পল্লবীর বাউনিয়া বাঁধ পোড়া বস্তিতে হাজার মানুষ খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছে। অগ্নিকাণ্ডের পর স্থানীয় রাজনীতিবিদ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহযোগিতা প্রদানের আশ্বাস দেওয়া হলেও তাদের কপালে সামান্য চাল ও একখানা কাপড় ছাড়া এখনো কিছুই জোটেনি। গতকাল দুপুরে বাউনিয়া বাঁধ বস্তিতে গিয়ে দেখা যায়, বস্তির চারপাশে আগুনে পোড়া জিনিসগুলো গোছানো আছে। আগুনে ভস্ম হয়ে যাওয়া বস্তিতে এখনো পোড়া গন্ধ রয়েছে। আগুন কেড়ে নিয়েছে ঐ বস্তিতে থাকা ১ হাজার লোকের মাথা গোঁজার ঠাঁই। আবার কবে মাথা গোঁজার ঠাঁই হবে সেই দুশ্চিন্তায় দিন পার করছেন নিম্ন আয়ের অসহায় মানুষগুলো।
বস্তির বাসিন্দা সোমা বেগম জানান, তাদের গ্রামের বাড়ি ভোলা জেলার বোরহানউদ্দিন এলাকায়। ৫ বছর আগে এলাকায় নদী ভাঙনের শিকার হয়ে স্বামী ও দুই সন্তানকে নিয়ে তিনি এই বস্তিতে ঠাঁই নিয়েছিলেন। বৃহস্পতিবার আগুনে সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। তিনি বলেন, ‘গ্রামের বাড়ি নদী খেয়েছে আর বস্তির ঘরটি পুড়ল আগুনে। তার আর কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই।’ বস্তির মধ্যখানে পুড়ে যাওয়া ঘরের বাসিন্দা সাবেরা বেগম বলেন, ‘স্বামীকে বিদেশ পাঠাব বলে একটি এনজিও থেকে ২ লাখ টাকা উঠিয়েছিলাম। ঐ টাকা আগুনে পুড়ে গেছে।’ বস্তির বাম পাশের বাসিন্দা বাসের চালক মিলন শেখ জানান, ‘আগুনে ঘরের মধ্যে থেকে শুধু প্রাণ নিয়ে বের হয়ে এসেছি। এখন শরীরে কাপড় ছাড়া কিছুই নেই। সহায় সম্বলহীন হয়ে গেছি। ’
খাইরুল ইসলাম নামে এক রিকশাচালক জানান, স্থানীয় লোকজনের পক্ষ থেকে সকাল ও দুপুরে খিচুড়ি দেওয়া হচ্ছে। আগুনের ঘটনার পর থেকে এখানে অনেক সরকারি লোকজন এসেছিল। তারা অনেক কিছু দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো কিছুই পাওয়া যায়নি।
পল্লবী থানার ওসি নজরুল ইসলাম জানান, বস্তির মালপত্র যাতে কেউ লুটপাট করতে না পারে এজন্য সেখানে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ১টার দিকে পল্লবীর বাউনিয়া বাঁধের বস্তির বামপাশের একটি ঘর থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। এতে প্রায় ১০০টি ঘর পুড়ে যায়। ফায়ার সার্ভিসের ১১টি ইউনিট প্রায় ৫ ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
