স্পোর্টস রিপোর্টার
নতুনের কেতন উড়ছে বঙ্গবন্ধু বিপিএলে। মেহেদী হাসান রানা, হাসান মাহমুদ, মুকিদুল ইসলাম মুগ্ধরা নজর কেড়েছেন বল হাতে। তরুণ পেসারত্রয়ীকে নিয়েই আলোচনা সর্বত্র। রানা-হাসানদের প্রশংসার সময়ে কিছুটা আড়ালে পড়ে গেছে জাতীয় দলের পরীক্ষিত, নিয়মিত পেসারদের নাম। বিপিএলে বোলিংয়ে খারাপ করছেন না রুবেল হোসেন, মুস্তাফিজুর রহমান, আল-আমিন হোসেনরা। যদিও তাদের নিয়ে এখন আলোচনা খুব কমই হচ্ছে।
এখন পর্যন্ত সাত ম্যাচে আট উইকেট নিয়েছেন চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের রুবেল। কুমিল্লা ওয়ারিয়র্সের আল-আমিন হোসেন ছয় ম্যাচে সাত উইকেট পেয়েছেন। গতকালকের আগে পাঁচ ম্যাচে ছয় উইকেট রয়েছে মুস্তাফিজের দখলে। অবশ্য চলমান বিপিএলে নিজের এই পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট নন আল-আমিন। ডানহাতি এই পেসার কদিন আগেই ভারত সফরে খেলে এসেছেন।
বিপিএলে নিজের পারফরম্যান্স নিয়ে গতকাল অভিজ্ঞ এই পেসার বলেছেন, ‘আমি টি-টোয়েন্টি বোলার হিসেবে যে পারফরম্যান্স করে থাকি, এটা এখনো করতে পারিনি। এখনো ছয়টা ম্যাচ আছে , আশা করি আমি আমার ধারায় ফিরতে পারব।’ বিপিএলের প্রথম ম্যাচে ১৪ রানে তিন উইকেট নিয়েছিলেন তিনি।
কুমিল্লার এই পেসার আরো বলেছেন, ‘আমার কাছে মনে হয় খেলা গেছে মাত্র ছয়টা। চারটা ম্যাচ খুব ভালো হয়েছে, দুইটা ম্যাচ খারাপ গেছে। এখনো ছয়টা খেলা আছে, খুব বেশি খারাপ কিছু হয়নি।’
বিপিএলে অবশ্য বোলিংয়ে অনেক চ্যালেঞ্জ নিতে হচ্ছে—আল-আমিনকে। দলের প্রয়োজনে নতুন বলে, পুরোনো বলেও বোলিং করছেন তিনি। পরিস্থিতি অনুযায়ী বোলিং করার চ্যালেঞ্জটা নিচ্ছেন আল-আমিন। ডানহাতি এই পেসার বলেছেন, ‘জাতীয় দলে হয়তো নতুন-পুরোনো সব দলেই করি। সব ধরনের পরিস্থিতির জন্যই প্রস্তুত থাকতে হবে। অধিনায়ক যখন দেবে তখনই বোলিং করতে হবে। পরিস্থিতি অনুযায়ী ভালো করাটাই চ্যালেঞ্জ। হয়তো চ্যালেঞ্জটা কখনো সফল হচ্ছি, কখনো হচ্ছি না। চেষ্টা করব যে কোনো পরিস্থিতিতে আরো ভালো কিছু করার যাতে দলের জয়ে কাজে আসে।’
সিনিয়র বোলার হিসেবে নিজের দায়িত্বটা উপভোগ করছেন আল-আমিন। যদিও বিপিএলে তার দল কুমিল্লার অবস্থান খুব সুবিধার নয়। ছয় ম্যাচ খেলে তাদের জয় মাত্র দুইটি, তারা হেরেছে চারটি ম্যাচ। তার পরও আল-আমিনের আশা ঢাকায় তৃতীয় পর্বে ঘুরে দাঁড়াবে কুমিল্লা। আজ মিরপুর স্টেডিয়ামে দিনের প্রথম ম্যাচে রাজশাহী রয়্যালসের মুখোমুখি হবে কুমিল্লা।
প্লে-অফে যাওয়ার সম্ভাবনা জানতে চাইলে আল-আমিন গতকাল বলেছেন, ‘আসলে সবার জন্যই চ্যালেঞ্জিং। সবার পাঁচ-ছয়টা করে ম্যাচ শেষ হয়েছে, আরো পাঁচ-ছয়টা করে আছে। অনেকে দুইটা, অনেকে তিনটা আবার অনেকে চারটাও জিতেছে। চট্টগ্রামে আমরা সবাই সামর্থ্য অনুযায়ী খেলতে পারিনি। উইকেট অনেক ভালো ছিল বোলাররা অনেক লড়াই করেছে। সবকিছু মিলিয়ে আমার মনে হয় সবাই প্রস্তুত। ঢাকায় ভালো কিছু আশা করতেছি।’
দাসুন শানাকা, ভানুকা রাজাপাকশে ফিরে গেছেন শ্রীলঙ্কা। কুমিল্লা শিবিরে যোগ দিয়েছেন উপুল থারাঙ্গা ও ডেভিড উইজে। আল-আমিনের আশা, দ্রুতই মানিয়ে নিবেন দলের নতুন সদস্যরা। নতুন করে অধিনায়ক ঠিক করতে হবে কুমিল্লা। এর আগে শানাকা ছিলেন দলের নেতৃত্বে। নতুন দুই বিদেশি ক্রিকেটারের বিপিএল খেলার অভিজ্ঞতা আছে। তাই কম্বিনেশনে বড়ো ব্যবধান হবে বলে মনে করেন না আল-আমিন।
