আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি বলেছেন, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিতর্কিত কাউকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হবে না। বিতর্কের ঊর্ধ্বে যারা আছেন, যাদের কোনো অপকর্মের রেকর্ড নেই, তাদের আমরা চয়েস করব। একসেপটেবল অ্যান্ড পপুলার ক্যান্ডিডেট, অর্থাত্ জনগণের কাছে জনপ্রিয় ও গ্রহণযোগ্য প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়ার জন্য আমাদের বোর্ড বসবে। সর্বাত্মকভাবে আমাদের নেত্রীরও ইচ্ছা ক্লিন ইমেজের প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়া।
গতকাল শুক্রবার দুপুরে ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় আওয়ামী লীগের নবনির্বাচিত সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন, শ্রমবিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান সিরাজ, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক ড. সেলিম মাহমুদ, উপ-দপ্তর সম্পাদক সায়েম খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। প্রসঙ্গত, দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়নের জন্য আবেদনপত্র ক্রয় করেছেন ২০ জন। এর মধ্যে উত্তরে ১২ জন এবং দক্ষিণে রয়েছেন আট জন।
ওবায়দুল কাদের বলেন, শনিবার (আজ) সন্ধ্যা ৬টায় গণভবনে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে দলের স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের সভা হবে। সেখানে দুই সিটির মেয়র ও ১৭২ জন কাউন্সিলর পদে মনোনয়ন চূড়ান্ত করা হবে। তিনি আরো বলেন, ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হারলেও তেমন কোনো ক্ষতি হবে না। এটা তো জাতীয় নির্বাচন নয় যে, নির্দিষ্ট সংখ্যক আসন না পেলে সরকার গঠন করা যাবে না। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে হারজিত হতেই পারে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তৃণমূলের যারা কমিটিতে এসেছেন তারাও এক সময় ছাত্ররাজনীতি করেছেন। নবীন-প্রবীণের সমন্বয়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে। বাকি সাত জনের নাম শিগগিরই ঘোষণা করা হবে। নতুন কমিটি হওয়ার পর ঢাকা সিটি করপোরেশনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। চাপ না থাকলেও এটা বড়ো একটা চ্যালেঞ্জ।
আওয়ামী লীগের নতুন কমিটিতে নারী-পুরুষ মিলিয়ে মোট ১৫ জন নতুন মুখ স্থান পেয়েছে জানিয়ে দলটির সাধারণ সম্পাদক বলেন, নতুন সদস্যরা শনিবার সকাল ৯টায় দলের সভানেত্রী শেখ হাসিনর নেতৃত্বে ধানমন্ডিতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানাবেন। এছাড়া ৩ জানুয়ারি টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন ও মিলাদ মাহফিল হবে। সেখানেই শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে নতুন কমিটির প্রথম বৈঠক হবে।
মেয়র পদে মনোনয়ন ফরম কিনলেন যারা
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে মনোনয়ন ফরম কিনেছেন: বর্তমান মেয়র আতিকুল ইসলাম, শহীদুল্লাহ ওসমানী (বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক), ইয়াদ আলী ফকির (সহ-সভাপতি ভাষানটেক থানা আওয়ামী লীগ), মো. জামাল ভূঁইয়া (১৫ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সদস্য), মো. কুতুবউদ্দিন (সহসভাপতি বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন), মো. ইদ্রিস আলী মোল্লা (আওয়ামী লীগের গ্রিস শাখার সহসভাপতি), সালাউদ্দিন মাহমুদ (সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক যুবলীগ), জেরিন সুলতানা কান্তা (সদস্য ধর্ম উপ-কমিটি), হেলেন জাহাঙ্গীর (আওয়ামী লীগ সমর্থক), আদম তমিজি হক (ব্যবসায়ী), খায়রুল মজিদ (যুবলীগ সম্পাদক) ও মিসেস রেহানা ফরহাদ (সদস্য, যুব মহিলা লীগ)।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে মনোনয়নের জন্য আবেদনপত্র কিনেছেন: অ্যাডভোকেট নজিবুল্লাহ হিরু (আইন সম্পাদক, আওয়ামী লীগ), ঢাকা-১০ আসনের এমপি ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস, বর্তমান মেয়র সাঈদ খোকন, ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হাজী সেলিম, মো. নাজমুল হক (উপদেষ্টা, শেখ রাসেল জাতীয় শিশু-কিশোর পরিষদ, ঢাকা মহানগর), এম এ রশিদ (মুক্তিযোদ্ধা কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের সাবেক মহাসচিব), আশরাফ হোসেন সিদ্দিকী (সভাপতি, বঙ্গবন্ধু পরিষদ) ও হাজী আবুল হাসনাত (সাবেক সভাপতি, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগ)।
