আন্তর্জাতিক টি-২০ তে ৪৬ ম্যাচে সৌম্য সরকারের হাফ সেঞ্চুরি একটি। সেটা প্রায় বছর দেড়েক আগে। অভিষেকের তিন বছর পর এসেছিল সবেধন নীলমনি হাফ সেঞ্চুরি। ঘরোয়া টি-২০ তেও সুবিধার নয় এই বাঁহাতির ব্যাটিং রেকর্ড। গতকালই যেমন বিপিএলের ইতিহাসে নিজের দ্বিতীয় হাফ সেঞ্চুরি করেছেন সৌম্য!
অবাক করা হলেও এটাই সত্য যে, বিপিএলে ব্যাটসম্যান সৌম্য বরাবরই বিবর্ণ। প্রায় চার বছর পর বিপিএলে হাফ সেঞ্চুরি পেলেন তিনি। ম্যাচের হিসাবে তা ৪৪ ম্যাচ।
এর আগে ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে রংপুর রাইডার্সের হয়ে চিটাগং ভাইকিংসের বিপক্ষে ৫৮ রান করেছিলেন সৌম্য। দুই হাফ সেঞ্চুরির মাঝে ৪৪ ইনিংসে তার ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ছিল ৪১ রান।
গতকাল মিরপুর স্টেডিয়ামে অবশ্য সৌম্যকে দেখা গিয়েছে চেনা ছন্দে। ৪৮ বলে অপরাজিত ৮৮ রানের ইনিংস খেলেছেন। ইনিংসে ছিল ৫টি চার ও ৬টি ছক্কা, দৃষ্টিনন্দন সব শটস খেলেছেন এই বাঁহাতি। ব্যাট হাতে সৌম্যর দুরন্তপনাতেও শেষ রক্ষা হয়নি তার দল কুমিল্লা ওয়ারিয়র্সের। গতকাল দিনের প্রথম ম্যাচে রাজশাহী রয়্যালসের কাছে ১৫ রানে হেরে গেছে কুমিল্লা। ছয় ম্যাচে রাজশাহীর এটি পঞ্চম জয়। সাত ম্যাচে কুমিল্লার এটি পঞ্চম হার।
রাজশাহীর জয়ে বড়ো অবদান পাকিস্তানি অভিজ্ঞ ক্রিকেটার শোয়েব মালিকের। ব্যাটিংয়ে ৬১ রানের সঙ্গে বোলিংয়ে ১ উইকেট নিয়েছেন তিনি। ম্যাচ সেরাও হয়েছেন তিনি। শোয়েব মালিক, আফিফ হোসেন, আন্দ্রে রাসেলের ব্যাটে ৪ উইকেটে ১৯০ রানের বড়ো স্কোর গড়েছিল টসে হেরে ব্যাট করা রাজশাহী।
লিটন-আফিফের ওপেনিং জুটি ভেঙেছিল ৫৬ রানে। দুইজনই ভালো শুরু করেও ইনিংস বড়ো করতে পারেননি। লিটন ২৪ রানে ফেরেন। দশম ওভারে আউট হওয়ার আগে আফিফ খেলেছেন ৩০ বলে ৪৩ রানের (৬ চার, ১ ছয়) ইনিংস। রবি বোপারা (১০) স্থায়ী না হলেও শোয়েব মালিক ও অধিনায়ক আন্দ্রে রাসেল টেনে গেছেন রাজশাহীকে। তাদের ব্যাটেই বড়ো স্কোর পায় দলটি। শোয়েব মালিক ৩৮ বলে ৫টি চার ও ৩টি ছক্কায় ৬১ রান করেছেন। আন্দ্রে রাসেল ২১ বলে চার ছক্কায় ৩৭ রানে অপরাজিত ছিলেন। কুমিল্লার মুজিব, সৌম্য, সানজামুল ১টি করে উইকেট পান।
রান তাড়া করতে নেমে ৪ উইকেটে ১৭৫ রানের বেশি যেতে পারেনি কুমিল্লা। ২৯ রানেই ২ উইকেট হারিয়ে বসে দলটি। রবিউল ১২, ভ্যান জাইল ২১ রান করেন। অধিনায়ক মালান ফেরেন ৩ রান করে। সৌম্য-সাব্বিরের জুটি ৫২ রান যোগ করে। কিন্তু পরিস্থিতির দাবি মেটাতে পারেনি সাব্বিরের ব্যাট। ২৩ বলে ২৫ রান করেন সাব্বির। অপরপ্রান্তে একাকি লড়াইটা চালিয়ে গেছেন সৌম্য। রান-বলের দূরত্ব বেশি হওয়ায় তীরে তরী ভেড়াতে পারেননি তিনি। অপরাজিত ৮৮ রানের ইনিংসে মেরেছেন ৫টি চার ও ৬টি ছক্কা। ডেভিড উইজ ৬ বলে অপরাজিত ১৬ রান করেন। রাজশাহীর রাসেল, ইরফান, ফরহাদ রেজা ও শোয়েব মালিক ১টি করে উইকেট নেন।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
রাজশাহী রয়্যালস: ২০ ওভারে ১৯০/৪
কুমিল্লা ওয়ারিয়র্স: ২০ ওভারে ১৭৫/৪
ফলাফল: রাজশাহী রয়্যালস ১৫ রানে জয়ী
ম্যাচ সেরা: শোয়েব মালিক (রাজশাহী)
