের বাইরে গিয়ে যে কারোরই সমস্যা হতে পারে। বাস্তবতা হচ্ছে, দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা এখন নাজুক। অনেক  কোম্পানি লোক ছাঁটাই করছে, বেতন বৃদ্ধি করছে না। নতুন কর্মসংস্থানও তেমন গড়ে উঠছে না। দেউলিয়া হয়ে গেছে অনেক কোম্পানি। বেকারের সংখ্যা দিনে দিনে বেড়েই চলেছে। ঠিক এমন মুহূর্তে দ্রব্যমূল্য বাড়ছে—এটা মহাবিপজ্জনক।

সাইফুল ইসলাম তানভীর

বারিধারা, গুলশান, ঢাকা

 

নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম বেড়েই চলেছে। দাম একবার বাড়লে শিগিগর আর কমার কোনো লক্ষণ পাওয়া যায় না। দাম বাড়লে আমাদের উচিত যার যেটুকু লাগবে সেটুকু ক্রয় করা। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে স্থানীয় পর্যায়ে সরকারকে এখনই পদক্ষেপ নিতে হবে।

এস কে মো. রমিজউদ্দিন

পুরানা পল্টন, ঢাকা

 

সামর্থ্য অনুযায়ী দ্রব্যমূল্য ক্রয় করলে কোনো অসুবিধা হওয়ার কথা নয় ঠিক, কিন্তু দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে ক্রেতার যে পরিমাণ দ্রব্যসামগ্রীর প্রয়োজন, তা তিনি ক্রয় করতে পারেন না। যেমন পেঁয়াজের মূল্যবৃদ্ধির পর যার ঘরে সপ্তাহে ২ কেজি পেঁয়াজের প্রয়োজন ছিল, তিনি অর্ধকেজি বা ১ পোয়া দিয়ে সংসার চালিয়েছেন। এতে করে তাদের মনের ক্ষোভ ও দুঃখবোধ বেড়েছে। এর অবসান অতি দ্রুত হওয়া প্রয়োজন।

মাখরাজ খান

সাটুরিয়া, মানিকগঞ্জ

 

দর্জির কাছে শরীরের মাপ দিয়ে কাপড় দিতে হবে। সংসারজীবনে মিতব্যয়িতা হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী অপচয়কারী শয়তানের ভাই। এখন আমরা যারা সংসার নিয়ে ব্যস্ত, যে পরিমাণ প্রয়োজন তার অতিরিক্ত ক্রয় করা সঠিক নয়। হঠাত্ করে অনেক জিনিসের দাম বেড়ে যায়। কারণ ক্রেতার চাহিদা ও জিনিসের সরবরাহের যদি সমন্বয় না হয়, তাহলে বাজারে দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল থাকে না।

খন্দকার কামরুজ্জামান

৩৬৩/১০ উত্তর পীরেরবাগ

মিরপুর, ঢাকা

 

দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি পাচ্ছে একথা অস্বীকার করার উপায় নেই। তবে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে একশ্রেণির মানুষ ক্রয় বাড়িয়ে দেন। এতে করে দ্রব্যমূল্যের সরবরাহের চেয়ে মূল্যবৃদ্ধি পায়। মূল কথা হচ্ছে, যার যার অবস্থান থেকে সামর্থ্য অুনযায়ী ক্রয় করা একান্ত প্রয়োজন। এতে করে বাজার নিয়ন্ত্রণে থাকবে।

মো. ইফতেখার হোসেন লিটন

হাইমচর, চর ভৈরবী

 

বাংলাদেশের মানুষের ক্রয় ক্ষমতা বেড়েছে, এটা সত্য। কিন্তু সব শ্রেণির মানুষের ক্রয় ক্ষমতা বেড়েছে যে এটাও আবার ঠিক নয়। আর এই ক্রয় ক্ষমতা সবার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে পারে না। মানুষের জীবনে প্রয়োজন আছে অনেক কিছুই। কিন্তু তাই বলে সব পাওয়া হবে সেটাও ঠিক নয়। এর জন্য রয়েছে চাহিদার রূপ। সামর্থ্য অনুযায়ী যার যার অবস্থান থেকে ক্রয় করবে এটাই সত্য।

মো. মেজবাহ উদ্দিন সেলিম

ইব্রাহিমপুর, ঢাকা ক্যান্ট, মিরপুর

 

নিত্যদ্রব্যের অগ্নিমূল্যের বাজারে দেশের খেটেখাওয়া সাধারণ মানুষের পক্ষে যেখানে প্রয়োজনীয় দ্রব্যের যোগান মেটানোই দায়, সেখানে সামর্থ্যের বেশি ক্রয়ের প্রশ্নটিই যেন গরিবদের প্রতি একটি অপবাদ! তবে ধনাঢ্যরা যদি বাজারে মজুদকৃত দ্রব্যের আগ্রাসি ক্রেতা না হয়ে নিজের যৌক্তিক প্রয়োজন মেটাতে ক্রয় করেন, তবে সমাজের অধনাঢ্যরাও এর সুফল পাবেন? কারণ এতে বাজারে অযাচিত চাহিদা সৃষ্টি না হয়ে এর প্রভাবে দ্রব্যমূল্যের লাগামটা কিছুটা হলেও নিয়ন্ত্রণ থাকতে পারে? ব্যাপারটি সম্পূর্ণভাবে ধনাঢ্যদের কোর্টে ন্যস্ত?

