চট্টগ্রামের ত্রাতা ইমরুল কায়েস

আপডেট : ২৭ ডিসেম্বর ২০১৯, ২২:১৬

সংক্ষিপ্ত স্কোর

ঢাকা প্লাটুন: ২০ ওভারে ১২৪/৯

চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স: ১৮.৪ ওভারে ১২৫/৪

ফলাফল: চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স ৬ উইকেটে জয়ী

ম্যাচ সেরা: ইমরুল কায়েস (চট্টগ্রাম)

স্পোর্টস রিপোর্টার

বঙ্গবন্ধু বিপিএলে অম্ল-মধুর সময় কাটছে ইমরুল কায়েসের। টুর্নামেন্টে ব্যাটসম্যান ইমরুলের মধুর সময় যাচ্ছে। রানের জোয়ার বইয়ে দিয়ে খবরের শিরোনাম হচ্ছে এই বাঁহাতি ওপেনার। ব্যাটের ছন্দের এই সময়েও ইমরুলকে নাড়াচ্ছে মাঠের বাইরের বিষয়। তাও জাতীয় দলের ঘটনা। ভারত সফরে টেস্ট সিরিজে ভালো করেননি ইমরুল। যা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলছে ঠাট্টা-হাস্যরস।

‘ইমরুল ব্রো’ নামেই তাকে ডাকা হচ্ছে। ‘আমরা ইমরুল ব্রোর পাগলা ফ্যান’ নামক গ্রুপও আছে ফেসবুকে। আর ঐ সব গ্রুপের রসিকতার জবাব জানতে সংবাদ সম্মেলনেও প্রশ্ন ছুঁটে আসছে ইমরুলের দিকে। কয়েকবার এসব না করার অনুরোধ জানালেও গতকাল এই ওপেনার রীতিমতো ‘ডাক’ করেছেন। বলেছেন, ‘মানুষ যদি বলে মজা পায়, তাহলে সমস্যা নেই। আমাকে ভালোবেসে ইমরুল ব্রো ডাকে, ডাকুক।’

সংবাদ সম্মেলন কক্ষে আসার আগে গতকাল ২২ গজেও অনেক বলে সুস্থির ছিলেন ইমরুল এবং তা এই ব্যাটসম্যানকে এনে দিয়েছে বিপিএলে তৃতীয় হাফ সেঞ্চুরি, তার দল চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সকে পাইয়ে দিয়েছে দারুণ জয়।

মিরপুর স্টেডিয়ামে লো স্কোরিং ম্যাচে ঢাকা প্লাটুনের বিপক্ষে চট্টগ্রামের ত্রাতা হয়েই ধরা দিয়েছিলেন তিনি। মাহমুদউল্লাহর অবর্তমানে চট্টগ্রামের অধিনায়কত্ব করা ইমরুল খেলেছেন ‘ক্যাপ্টেনস নক’। ব্যাটিংয়ে কান্ডারির ভূমিকায় ছিলেন তিনি। ৫৩ বলে অপরাজিত ৫৩ রান করেছেন তিনি। ম্যাচ সেরার পুরস্কারও উঠেছে তার হাতে। ৮ ম্যাচে ২৮৯ রান এখন ইমরুলের ঝুলিতে।

গতকাল তার হাফ সেঞ্চুরিতে ঢাকাকে ৬ উইকেটে পরাজিত করেছে চট্টগ্রাম। আট ম্যাচে এটি তাদের ষষ্ঠ জয়। এই জয়ে প্লে-অফে খেলা অনেকটাই নিশ্চিত করল দলটি। সাত ম্যাচে ঢাকার এটি তৃতীয় হার।

গত কয়েকদিনের আবহাওয়ার কারণে শেরেবাংলার উইকেট বেশ আর্দ্র ছিল। টসে হেরে আগে ব্যাট করা ঢাকা ৯ উইকেটে ১২৪ রান তুলেছিল। তামিম-বিজয়ের ৩২ রানের ওপেনিং জুটি ভাঙে ষষ্ঠ ওভারে ওয়ালটনের সরাসরি থ্রোয়ে বিজয় (১৪) রানে আউট হলে। প্লাঙ্কেটের করা ঐ ওভারের শেষ বলে মেহেদী হাসান (০) ফিরেন। তারপরই ছন্দপতন হয় ঢাকার। তামিম ২১, জাকের ৩ রান করে ফিরেন। আফ্রিদি, শাদাব রানের খাতাই খুলতে পারেননি। একবার জীবন পাওয়া থিসেরা পেরেরা ৬ রান করে ফিরেন। একপ্রান্ত আগলে ছিলেন মুমিনুল। ১৭তম ওভারে তিনি রানআউট হন ৩২ রান করে। তবে শেষ দিকে ওয়াহাব রিয়াজের ১৫ বলে ২৩, অধিনায়ক মাশরাফির ১২ বলে অপরাজিত ১৭ রানে ঢাকার স্কোর ১০০ পার হয়। চট্টগ্রামের মুক্তার আলী, রায়ান বার্ল ২টি করে, প্লাঙ্কেট-নাসুম ১টি করে উইকেট নেন।

টার্গেট ছোটো হলেও চট্টগ্রামকে কাঁপিয়েছেন মাশরাফিরা। ইমরুল এক প্রান্তে অবিচল থাকায় প্রতিপক্ষকে টলাতে পারেনি ঢাকা। তিনে নেমে দলের জয় নিশ্চিত করেই মাঠ ছেড়েছেন এই বাঁহাতি। তার ৫৪ রানের ইনিংসে ছিল ৫টি চার ও ২টি ছক্কা। ১৮.৪ ওভারে ৪ উইকেটে ১২৫ রান তুলে চট্টগ্রাম। সিমন্স ১৫, ওয়ালটন ২৫, বার্ল ১৩ ও নুরুল হাসান সোহান অপরাজিত ৫ রান করেন।  ঢাকার পক্ষে ওয়াহাব রিয়াজ ২টি, মাশরাফি-মেহেদী হাসান ১টি করে উইকেট পান।