যুক্তরাষ্ট্র থেকে সয়াবিনের আমদানি বাড়িয়েছে চীন

আপডেট : ২৬ ডিসেম্বর ২০১৯, ২২:০৯

অন্তর্বর্তীকালীন বাণিজ্যচুক্তির ঘোষণা দেওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র থেকে সয়াবিনের আমদানি বাড়িয়েছে চীন। চীনের সয়াবিন আমদানির এই পরিমাণ গত দুই মাসে বেড়েছে আগের বছরের চেয়ে প্রায় ৫৩ দশমিক ৭ শতাংশ।  গত নভেম্বর পর্যন্ত চীনের সয়াবিন আমদানি নিয়ে চীনা কাস্টমস কর্তৃপক্ষের পরিসংখ্যানের বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে মার্কিন বার্তাসংস্থা এপি।

এতে বলা হয়েছে, গত নভেম্বরে চীনের সয়াবিন আমদানি অন্যান্য সময়ের চেয়ে বেড়েছে। এর পেছনে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চীনের বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরের ঘোষণা। চীনের শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সংবাদ পরিবেশনকারী সংবাদমাধ্যম এওয়েব বলছে, অক্টোবরের চেয়ে পরের মাসে যুক্তরাষ্ট্র থেকে চীনের সয়াবিনের আমদানি প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। গত কয়েক মাস ধরে চীন-যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য যুদ্ধ চলছে। যুক্তরাষ্ট্রের সয়াবিনের সবচেয়ে বড়ো আমদানিকারক চীন কিছুদিন আগে আমদানি বন্ধ করে দেয়। ঐ সময় চীনা পণ্যে আমদানিশুল্ক বৃদ্ধি করায় মার্কিন সয়াবিনের আমদানি বাতিল করে বেইজিং। পালটা ব্যবস্থা হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কিছু পণ্যে আমদানি শুল্ক বাড়িয়ে দেয় চীনও। তবে গত অক্টোবরে দুই দেশের সরকার প্রথম ধাপে একটি অন্তর্বর্তীকালীন বাণিজ্যচুক্তি স্বাক্ষরের ঘোষণা দেয়। তবে এই চুক্তিতে কী ধরনের শর্ত থাকতে পারে সে ব্যাপারে দুই দেশের পক্ষ থেকে এখনো পরিষ্কার কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি। মার্কিন কর্মকর্তারা বলেছেন, আগামী জানুয়ারিতে এই বাণিজ্যচুক্তি স্বাক্ষর হতে পারে। তারা বলছেন, চুক্তির অংশ হিসেবে মার্কিন খামার পণ্য আরো বেশি পরিমাণে কিনবে বেইজিং। তবে কী পরিমাণে মার্কিন খামার পণ্য কেনার শর্ত এই চুক্তিতে যুক্ত হচ্ছে সে ব্যাপারে চীনা কর্মকর্তারা এখনো নিশ্চিত করতে পারেননি।

চীনা সরকারের এক মুখপাত্র বলেছেন, গত সেপ্টেম্বরে আমেরিকান সয়াবিনের জন্য আমদানিকারকরা চাহিদা জমা দিয়েছেন। তবে মার্কিন সয়াবিন কেনার ব্যাপারে বিস্তারিত কোনো তথ্য জানাননি এই কর্মকর্তা।

চীনা ক্রেতারা সয়াবিনকে পশুর খাদ্য হিসেবে এবং রান্নার তেল তৈরিতে ব্যবহার করেন। ব্রাজিল থেকেও সয়াবিন আমদানি করে বেইজিং। তারপরও যুক্তরাষ্ট্র থেকে যে পরিমাণে সয়াবিন আমদানি করা হয়, সেটি বন্ধ হয়ে গেলে অন্য কোনো দেশ থেকে আমদানি বাড়িয়েও তা পূরণ করা সম্ভব নয়।