রোহিঙ্গা ক্যাম্পভিত্তিক ইয়াবা পাচারকারীরা সক্রিয়

আপডেট : ২৬ ডিসেম্বর ২০১৯, ২২:৩১

মিয়ানমার থেকে বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত প্রায় সাড়ে ৮ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে নিরাপদ বসবাসসহ যাবতীয় সুযোগ সুবিধা ভোগ করলেও তাদের অনেকেই আজ বিপদগামী হয়েছে, ইয়াবা পাচারের মত ঘৃণ্য পেশায় নিজেদেরকে পুরোপুরি জড়িয়ে ফেলেছে।  মিয়ানমারের পথঘাট তাদের চেনা জানা থাকায় সীমান্তরক্ষী বিজিবি অনেক চেষ্টা করেও ইয়াবা পাচার পুরোপুরি রোধ করতে পারছে না। গতকাল বৃহস্পতিবার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বেশ কয়েকজন রোহিঙ্গা নেতা নিজেরাই এসব তথ্য তুলে ধরেন। তারা মনে করেন, ক্যাম্পভিত্তিক যেসব রোহিঙ্গা ইয়াবা পাচারে সক্রিয় তাদেরকে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার হাতে তুলে দেওয়া এখন রোহিঙ্গা নেতাদের নৈতিক দায়িত্বে্ পরিণত হয়েছে। কেননা গুটি কয়েক ইয়াবা কারবারি রোহিঙ্গার জন্য পুরো রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী বদনামের শিকার হচ্ছে।

রোহিঙ্গা নেতা মোহাম্মদ নূর বলেন, তারা ২০১২ সালে সীমান্তের নাফনদী পার হয়ে কুতুপালং এলাকায় আশ্রয় নেন। সে সময় কোনো রোহিঙ্গা ইয়াবা ব্যবসা করেনি। ১৯৯১ সালে আড়াই লাখ রোহিঙ্গা পালিয়ে এসে কক্সবাজার জেলার বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নেয়, এ বিষয়টি স্বীকার করে রোহিঙ্গা নেতা জাফর আলম প্রকাশ জানান, তারা ২৮ বছর ধরে কুতুপালং ক্যাম্পে বসবাস করছেন। তাদের মধ্যে কোনো রোহিঙ্গা এ পর্যন্ত ইয়াবা অথবা কোনো প্রকার মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত হয়নি দাবি করে ঐ রোহিঙ্গা নেতা বলেন, ২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের পর যেসব রোহিঙ্গাকে প্রধানমন্ত্রী দয়া পরবশ হয়ে আশ্রয় দিয়েছেন মূলত তাদেরই অনেকে ইয়াবা ব্যবসা করে সমস্ত রোহিঙ্গাদের বদনামের ভাগি করেছে। তিনি বলেন, ইউএনএইচসিআর এর তথ্যমতে সে সময়ে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গার সংখ্যা প্রায় সাড়ে ৮ লাখ। এদের মধ্যে এক তৃতীয়াংশ রোহিঙ্গা ইয়াবার পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায় জড়িত রয়েছে। ২৫ শতাংশ রোহিঙ্গা সরাসরি মিয়ানমার থেকে ইয়াবার চালান নিয়ে ক্যাম্পে মজুত করছে বলে কুতুপালং ক্যাম্পের একজন খুচরা ইয়াবা কারবারি স্বীকার করেছে। গত বুধবার কক্সবাজার র্যাব-১৫ এর সদস্যরা বালুখালী ও কুতুপালং ক্যাম্পে পৃথক অভিযান চালিয়ে ১০ হাজার ইয়াবাসহ ২ জন রোহিঙ্গাকে আটক করে উখিয়া থানা পুলিশের নিকট সোপর্দ করেছে।

এর আগে পালংখালী বিজিবির সদস্যরা নিয়মিত টহলদানকালে সীমান্তের নলবনিয়া এলাকায় অনুপ্রবেশকারী ২ জন রোহিঙ্গার গতিরোধ করার চেষ্টা করলে তারা বিজিবিকে লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করে। এ সময় বিজিবিও পালটা গুলি চালালে ঘটনাস্থলে ২ জন রোহিঙ্গা মারা যায়। বিজিবি তাদের কাছ থেকে ২ রাউন্ড কার্তুজ একটি দেশি বন্দুক ও ৪০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করে উখিয়া থানা পুলিশের নিকট হস্তান্তর করে।

উখিয়া থানার ওসি মুহাম্মদ আবুল মনসুর জানান, তিনি যোগদানের পর থেকে যে কটি মাদকের মামলা হয়েছে ঐসব মামলার অধিকাংশ আসামিই রোহিঙ্গা নাগরিক। উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যক্ষ হামিদুল হক চৌধুরী বলেন, কতিপয় এনজিওর আশ্রয় প্রশ্রয়ে থাকা বেশ কিছু রোহিঙ্গা নাগরিক দেশটাকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে ঠেলে দিচ্ছে। এখন পাড়া মহল্লায় হাত বাড়ালেই ইয়াবা পাওয়া যাচ্ছে। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কথা কাটাকাটির জের ধরে খুন হচ্ছে। বলতে গেলে ইয়াবার কারণে নারীর প্রতি সহিংসতাসহ সব ধরনের অপরাধ প্রবণতা বেড়েছে আশঙ্কাজনক হারে।

উখিয়ার ক্যাম্প পালানো ৭ রোহিঙ্গা আটক

গতকাল বৃহস্পতিবার ভোর রাতে ইনানী পুলিশের অস্থায়ী ফাঁড়ির পুলিশ সদস্যরা সিএনজি, টমটম গাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে উখিয়া ক্যাম্প থেকে পালানো ৭ জন রোহিঙ্গাকে আটক করেছে। তাদের মধ্যে ৩ জনকে ক্যাম্পে ফেরত পাঠানো হয়েছে। অপর ৪ জন রোহিঙ্গার বিরুদ্ধে মামলা থাকায় তাদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

জানা গেছে, রোহিঙ্গাদের নিয়ন্ত্রণে কাঁটাতারের বেড়ার নির্মাণ কাজ শুরুর পর থেকেই রোহিঙ্গাদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। অনেকে মনে করছেন, তাদেরকে প্রশাসন কাঁটাতারের বেড়ার বাইরে মোটেও যেতে দেবে না। এরপর থেকে প্রায় প্রতিদিনই রোহিঙ্গারা সপরিবারে ক্যাম্প থেকে পালাচ্ছে।