তুলসীগঙ্গায় ভাঙন

বিলীনের আশঙ্কায় শ্মশান ও মন্দির

আপডেট : ২৭ ডিসেম্বর ২০১৯, ২২:১৪

  আক্কেলপুর (জয়পুরহাট) সংবাদদাতা 

জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলা সদরের নবাবগঞ্জঘাট মহাশ্মশান, মন্দির ও সংলগ্ন দেবোত্তর সম্পত্তির অবকাঠামো তুলসীগঙ্গা নদীর ভাঙনে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। নদীর পাড়ে আরসিসি পাইলিং রিটেইনিং ওয়াল ও ব্লক না থাকায় প্রতি বছর মন্দির ও শ্মশান প্রাঙ্গণ ভেঙে যাচ্ছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) আওতায় ৩ লাখ টাকা বরাদ্দে শবদেহ সত্কারের জন্য নির্মাণাধীন চুল্লি যে কোনো সময় নদীতে বিলীন হতে পারে। জানা গেছে, আক্কেলপুর-জয়পুরহাট সড়ক থেকে প্রায় ২০০ গজ হেঁটে যাওয়ার পথটি গত বন্যায় চলাচল অনুপযোগী হয়ে যায়। তখন চরম বিপর্যয়ে পড়তে হয় শবদেহ নিয়ে যেতে। শ্মশানের এই সংকট ও দুর্ভোগ নিরসনে হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ কর্তৃপক্ষকে জানিয়েও কোনো সুফল পাননি।

নবাবগঞ্জঘাট মহাশ্মশান, দেবোত্তর ও সমাজ কল্যাণ সংঘের সাধারণ সম্পাদক সুশীল কুমার আগরওয়ালা জানান, আক্কেলপুর ও নওগাঁ জেলার বদলগাছী উপজেলার কয়েক হাজার হিন্দু ও মারোয়ারী জনগোষ্ঠীর শবদেহ দাহ ও সমাধি দেওয়ার একমাত্র জায়গা এই মহাশ্মশান। পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে শ্মশান ও মন্দির রক্ষায় লিখিতভাবে আবেদন করা হয়েছে।

আক্কেলপুর পূজা উদ্যাপন পরিষদের সভাপতি অ্যাডভোকেট রাজেন্দ্র প্রসাদ আগরওয়ালা বলেন, শ্মশান, মন্দির ও সংলগ্ন অবকাঠামো নদী ভাঙন থেকে রক্ষা করা প্রয়োজন। আক্কেলপুর উপজেলা হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি ওমপ্রকাশ আগরওয়ালা বলেন, এই মহাশ্মশান, মন্দিরের জায়গা নদীর ভাঙন থেকে রক্ষা করা দরকার। আক্কেলপুর পৌরসভার মেয়র গোলাম মাহফুজ চৌধুরী অবসর বলেন, হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের পবিত্র জায়গা শ্মশান ও মন্দির। তুলসীগঙ্গা নদীর ভাঙন থেকে রক্ষা করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা পৌরসভার পক্ষ থেকে নেওয়া হবে।

আক্কেলপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জাকিউল ইসলাম বলেন, শ্মশান ও মন্দির নদী ভাঙন থেকে রক্ষা করতে খুব শিগগিরই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। প্রয়োজনে পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলব।

জয়পুরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলী আব্দুল মুমিন বলেন, বাজেট পেলে তুলশীগঙ্গা নদীর ভাঙন থেকে শ্মশান ও মন্দিরকে রক্ষা করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।