‘‘মাত্র ১০০ টাকা মজুরি পাই। আমরা চা-শ্রমিকরা খাইবো বা কিতা আর গরম কাপড় কিনবোই বা কিতা। মজুরি বাড়ারও কোনো আভাস দেখছি না। এই শীতে আমাদের বয়স্ক লোকদের বেশি কষ্ট হচ্ছে। কেউ কেউ আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণ করেন।’’ কথাগুলো বললেন কমলগঞ্জ উপজেলার আলীনগর চা-বাগানের শ্রমিক রাজদেও কৈরী।
সরেজমিন চা-বাগানসহ কয়েকটি এলাকা ঘুরে দেখা যায়, কনকনে শীত, কুয়াশা ও মৃদু বাতাসে গরম কাপড়ের অভাবে চা-বাগান শ্রমিক ও নিম্নআয়ের একটি বড়ো অংশ চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। বস্তি এলাকার নিম্নআয়ের লোক, চা-বাগান শ্রমিকদের পরিবারের ছেলে-মেয়ে ও বয়োজ্যেষ্ঠ পুরুষ-মহিলারা গরম কাপড়ের অভাবে দুঃখ-কষ্টে জীবনধারণ করছেন। অভাব-অনটনের সংসারে বাসস্থান সংকট, গরম কাপড়ের অভাব সব মিলিয়ে শীতে তাদের কষ্ট আরো একধাপ বাড়িয়ে দিয়েছে। ঠান্ডায় সর্দি, জ্বর, শ্বাসকষ্ঠ ও নিউমোনিয়া রোগের উপদ্রবও বাড়ছে। এসব পরিবারের সদস্যরা ঘরের ভেতরে ও বাইরে খড়খুটো দিয়ে আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন। উপজেলার আলীনগর, শমশেরনগর, দেওছড়া, কানিহাটি ও মুন্সীবাজারসহ বিভিন্ন চা-বাগান এবং শব্দকরসহ নিম্নআয়ের লোকদের সঙ্গে কথা বলে এ চিত্র দেখা যায়।
ডানকান ব্রাদার্স আলীনগর চা-বাগানের গোপাল রিকিয়াশন, শিউধনী রিকিয়াশন ও সুনছড়া বাগানের সুনীল বলেন, আমাদের চা-বাগানের গাঁ ঘেষাঘেষি কলোনীতে শ্রমিক পরিবারগুলোর অনটনের সংসার কোনোমতে সংসার চলছে। যে মজুরি পাওয়া যায় তা দিয়ে তিন বেলা খাবারই যোগান দায়।
চা-বাগান শ্রমিকরা বলেন, একজনের ৮৫ টাকা দৈনিক মজুরিতে পাঁচ, সাত সদস্যের পরিবারের সংসারে নুন আনতে পান্তা ফুরোয়। তিন বেলা ঠিক মতো খাবার যোগানোই সম্ভব নয়। তার ওপর গরম কাপড় যোগানো স্বপ্নের মতো মনে হয়। শীতে দরিদ্র পরিবারের লোকদের যে কত কষ্ট তা সবাই বুঝবে না। খড়কুটো বিছিয়ে কেউ কেউ ঘুমানোর ব্যবস্থা করেন। শমশেরনগর চা বাগানের ইউপি সদস্য সীতারাম বিন বলেন, গরম কাপড় আর অভাব-অনটনে চা-বাগানের শ্রমিকরা খুবই দুঃখ-কষ্টের মধ্যে রয়েছে।
