উচ্চশিক্ষায় অবারিত সুযোগ

আপডেট : ২৭ ডিসেম্বর ২০১৯, ২২:৩১

উচ্চমাধ্যমিক বা এইচএসসি শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই প্রতিটি ছাত্রছাত্রীর স্বপ্ন থাকে উচ্চশিক্ষায় নিজের জায়গা করে নেওয়ার। আর বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগ রয়েছে অবারিত। বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষার আসনসংখ্যা চাহিদার তুলনায়ও অনেক বেশি। পছন্দের প্রতিষ্ঠানে ভর্তির সুযোগ না হলেও উচ্চশিক্ষায় ভর্তির সুযোগ সবারই হয়। 

দেশে এখন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা ৪৭টি। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ১০৫টি। বাংলাদেশে প্রতি বছর উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন দেখে সর্বোচ্চ ১০ লাখ শিক্ষার্থী। এইচএসসি পরীক্ষার পর উচ্চশিক্ষায় ভর্তির জন্য চেষ্টা শুরু হয়। প্রথমে পছন্দের তালিকায় থাকে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিক্যাল কলেজ। এর পরে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় বা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীভুক্ত শীর্ষ কলেজগুলোতে। ভালো বা পছন্দের প্রতিষ্ঠানে ভর্তির সুযোগ না পেলেও উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন পূরণ হচ্ছে সবারই।

আমিরুল ইসলামে নামে এক শিক্ষার্থীর বক্তব্য, উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন পূরণে প্রায় দেড়শ বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। এ কারণে আমাদের মেধা বিবেচনায় ভর্তির সুযোগ রয়েছে।

তথ্য অনুযায়ী, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের আসন ৬০ হাজার। মেডিক্যাল কলেজে সাড়ে ৩ হাজার।  বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে ১০৫টি। এগুলোর আসন দেড় লাখের বেশি।  জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক পাস ও সম্মান শ্রেণিতে আসন প্রায় ২০ লাখ।  ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের আসন প্রায় ৬০ হাজার। উচ্চশিক্ষার সুযোগ রয়েছে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়েও। প্রায় ১ লাখের বেশি শিক্ষার্থীর উচ্চশিক্ষায় পড়ার সুযোগ রয়েছে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে।

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, স্নাতক পাস/সম্মান ও স্নাতক কারিগরি পর্যায়ে আসন ২১ লাখের বেশি। এর সঙ্গে যুক্ত হবে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আসন দেড় লাখ। তথ্য অনুযায়ী শূন্য থাকে প্রায় ১৩ লাখ আসন।

উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন পূরণ হলেও চাকরির স্বপ্ন সবার পূরণ হয় না। এ কারণে বাংলাদেশে শিক্ষিত বেকারের মধ্যে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারীদের বেকারত্বের হার সবচেয়ে বেশি। স্নাতক ডিগ্রিধারী বেকার প্রায় ৩৭ শতাংশ। স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী বেকার ৩৪ শতাংশ।

ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস এগ্রিকালচার অ্যান্ড টেকনোলজি (আইইউবিএটি)-এর উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবদুর রব এ বিষয়ে বলেন, যেসব ছাত্রছাত্রী ভর্তির যোগ্য অথচ আসনসংখ্যা সীমিত হওয়ার কারণে উচ্চশিক্ষা থেকে বঞ্চিত, তাদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য সরকার ১৯৯২ সালে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন প্রণয়ন করে। এই আইনের অধীনে বর্তমানে ১০৫টি বেসরকারি বিশ্বদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তিনি বলেন, সুযোগ-সুবিধার দিক দিয়ে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কোনো অংশেই সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিছিয়ে নেই। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের অবশ্যই যাচাই-বাছাই করে সব সুযোগ-সুবিধাসংবলিত একটি পূর্ণাঙ্গ ক্যাম্পাসে ভর্তি হতে হবে।

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. সেকেন্দার আলী বলেন, উচ্চশিক্ষার অবারিত সুযোগ অবশ্যই ভালো দিক। তবে মানের দিকেও আমাদের নজর দিতে হবে। শুধু উচ্চশিক্ষায় নয়। মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষার দিকে বেশি নজর দেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন এই শিক্ষক।