‘তিনি ছিলেন নিরহংকারী, বিনয়ী’
ইত্তেফাক রিপোর্ট
তারা সবাই মুরিদ ছিল। যাতায়াত করত রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল এলাকার শান্তিনিকেতনে চট্টগ্রামের শফি মাইজভান্ডারির অনুসারী শাহ মো. তবারক হোসেনের বাড়ির চতুর্থ তলার ফ্ল্যাটে। মাইজভান্ডারির কাছে অনেক টাকা-পয়সা দেখে লোভে পড়ে যায়। পরে পরিকল্পনা অনুযায়ী তারা শাহ তবারক মাইজভান্ডারিকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করে। লুট করে নিয়ে যায় নগদ টাকাসহ মূল্যবান জিনিসপত্র। ঘটনার একদিনের মাথায় পাঁচ খুনিকে শনাক্ত করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের পশ্চিম বিভাগ। গোয়েন্দা পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, তিন জনকে গোয়েন্দা নজরদারিতে রাখা হয়েছে। যে কোনো সময় তাদের গ্রেফতার করা হবে।
গত বুধবার ভোরে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চলের শান্তিনিকেতন এলাকায় নিজ বাসায় খুন হন শফি মাইজভান্ডারির অনুসারী ব্যবসায়ী শাহ মো. তবারক হোসেন (৭০)। এ ঘটনায় তার পালিত ছেলে সাইফুলও আহত হন। তবারক মহাখালীর মামা প্লাজার মালিক। শফি মাইজভান্ডারির অনুসারী হওয়ার সুবাদে তার বাসায় অনেক মুরিদ আসা-যাওয়া করত। তার গ্রামের বাড়ি কিশোরগঞ্জে।
পুলিশ কর্মকর্তারা জানান,গত বুধবার ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে তবারকের ফ্ল্যাটের কলিংবেল বাজায় দুর্বৃত্তরা। ভেতর থেকে সাইফুল দরজা খুলে দিলে পাঁচ দুর্বৃত্ত ভেতরে প্রবেশ করে। তারা সাইফুলকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তবারককে ছুরি দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করে। এরপর তারা আলমারি ভেঙে নগদ টাকাসহ মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে যায়। দুর্বৃত্তরা চলে যাওয়ার পর সাইফুল বিষয়টি প্রতিবেশী ও পুলিশকে জানালে পুলিশ সেখানে গিয়ে তবারককে উদ্ধার করে পাশের মেট্রোপলিটন হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিত্সক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
পুলিশ ঐ ভবনের নিরাপত্তা কর্মী রুহুল আমীন ও শাহ আলমকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে। তবে ঘটনার পর থেকে ঐ বাসার নিচতলায় বসবাস করা তবারকের মুরিদ হাসান পলাতক রয়েছেন। পুলিশ তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা করছে।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাস্থল থেকে একজন খুনির একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। ঐ ফোনের সূত্র ধরে অন্য খুনিদের শনাক্ত করা হয়। খুনিরা সবাই আগে থেকেই শাহ তবারকের বাসায় নিয়মিত যাতায়াত করত। তবারকের বাসায় নগদ টাকা রাখার বিষয়টি জানতে পেরে তারা ঐ টাকা লুট করার পরিকল্পনা করে। ঐ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে তিনটি ছুরি নিয়ে তারা ঐ বাসায় গিয়ে তবারককে হত্যার পর টাকাপয়সা নিয়ে পালিয়ে যায়।
