সবজি

মূলা

আপডেট : ২৯ ডিসেম্বর ২০১৯, ১৯:১৪

শীতকালীন সবজির মধ্যে সর্বপ্রথম বাজারে আসে মূলা। বাংলাদেশের মাটি মূলা উত্পাদনের জন্য বেশ মানানসই। শীতকালীন জনপ্রিয় সবজির মধ্যে অন্যতমও বলা যায় একে। জাপানি আক্ষরিক অর্থে বৃহত্ মূল, চীনা ভাষায় সাদা গাজর আর এর বৈজ্ঞানিক নাম Raphanus sativus var।

হালকা গন্ধবিশিষ্ট, বড়ো ও সাদা রঙের মূল জাতীয় সবজি। আদি ভূমি কন্টিনেন্টাল এশিয়া। প্রচুর গুণ সমৃদ্ধ একটি সবজি, যা কাঁচা ও রান্না উভয়ভাবেই খাওয়া যায়। কাঁচা মূলা খেলে কফ ও পিত্ত বাড়ে। বাত, কাশি হিক্কা, যকৃত্ ও পাকস্থলী পরিষ্কারের জন্য মূলা উপকারী।

সালাদ হিসেবে নিয়মিত মূলাকেই বেছে নেওয়া যেতে পারে। শীত মৌসুমে সাদা, কালো এবং লাল রঙের বাহারি মূলা চোখে পড়ে। মূলায় রয়েছে প্রচুর ভিটামিন সি। মূলা ও তার পাতা পুরাতন জন্ডিস সারায়, রক্তে অক্সিজেন বাড়ায়, হূদযন্ত্রকে সুরক্ষা দেয়, রক্তনালি শক্তিশালী করে, শরীর আর্দ্র ও ত্বক ভালো রাখে, পর্যাপ্ত পুষ্টি  দেয়, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে, ইমিউনিটির উন্নতি করে, কনস্টিপেশন রোগের ঝুঁকি কমায়, ক্যান্সার সুরক্ষায় কাজ করে। কেননা এতে প্রচুর পরিমাণে রয়েছে আঁশ, আমিষ, শর্করা, চর্বি, ক্যালসিয়াম, লৌহ এবং ঔষধি গুণ। এই সবজিতে উপস্থিত ফলেট, ফাইবার, রাইবোফ্লবেন, পটাশিয়াম, ভিটামিন বি৬, ম্যাগনেসিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ এবং ক্যালসিয়াম দেহকে চাঙ্গা করে তোলে। ফলে কোনো ক্ষতি বা রোগের আশঙ্কা থাকে না।

মূলা চাষের জন্য ১০০-১২০ সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রা ও কিঞ্চিত্ আর্দ্রতা প্রয়োজন। গ্রীষ্ম মৌসুমে চাষ করলে মূলা ঝাঁজালো ও ফলন কম হয়। পানি সেচের ব্যবস্থা আছে এমন বেলে দো-আঁশ মাটি মূলা চাষের জন্য সর্বোত্কৃষ্ট। আমাদের দেশে মূলার কয়েকটি জাত পাওয়া যায়। কিছুদিন আগেও বাংলাদেশে জাপানি মূলা মিনোআর্লি, মিয়াশিগি ইত্যাদির চাষ হতো। যেগুলো শংকর জাত এবং এদেশের আবহাওয়া এই জাতগুলোর উপযোগী নয়। আমাদের কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট মূলার উচ্চফলনশীল চারটি জাত উদ্ভাবন করেছে। যেগুলো বীজ উত্পাদন করতে সক্ষম। জাতিভেদে এদের ভিন্নতা লক্ষ করা যায়। বীজ উত্পাদনের জন্য বীজ বপন থেকে বীজ উত্তোলন পর্যন্ত ১৫০ থেকে ১৮০ দিন প্রয়োজন। বীজ বপনের সময় আগাম ফসলের জন্য সেপ্টেম্বর মাস, মাঝারি ফসলের জন্য অক্টোবর মাস, নাবি ফসলের জন্য নভেম্বর-ডিসেম্বর মাস উপযুক্ত সময়। বীজের মাত্রা নির্ভর করে মূলার জাত, বপন পদ্ধতি এবং গাছ থেকে গাছের দূরত্বের ওপর।

মূলা উত্পাদনের জন্য গভীর করে উপর্যুপরি চাষ দিয়ে জমি উত্তমরূপে তৈরি করতে হবে। খনার বচনে তো বলা আছেই—‘ষোলো চাষে মূলা’। যেহেতু মূলার বীজ সরাসরি জমিতে বপন করা হয়, তাই জমি তৈরির ওপর মূলার ফলন নির্ভর করে। মূলার বীজ সারি করে বপন করা ভালো। বীজ বপনের সঙ্গে সঙ্গে দুইপাশের ঝুরঝুরে মাটি দিয়ে বীজ ভালোভাবে ঢেকে দিতে হবে। মূলার জমি রাখতে হবে সব সময় আগাছামুক্ত। এজন্য প্রয়োজনমতো নিড়ানি দিয়ে আগাছা পরিষ্কার ও মাটির চটা ভেঙে দিলে প্রচুর আলো-বাতাস পেয়ে মূলা বৃদ্ধি পাবে। বীজ বপনের ৪৫ থেকে ৬৫ দিনের মধ্যে মূলা উত্তোলন করে বাজারজাত করা যায়। এ সময় মূলা গড়ে ৫০০ গ্রাম থেকে ১ কেজি ওজনের হয়ে থাকে। এসব মূলা ৬০-৬৫ দিন পর্যন্ত আঁশহীন থাকে।