তৌহিদ বিল্লাহ

পলাশ, নরসিংদী।

 

কালোবাজারি, মজুদদার ও অতি মুনাফাখোর নামক ব্যবসায়ীরা নিজেদের অপকর্ম, কুকর্মের দোষ ঢাকার জন্য পণ্যের সরবরাহ কম ও চাহিদা বেশি—এ কথা বলে নিজেদের সাফাই গাইতে চেষ্টা করে। তারা সিন্ডিকেট করে পণ্য মজুদ করে পণ্যের দাম বাড়িয়ে সাধারণ জনগণকে কষ্ট দেয়! আবার প্রয়োজনের অতিরিক্ত পণ্য কিনে মজুদ করা বা সংকট সৃষ্টি করাও ইসলামে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এজন্য পণ্য কেনার ব্যাপারে মানুষের মধ্যে প্রতিযোগিতাও ঠিক নয়! যার ফলে হঠাত্ সরবরাহের তুলনায় পণ্যের চাহিদা বেশি হওয়ায় পণ্যের দাম বেড়ে যায়। তাই এক সঙ্গে এক মাসের পণ্য না কিনে প্রতিদিনের বা এক সপ্তাহের বাজার করলে এই সংকট সৃষ্টির আশঙ্কা একেবারে কমে যাবে বলে আমি মনে করি।

বিলকিছ আক্তার

হরিশ্বর, কাউনিয়া,

রংপুর।

 

‘অল্পতে পোষায়, বেশিতে দোষায়’ এটি একটি বাংলা প্রবাদ। যার গুরুত্বপূর্ণ ভাবার্থ আমরা শিক্ষিত সভ্যসমাজ বুঝি। কিন্তু মানি না। ধর্মেও অল্পতে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনের অতিরিক্ত ক্রয় বা ব্যবহার নিষেধ করা হয়েছে। কারণ যার যতটুকু প্রয়োজন যতটুকু ক্রয় করলে সবাই প্রয়োজন মতো ক্রয় করতে পারবে। পণ্যের ওপর চাপ বাড়বে না, দামও বাড়বে না। কিন্তু আমরা সামর্থ্যের বাইরে বেশি ক্রয় করে ফ্রিজে এবং অন্যভাবে মজুত করে রাখি এতে দ্রব্যের দাম বাড়ে— এটাই স্বাভাবিক। আর বিষয়টি দোষণীয় ও নীতি-নৈতিকতা পরিপন্থি। তাই আসুন যার যার সামর্থ্য অনুযায়ী যতটুকু প্রয়োজন ততটুকুই ক্রয় করি।

মুহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক নাছিম

প্রতিষ্ঠাতা নির্বাহী পরিচালক, স্বাধীন জীবন, চান্দাইকোনা, রায়গঞ্জ, সিরাজগঞ্জ

 

অর্থনীতিতে বলা হয়েছে—‘চাহিদা বাড়লে দ্রব্যমূল্যের দাম বাড়ে, আর চাহিদা কমলে দাম কমে’। মানুষের চাহিদা অনুযায়ী সবকিছুই নির্ভরশীল। প্রত্যেকে যার যার সামর্থ্য অনুযায়ী ক্রয় করলেই সত্যিকার অর্থে কোনো অসুবিধা হওয়ার কথা নয়। কিন্তু আমরা তা না করে উলটোটা করে থাকি। অর্থাত্ দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চাহিদার অতিরিক্ত ক্রয় করে থাকেন। সুতরাং সামর্থ্য অনুযায়ী ক্রয় করাটাই শ্রেয়।

আল মায়ামী, ফুলবাড়িয়া, সাভার

আমাদের সবারই উচিত যে, যার যার চাহিদা অনুযায়ী সকল জিনিস ক্রয় করা। কারণ যদি আমরা আমাদের চাহিদা অনুযায়ী জিনিসপত্র ক্রয় করি তাহলে কারোরই কোনো সমস্যা হবে না। তাই, সব সময় আমাদের চাহিদা অনুযায়ী সকল জিনিস ক্রয় করতে হবে। কারণ সবার চাহিদা এক রকম নয়। কারো বেশি, কারো কম। আর এ জন্যই সবার চাহিদা অনুযায়ী যদি সকল জিনিস ক্রয় করে তাহলে কোনো কিছুর মূল্যবৃদ্ধি হবে না।

