ফেডারেশন কাপের প্রথম দুই ম্যাচ ড্র করে খাদের কিনারে চলে গিয়েছিল মোহামেডান। শেষ আটের আশা বাঁচিয়ে রাখতে জয় ছাড়া উপায় ছিল না সাদা-কালোদের? বাঁচা-মরার ম্যাচে উত্তর বারিধারাকে ১-০ গোলে হারিয়ে নিজেদের কাজটা সেরে রাখল কোচ শন লেনের দল।
গতকাল শনিবার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে দিনের প্রথম ম্যাচে শুরুতেই এগিয়ে গিয়েছিল মোহামেডান। অষ্টম মিনিটে বারিধারা ডিফেন্ডার বাপ্পি হাসানের ভুল ব্যাকপাস ধরে গোলরক্ষক আজাদ হোসেনকে একা পেয়ে সহজ গোলটি করেন মোহামেডান ফরোয়ার্ড সলোমন ডায়াবেট। ম্যাচের বাকি অংশে থাকল কেবল দুই দলের সুযোগ নষ্টের মহড়া।
১৫ মিনিটে মোহামেডানের জোড়া শট প্রতিহত হয় বারিধারা রক্ষণে। এর মিনিট তিনেক পর প্রতি আক্রমণে ওঠা বারিধারার সুযোগ নষ্ট করেন বিশাল দাশ। ২৩ মিনিটে আবারও মোহামেডানের মিস। এবার শট ছিল মোহাম্মদ মিঠুর।
৩৮ মিনিটে সমতায় ফেরার আরো একটা সুযোগ পেয়েছিল বারিধারা। এবার প্রতিপক্ষ গোলরক্ষকের দৃঢ়তা, দুর্ভাগ্য আর নিজেদের ব্যর্থতার মিশেল গোল পেতে দেয়নি দলটিকে। পাপন সিংয়ের ক্রসে করা আরিফ হোসেনের হেড রুখে দেন মোহামেডান গোলরক্ষক মাজহারুল ইসলাম হিমেল। ফিরতি সুযোগে সামিন ইয়াসিরের শট ফিরল গোলপোস্টে লেগে। এরপর সিমন এজেওদিকার প্রয়াস বেরিয়ে যায় লক্ষ্যের অনেক বাইরে দিয়ে।
পিছিয়ে থেকে বিরতিতে যাওয়া বারিধারার পারফরম্যান্স এরপর ক্রমেই বিবর্ণ হয়েছে। আর মোহামেডান একের পর এক আক্রমণ শাণিয়েই গেছে। তবে আক্রমণভাগের ব্যর্থতা আর কিছুটা দুর্ভাগ্য গোল পাওয়ার পথ আগলে দাঁড়ায় দলটির। ৭৬ মিনিটে স্ট্যানলি আমাদির প্রয়াস প্রতিহত হয় ক্রসবারে। এর মিনিট পাঁচেক পর ওবি মোনেকের শট উত্তর বারিধারা গোলরক্ষক ফেরান দারুণ রিফ্লেক্সে।
ম্যাচের শেষ সময়ে আবারও মোহামেডানের বাঁধা হয়ে দাঁড়ান গোলরক্ষক আজাদ। ওবি মোনেকের জোড়া শট রুখে দেন তিনি। তৃতীয়টা লক্ষ্যেই রাখতে পারেননি নাইজেরিয়ান মিডফিল্ডার। হলে সব সমীকরণ এড়িয়ে ‘ডি’ গ্রুপ থেকে সবার আগেই শেষ আট নিশ্চিত করতো মোহামেডান।
সেটা না হওয়ায় আক্ষেপ ঝরলেও নিজেদের পারফরম্যান্সকে পাশ নম্বরই দিলেন মোহামেডান কোচ শন লেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের আরো গোল করা উচিত ছিল। সেটা হয়ে গেলে আমরাই নকআউট খেলতাম। তা হয়নি, তবে দলের পারফরম্যান্স সন্তোষজনক। দলকে ১০ এ ছয় দেব আমি।’
আগের দুই ম্যাচে দুটো হলুদ কার্ড দেখায় এদিন মাঠে নামতে পারেননি উত্তর বারিধারা ফরোয়ার্ড ল্যান্ডিং ডার্বো। তাকে ছাড়াও তরুণ দলের পারফরম্যান্স মুগ্ধ করেছে বারিধারা কোচ আলফাজ আহমেদকে। তিনি বলেন, ‘কার্ড সমস্যায় ল্যান্ডিংকে পাইনি? পর্যাপ্ত বিদেশি খেলোয়াড় এখনো আসেনি আমাদের। তারপরও তরুণরা যেভাবে লড়েছে তা প্রশংসার যোগ্য।’
