কক্ষপথ পরিক্রমায় কিছু সময়ের জন্য পৃথিবী আর সূর্যের মাঝে চলে এলো চাঁদ। তাতে জগতবাসীর সম্মুখে কিছুক্ষণ আংশিক ঢাকা পড়ে গেল সূর্য। সুর্যের তেজ যেন ঢেকে দিল চাঁদের স্নিগ্ধ ছায়া। আর সেই ছায়ার চারপাশ দিয়ে ঠিকরে বেরিয়ে আসলো দৃপ্ত এক আলো। আগুনোর মতো দেখতে সে আলোকের বিচ্ছূরণ। সুর্যকে অনুমিত হলো চাঁদের আড়াল থেকে ‘রিং অব ফায়ারের’ মতো। যার চারপাশে ছিল আগুনের বলয়।
এই মাহজাগতিক অপূর্ব নয়নাভিরাম দৃশ্য ১৭২ বছর পর ফের অবলোকন করতে পারলো মানুষ। ঢাকার আকাশেও মেঘ-কুঞ্ঝটিকার লুকোচুরি খেলার মধ্যে ফুেঁড় বেরিয়েছে এই অলৌকিক দৃশ্যের কিয়ত্ অংশ। এ যেন এক মাহেন্দ্রক্ষণ। অবশ্য বাংলাদেশ থেকে এবার আংশিক গ্রহণ দেখা গেছে। দেখা যায়নি বলয় গ্রাস। মাত্র ৪৫ শতাংশ খন্ডগ্রাস দেখেই মানুষ আপ্লুত-বিমোহিত।
মূলত চাঁদের কৌনিক ব্যাস সুর্যের চেয়ে ছোট হলে হয় বলয় গ্রহণ। অমাবস্যার সময়ে এই ধরনের সূর্যগ্রহণ হয়। তবে সব অমবস্যায় সূর্যগ্রহণ হয় না। কারণ এসময় চাঁদ ভূ-কক্ষের সঙ্গে ৫ ডিগ্রি হেলে থাকে। বহু বছর পর এরকম দৃশ্য অবলোকনের জন্য জগতবাসী ছিলেন অধির আগ্রহে। স্পর্শ গ্রহণ সূচিত হয় সকাল নয়টা চার মিনিটে।
আবহাওয়াবিদ আরিফ হোসেন জানান, সূর্যগ্রহণ শেষ হয় দুপুর ১২টা ৬ মিনিটে। সর্বোচ্চ পর্যায়ে ৩ মিনিট ৪০ সেকেন্ড স্থায়ী হয় এই গ্রহণ। তিনি জানান, সৌদি আরবের রিয়াদ থেকে ১০০ মাইল দূর থেকে এই সূর্য গ্রহণ দেখা শুরু হয়। বাংলাদেশ, ভারত, শ্রীলঙ্কা, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া থেকে প্রশান্ত মহাসাগরের গুয়াম দ্বীপ পর্যন্ত গিয়ে এই গ্রহণ শেষ হয়। সবচেয়ে ভালো দেখা গেছে মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর ও ইন্দোনেশিয়া থেকে। বছরের শেষ সূর্য গ্রহণ দেখতে গতকাল দিনের প্রথম ভাগে এশিয়ার নানা দেশের মানুষ সমবেত হয়েছিল খোলা জায়গায়।
জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘর কর্তৃপক্ষ জানায়, গতকাল সকাল থেকে জাদুঘরের ছাদে দুটি টেলিস্কোপের মাধ্যমে সূর্যগ্রহণ দেখার ব্যবস্থা করা হয়। দুপুর পর্যন্ত এই ব্যবস্থা ছিল। পরবর্তী সূর্য গ্রহণ দেখা যাবে ২০২০ সালের ১৪ ডিসেম্বর চিলি, আর্জেন্টিনা ও পশ্চিম আফ্রিকায়।