ফারজানা ফাইজা কানিজ

রায়গঞ্জ উপজেলা সদর,

রায়গঞ্জ, সিরাজগঞ্জ

 

দ্রব্যমূল্য বাড়বে কমবে এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া, চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত থাকলে কমে পর্যাপ্ত না থাকলে বাড়ে, সাধ্যমত কিনবে এটাও স্বাভাবিক, সবাই তা জানে কিন্তু সমস্যা হচ্ছে বাজারে পর্যাপ্ত থাকা সত্ত্বেও দাম বেড়ে যাওয়া যেটা মানা অস্বাভাবিক, পিয়াজ বাজারে ছিল না তেমনটি নয় কিন্তু দামবেশি এটা মেনে নেওয়া যায় না। বাজার মনিটরিং এ বিভিন্ন রুটে পণ্য পরিবহনে যে আনুসঙ্গিক খরচ কমানসহ সবাই সচেতন থাকলে এবং ব্যবসায়ীরা অধিক মুনাফা দিক চিন্তা না করে, ব্যবসা একটি সেবা এটি মনে করলে এবং এ ব্যাপারে সব মহল সচেতন থাকলে আশাকরি সবাই উপকার পাব।

মো. ফিরোজ আহম্মেদ

মিরপুর সেকশন-৬,

ঢাকা

 

দব্রমূল্য বাড়ছে অসম্ভব গতিতে। সম্প্রতি পেঁয়াজ নিয়ে যে লঙ্কাকাণ্ড ঘটেছে গেছে, তা তো আমাদের সামনেই। এর পিছনে কাজ করে সদা এক ধরনের মোনাফালোভী অসাধু ব্যবসায়ী ও চক্র। তবে অসম্ভব এ ঊর্ধ্বগতি রোধ করতে ও পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আমরা জনগণই সক্ষম। আমরা যদি যার যার সামর্থ্য ও সাধ্যানুযায়ী ক্রয় করি এবং প্রয়োজনে সাময়িক কয়কটও করি। তাহলে আমি মনে করি এটা কোনো সমস্যাই না। মুহূর্তেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে বাধ্য।

উবাইদুল্লাহ

তারানগরী, দুধনই, ধোবাউড়া, ময়মনসিংহ।

 

বর্তমানে দ্রব্যমূল্যের দৃশ্যত কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। চাল, তেল, পেঁয়াজ, আদা, রসুনসহ নিত্য প্রয়োজনীয় প্রতিটি পণ্যের দাম বেড়েই চলছে। প্রতিটি পণ্যের দাম বৃদ্ধির কারণ হিসেবে ব্যবসায়ীরা এক একটি অজুহাত ব্যবহার করেন। অথচ কিছু পণ্য আছে সরবরাহে ঘাটতি না থাকার পরও দাম বেড়ে যায়। অর্থাত্ আড়াল থেকে কলকাঠি নাড়াচ্ছে একদল দুর্বৃত্ত নামক সিন্ডিকেট চক্র। আর এর মাশুল গুনছে সাধারণ মানুষ।

পণ্যমূল্য বৃদ্ধির কারণে বর্তমানে ন্যায়সংগত মূল্যে কোনো পণ্যই আর পাওয়া যায় না। প্রতিটি পণ্যেই যেন অধিক মূল্যের আগুন জ্বলছে দাউ দাউ করে। অথচ এক বা দুই দশক আগেও এই অবস্থা ছিল না। মানুষ জীবন কাটাত সাধ্যের মধ্যে ভালো থেকে। শায়েস্তা খাঁর আমলে টাকায় আট মণ চালের কথা যেন সময়ের রূপকথা। ব্রিটিশ শাসনামলেও দেশের দ্রব্যমূল্য ছিল নিয়ন্ত্রিত অবস্থায়।

১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের পর দেশের অবস্থার ব্যাপক পরিবর্তন হলেও দ্রব্যের মূল্য সাধারণ মানুষের হাতের নাগালে ছিল। সামাজিক নিরাপত্তার সঙ্গে খাদ্য নিরাপত্তার সম্পর্ক রয়েছে। বেঁচে থাকার তাগিদ থেকেও কেউ কেউ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে। আমরা আশা করব, দৃশ্যমান ও অদৃশ্যমান সব সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নিশ্চিত করা হবে সাধারণ ও নিম্নআয়ের মানুষের ভালোভাবে বেঁচে থাকার অধিকার ও নিরাপত্তা।

মো. জিল্লুর রহমান

সতিশ সরকার রোড,

গেন্ডারিয়া, ঢাকা।