ভাড়াটিয়া এনামুলকে খুঁজছে পুলিশ

আপডেট : ২৭ ডিসেম্বর ২০১৯, ২২:১৪

ভাটারায় শিশু আয়েশাকে গলাটিপে হত্যা

ইত্তেফাক রিপোর্ট

রাজধানীর ভাটারার বারবিঘা এলাকায় নিখোঁজ হওয়ার পর হাত-পা বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার হওয়া শিশু আয়েশা আক্তারকে (৭) গলাটিপে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ময়নাতদন্তকারী চিকিত্সকরা। এ ঘটনায় পুলিশ ঐ বাসার এনামুল নামে এক ভাড়াটিয়াকে খুঁজছে।  পুলিশের ধারণা, ঐ ভাড়াটিয়াকে গ্রেফতার করা গেলেই হত্যার কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ঘটনায় গতকাল নিহতের বাবা ইয়াসিন মুন্সী বাদী হয়ে ভাটারা থানায় মামলা দায়ের করেছেন।

আয়েশার বাবা ইয়াসিন মুন্সী জানান, বুধবার বিকাল থেকে শিশুটি নিখোঁজ ছিল। সন্ধ্যায় তাদের বাসার ভাড়াটিয়া এনামুলের খাটের নিচ থেকে আয়েশার হাত-পা বাঁধা, গলায় কাপড় প্যাঁচানো ও মুখে কাপড় গোজা অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরে শিশুটিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিত্সক মৃত ঘোষণা করেন। এক ভাই এক বোনের মধ্যে ছোটো আয়েশা প্রথম শ্রেণিতে পড়ত।

ভাটারা থানার ওসি মো. মুক্তারুজ্জামান বলেন, ধারণা করা হয়েছিল ধর্ষণের জন্য শিশুটিকে হত্যা করা হতে পারে। কিন্তু, প্রাথমিকভাবে ধর্ষণের আলামত পাওয়া যায়নি। পূর্ব শত্রুতা বা অন্য কোনো কারণও পাওয়া যায়নি। শিশুটির বাবা একটি হত্যা মামলা করেছেন। পুলিশ ঐ বাসার ভাড়াটিয়া এনামুলসহ অন্যদের গ্রেফতারের চেষ্টা করছে। তাদের গ্রেফতার করা গেলে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে জানা যাবে। পাশাপাশি ধর্ষণের বিষয়টি মেডিক্যাল রিপোর্ট পাওয়ার পর নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব হবে।

এ বিষয়ে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের প্রধান ডা. সোহেল মাহমুদ জানান, শিশুটির গলায় নখের আচড়ের চিহ্ন রয়েছে। তার হাত বাঁধা হয়েছিল এরকম চিহ্ন রয়েছে। মুখেও কিছু ঢুকানো হয়েছিল এরকমও চিহ্ন পাওয়া গেছে। তবে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে এটি স্পষ্ট। তিনি আরো জানান, হত্যার আগে শিশুটিকে ধর্ষণ করা হয়েছিল কিনা তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এজন্য আলামত সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে। শিশুটির চাচা ইদ্রিসুর রহমান বলেন, ভাটারার বারবিঘা এলাকার একটি কবরস্থানে শিশুটিকে দাফন করা হয়েছে।