এরশাদের অবর্তমানে জাপার প্রথম কাউন্সিলে যাননি রওশন ও সাদ

আপডেট : ২৮ ডিসেম্বর ২০১৯, ২২:৫১

জাতীয় পার্টির (জাপা) প্রতিষ্ঠাতা এইচ এম এরশাদের মৃত্যুর পর দলটির প্রথম কেন্দ্রীয় কাউন্সিলে যাননি তার স্ত্রী ও সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ। গত ১৪ জুলাই এরশাদের মৃত্যুর পর তার রংপুর-৩ আসনে সংসদ সদস্য হওয়া ছেলে রাহগির আল মাহী সাদও (সাদ এরশাদ) যাননি কাউন্সিলে। তাদের অনুপস্থিতিতেই কাউন্সিলে রওশনকে দলের চেয়ারম্যানের ঊর্ধ্বে মর্যাদা দিয়ে তবে ক্ষমতাহীন ‘প্রধান পৃষ্ঠপোষক’ পদ দেওয়া হয়েছে। আর এরশাদের মতোই সর্বময় ক্ষমতা নিজের হাতে রেখেই চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন এরশাদের ছোটো ভাই জি এম কাদের। মহাসচিব পদে মসিউর রহমান রাঙ্গা বহাল রয়েছেন।

গতকাল শনিবার রাজধানীর রমনায় ইনস্টিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ-আইইবিতে অনুষ্ঠিত জাপার নবম জাতীয় সম্মেলনে উপস্থিত থাকা দলটির কয়েকজন নেতা ইত্তেফাককে জানান, শারীরিক অসুস্থতার কারণে রওশন কাউন্সিলে আসতে পারেননি। কাউন্সিলের মূল মঞ্চ বা সম্মেলনের ব্যানারগুলোতেও রওশনের ছবি ঠাঁই পায়নি। এরশাদের ছবির পাশাপাশি ভাই জি এম কাদেরের ছবি শোভা পায় ব্যানারে। তবে রওশনের ঘনিষ্ঠজনরা জানান, মূলত অভ্যন্তরীণ বিবাদের কারণেই সম্মেলনে আসেননি ক্ষুব্ধ রওশন।

সম্মেলন শেষে গতকাল রাতে ইত্তেফাকের সঙ্গে আলাপকালে রওশন এরশাদ বলেন, ‘না, শরীর খারাপ না। আমি ভালো আছি।’ কাউন্সিলে না যাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কাউন্সিল হয়েছে ভালো কথা। আর কিছু বলতে চাই না। ঠিক আছে।’

সম্মেলনের কাউন্সিল অধিবেশনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার শেখ সিরাজুল ইসলাম ‘প্রধান পৃষ্ঠপোষক’ পদে রওশন এরশাদ এবং চেয়ারম্যান পদে জি এম কাদেরের নাম ঘোষণা করেন। কাউন্সিলর ও প্রতিনিধিরা সমস্বরে তাতে সমর্থন দেন। দুই পদে তাদের কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় উপস্থিত কাউন্সিলরদের হাত তুলে জানানো সমর্থনেই প্রস্তাবটি পাস হয়ে যায়।

শেখ সিরাজের ঘোষণার পর জাপার গঠনতন্ত্রের নিয়ম অনুযায়ী দলের একচ্ছত্র ক্ষমতার মালিক চেয়ারম্যান জি এম কাদের মহাসচিব পদে মসিউর রহমান রাঙ্গার নাম ঘোষণা করেন। এতেও হাত তুলে সমর্থন দেন কাউন্সিলররা।

কাউন্সিলরদের শেখ সিরাজ জানান, জাপার গঠনতন্ত্রে প্রধান পৃষ্ঠপোষকের পদ ছাড়াও নতুন করে সৃজন করা হয়েছে অতিরিক্ত মহাসচিবের পদ। দেশের আটটি বিভাগে আট জন অতিরিক্ত মহাসচিব থাকবেন। এছাড়াও পাঁচ জন থাকবেন কো-চেয়ারম্যান। অতিরিক্ত মহাসচিব, কো-চেয়ারম্যান ও প্রেসিডিয়ামসহ কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি পরে জাপার চেয়ারম্যান ঘোষণা করবেন।

জি এম কাদেরের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে সেপ্টেম্বরে রওশনকে দলের চেয়ারম্যান ঘোষণাকারী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদও গতকালের কাউন্সিলে উপস্থিত ছিলেন। তিনি মঞ্চে বসেন জি এম কাদেরের ডানের আসনটিতে। একাদশ সংসদ নির্বাচনের কয়েক দিন আগে মহাসচিবের পদ হারিয়ে দলে এতদিন নিষ্ক্রিয় থাকা এবি এম রুহুল আমিন হাওলাদারও গেছেন, তিনি বসেন বর্তমান মহাসচিব রাঙ্গার বাম পাশের আসনে। এছাড়াও মঞ্চে বসেন প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ, জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু, মুজিবুল হক চুন্নু, সালমা ইসলাম, সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা, অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন খান, ফখরুল ইমাম, মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী, নাসরিন জাহান রত্না, সাহিদুর রহমান টেপা, সাইফুদ্দিন আহমেদ মিলন, লিয়াকত হোসেন খোকা, মেজর (অব.) খালেদ আখতার, এস এম ফয়সল চিশতী, মীর আব্দুস সবুর আসুদ প্রমুখ।

সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যে জি এম কাদের বলেন, জাপার ফের ক্ষমতায় আসার পথ সুগম করতে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের প্রস্তুত থাকতে হবে। নেতাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, এ দলের মালিকানা আপনাদের। একে রক্ষণাবেক্ষণ-প্রতিপালন করার দায়িত্ব আপনাদের। দলের ভালো হলে আপনাদের ভালো, দলের ক্ষতি হলে আপনাদের ক্ষতি, একথাটি অন্তরে ধারণ করবেন। যখন যে অবস্থায় থাকবেন দলের কথা বলবেন। সবসময় দলকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবেন। কাউন্সিলে দলের গঠনতন্ত্রে কিছু সংশোধনী আনা হয়। এছাড়া জাতীয় তরুণ পার্টি, মোটরযান শ্রমিক পার্টি ও জাতীয় শ্রমিক পার্টিকে জাপার অঙ্গসংগঠনের মর্যাদা দেওয়া হয়েছে।