পাকুন্দিয়ার নারীদের ভাগ্য বদলেছে বাঁশ ও বেতশিল্পে

আপডেট : ২৯ ডিসেম্বর ২০১৯, ২১:৪৯

বাঁশ ও বেত দিয়ে বিভিন্ন জিনিসপত্র তৈরি করে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করে স্বাবলম্বী হয়ে ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটিয়েছে পাকুন্দিয়ার চরপলাশ মধ্যপাড়া গ্রামের প্রান্তিক নারীরা। সরেজমিনে দেখা গেছে, ঐ গ্রামের  প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই বিভিন্ন বয়সের নারীরা তাদের বসতঘরের সামনে কিংবা উঠানে বাঁশ ও বেত দিয়ে কেউ বুনছেন জায়নামাজ, চালুন, চাটাই, খাঁচা, ডালা, কেউবা মাছ ধরার উপকরণ দুমকি ও চাঁই। ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পরিশ্রম করে তৈরি এসব জিনিস স্থানীয় সুখিয়া, চরপলাশ, জাংগালিয়া, কোদালিয়া, পাকুন্দিয়া ও তারাকান্দি বাজারে বিক্রি করে লাভের মুখ দেখছেন তারা। ঐ গ্রামের আমেনা, ফুলেনা, পারভিন ও বিলকিছ জানান, এ কুটির শিল্পের কাঁচামাল বাঁশ ও বেত পার্শ্ববর্তী এলাকা থেকে কিনে নেন তারা। একটি বাঁশ ১৫০ টাকা দিয়ে কেনেন। একটি বাঁশ দিয়ে চার/পাঁচটি খাঁচা হয়, যার প্রতিটির মূল্য ৭০/৮০ টাকা।

একই গ্রামের গোলেছা জানান, ১৭ বছর ধরে তিনি এই শিল্পের সঙ্গে জড়িত। এই ব্যবসা করে তিন মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন তিনি। ঐ গ্রামের নার্গিস বলেন, উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয় থেকে তিন মাস মেয়াদি প্রশিক্ষণ নিয়ে এই কাজ শুরু করি। সরকার যদি আমাদের এই ব্যবসা বাড়ানোর জন্য মূলধন ও বিপণন কেন্দ্র করে দিতো তাহলে আরো এগিয়ে  যেতে পারতাম। উপজেলার প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন প্রকল্পের অন্যতম সদস্য, সমাজকর্মী দিলীপ রবি দাস জানান, পিছিয়ে পড়া অনগ্রসর জনগোষ্ঠীকে উন্নয়নের মূল স্রোতে নিয়ে আসার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এ প্রকল্পের মাধ্যমে বিলুপ্তপ্রায় বাঁশ ও বেত শিল্পের প্রশিক্ষণ দিয়ে প্রান্তিক নারীদের স্বাবলম্বী করা হচ্ছে।  উপজেলার সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. রুহুল আমীন জানান, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ঐ গ্রামের ২০ জনকে বাঁশ ও বেত শিল্পের ওপর তিন মাস মেয়াদি প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। তাদেরকে প্রণোদনা হিসেবে আর্থিক সহায়তাও দেওয়া হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাহিদ হাসান বলেন, বাঁশ ও বেত শিল্পনির্ভর ঐ গ্রামের নারীরা একত্রিত হয়ে সমবায় সমিতি গঠন করলে তাদের একটি পণ্য বিপণন কেন্দ্র করে দেওয়ার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে চেষ্টা করব।