মো. ইমরান হোসেন
শীতের প্রকোপে কাপছে পুরো দেশ! উত্তরের হিমেল হাওয়া আর কনকনে শীতে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক জনজীবন। শীতের তীব্রতায় বাড়ছে শাসকষ্ট, নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া ও সর্দিজ্বরের মতো শীতজনিত রোগ। সরকারি হিসাবেই, গত ১ ডিসেম্বর থেকে প্রথম ৫০ দিনে ২ লাখ ৩৮ হাজার ৬৮৩ জন মানুষ শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে চিকিত্সাসেবা নিয়েছেন। এই ৫০ দিনেই শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ৪৯ জনের। কিন্তু এর বাইরেও আছে আরো করুণ চিত্র! দারিদ্র্যতার কারণে কত মানুষ যে চিকিত্সাসেবা নেওয়ারও সাহস করে না—তার হিসেব করা মুশকিল!
শীতের কারণে সবচেয়ে ঝুঁকিতে আছেন দেশের দরিদ্র মানুষ। সরকারি হিসাবেই দেশের এক-চতুর্থাংশ মানুষ এখনো দরিদ্র। আর চরম দারিদ্র্যতায় আছেন প্রায় ১১.৪% মানুষ!
এই দরিদ্র মানুষেরা শীতকালে থাকেন অবর্ণনীয় কষ্টে। খড়কুটো জোগাড় করে আগুন জ্বালিয়েই তারা শীত নিবারণ করেন। অনেক সময় অন্যদের ব্যবহার করা পুরোনো ও ছেঁড়াফাটা শীতবস্ত্র সংগ্রহ করে অতিকষ্টে শীতকাল পার করেন। সকাল হলেই সূর্যের অপেক্ষা করতে থাকেন। কিন্তু সূর্য না উঠলে তো তাদের কষ্টের সীমা থাকে না।
শীতকালে পরিবারের শিশু ও বৃদ্ধরা থাকেন বেশি কষ্টে। আসন্ন জানুয়ারিতেই শিশুদের নতুন বছরের ক্লাস শুরু হবে। নতুন বই আর নতুন উদ্দীপনায় শিশুরা স্কুলে যাবে। কিন্তু দরিদ্র পরিবারের শিশুদের সেই আনন্দ ম্লান করে দিবে চরম শীত। শোনা যাচ্ছে, জানুয়ারির শুরুতেই আরেকটা শৈত্যপ্রবাহ আসবে। তখন এই দরিদ্র শিশুদের যদি গরম পোশাক না জোটে, তবে তাদের স্কুলে যাওয়া হয়ে পড়বে অনিশ্চিত ও আশঙ্কার। এই শীতার্ত শিশুদের প্রতি দৃষ্টি দেওয়ার মূল দায়িত্ব সমাজের ধনাঢ্যদেরই। তার পাশাপাশি সকলকেই ভূমিকা নিতে হবে সাধ্যমতো।
প্রতি শীতেই সামাজিক সংগঠনগুলোকে শীতবস্ত্র বিতরণ করতে দেখা যায়। অনেক হূদয়বান ব্যক্তি নিজ উদ্যোগেই এই কাজগুলো করে যান। যারা এই মানবিক কাজগুলোতে সংশ্লিষ্ট থাকছেন, তাদের সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। কিন্তু প্রতিবছর যত সাহায্য দেখি, তা অসহায় মানুষদের জন্য যথেষ্ট নয়। আমাদের ভাবতে হবে এ দেশের সাড়ে এগারো শতাংশ মানুষ এখনো চরম দরিদ্র। তার মানে ১ কোটি ৯০ লক্ষের মতো মানুষ এমন দুরবস্থায় আছেন। আমাদের সবার আশপাশেই এমন দরিদ্র মানুষ যথেষ্ট রয়েছেন, যারা এই তীব্র শীতে গরম পোশাকের অভাবে মানবেতর জীবনযাপন করতে বাধ্য হচ্ছেন। তাই আসুন, আমরা সাধ্যমতো তাদের পাশে দাঁড়াই।
শীতার্ত মানুষদের শীতবস্ত্র দিয়ে ন্যূনতম মানবিক দায়িত্ব পালন করি। দরিদ্র পরিবারগুলোর জন্যে কম্বলের ব্যবস্থা করি। আসুন, আমরা স্কুলগামী দরিদ্র শিশুদের জন্য গরম পোশাকের ব্যবস্থা করে নতুন বছরের আনন্দ ওদের মাঝেও ছড়িয়ে দেই।
সর্বোপরি সকলের আন্তরিক সহায়তায় স্বাভাবিক হয়ে উঠুক শীতার্তদের জীবন—এই প্রত্যাশা থাকল।
n লেখক :শিক্ষার্থী, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
