সাভারে ১২ ঘণ্টার ব্যবধানে পৃথক স্থান থেকে অজ্ঞাত এক নারী ও এক শিশুর বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। শিশুটিকে হত্যার অভিযোগে প্রতিবেশী এক দম্পতিকে আটক করেছে পুলিশ। গতকাল শনিবার সকালে সাভার পৌর এলাকার জামশিং থেকে অজ্ঞাত ঐ নারী এবং শুক্রবার রাতে উপজেলার হেমায়েতপুর জয়নাবাড়ি এলাকা থেকে শিশুটির মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত শিশুর নাম নাফিজা আক্তার (৭)। সে সাভারের হেমায়েতপুর জয়নাবাড়ি এলাকার হাবিবুল্লাহ নিপু ও ফাতেমা বেগম দম্পতির মেয়ে। নাফিজা স্থানীয় গোল্ডেন বাংলা স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। তবে অজ্ঞাত নারীর নাম পরিচয় জানাতে পারেনি পুলিশ। শিশুকে হত্যার ঘটনায় আটককৃতরা হলো—জামালপুরের সরিষাবাড়ি থানা এলাকার সোনালী বেগম (৩০) ও তার স্বামী মোকসেদুল ইসলাম (৩৮)। তারা সবাই সাভারের জয়নাবাড়ি এলাকার হাজী জাহাঙ্গীরের পাঁচতলা বাড়িতে ভাড়া থাকত।
পুলিশ জানায়, শনিবার সকালে সাভার পৌর এলাকার ১ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর জামশিং মহল্লার মৃত রমজান মোল্ল্যার পরিত্যক্ত নির্মাণাধীন ভবনের দেওয়ালের পাশে অজ্ঞাত পরিচয় ঐ নারীর (৩২) হাত ও মুখ বাঁধা অবস্থায় বস্তাবন্দি লাশ দেখতে পায় স্থানীয়রা। বিষয়টি সাভার মডেল থানায় জানানো হলে পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে প্রেরণ করে। সাভার মডেল থানার এসআই আলমগীর হোসেন বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে অজ্ঞাত ঐ নারীকে ধর্ষণের পর হত্যা করে লাশটি গুম করার জন্য বস্তায় ভরে ফেলে রেখে গেছে দুর্বৃত্তরা। নিহত ঐ নারীর মুখমণ্ডলে আগুনে পোড়ার দাগ রয়েছে। এ ঘটনায় সাভার মডেল থানায় মামলা করে নিহত নারীর নাম পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে। অন্যদিকে শুক্রবার রাতে সাভারের হেমায়েতপুর জয়নাবাড়ি এলাকার হাজী জাহাঙ্গীরের মালিকানাধীন পাঁচতলা বাড়ির একটি কক্ষের খাটের নিচ থেকে নাফিজা নামে সাত বছরের এক শিশুর বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
সাভার মডেল থানার এসআই এনামুল হক জানান, বৃহস্পতিবার শিশু নাফিজা নিখোঁজ হলে সন্ধান চেয়ে এলাকায় মাইকিং করে তার স্বজনরা। শুক্রবার সাভার মডেল থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করা হয়। পরে ঐ বাড়ির ভাড়াটিয়া আটক দম্পতির ঘরের খাটের নিচ থেকে শিশুটির বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করা হয়। তিনি আরো বলেন, মাস খানেক আগে নিহত শিশুর মায়ের কাছ থেকে ৩ হাজার টাকা ধার নেয় আটককৃতরা। পাওনা টাকা চাইলে ক্ষিপ্ত হয়ে এ হত্যাকাণ্ডটি ঘটাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সাভার মডেল থানার ওসি এএফএম সায়েদ জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক দম্পতি হত্যার কথা স্বীকার করেছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা করে লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যালে পাঠানো হয়েছে।
