রেমিট্যান্স ও মানি লন্ডারিং বিপরীতার্থক দুটি শব্দ। রেমিট্যান্স বলতে বুঝি প্রবাসীদের উপার্জিত অর্থ দেশে প্রেরণ। আর মানি লন্ডারিং বলতে বুঝি দেশে অবৈধভাবে উপার্জিত অর্থ বিদেশে পাচার করা। প্রবাসীদের প্রেরিত অর্থ দেশের অর্থনীতির চাকা গতিশীল করে। আর বিদেশে পাচার করা অর্থ দেশের অর্থনীতিকে করে ধ্বংস। বিদেশের মাটিতে প্রতিকূলতার মধ্যে প্রবাসীরা মাথার ঘাম পায়ে ফেলে কলুর বলদের মতো তীব্র গরম সহ্য করে কষ্টার্জিত অর্থ নিজেদের, সমাজের ও দেশের কাজে ব্যয় করে। কর্মসংস্থান ও ন্যায্য মূল্যায়নের অভাবে নিজের টাকা খরচ করে তারা বিদেশে আসে কাজ করতে। ভাগ্যের নির্মম পরিহাস, প্রবাসীরা দেশে বাড়ি করতে গিয়ে চাঁদাবাজির শিকার হয়। তাদের পরিবার শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আইনি ও প্রশাসনিক ব্যাপারে সার্বিক সহযোগিতা পায় না। বিমানবন্দরে আসা-যাওয়ার পথে সব সময় হয়রানির শিকার তারা। পক্ষান্তরে অবৈধভাবে অর্জিত অর্থ মানি লন্ডারিংয়ের মাধ্যমে বিদেশে পাচার করারা উচ্চশিক্ষিত—বড়ো বড়ো পদে আসীন ও সমাজের চোখে বিশিষ্ট ব্যক্তি! আইনের জালে ধরা পড়লেও অর্থ ও ক্ষমতার বলে আবার বের হয়ে রাজার হালে চলাফেরা করে। এরা দেশকে ভালোবাসলে অবৈধভাবে অর্থ উপার্জন কিংবা দেশের বাইরে টাকা পাচার করত না। শিক্ষিত, অর্ধ-শিক্ষিত প্রবাসীরা সততার সঙ্গে পরিশ্রম করে দেশের জন্য অর্থোপার্জন করে। একদিকে প্রবাসীরা নিজের রক্ত পানি করে দেশকে স্বাবলম্বী করার চেষ্টা করে, অন্যদিকে মুখোশধারী লুটেরা জনগণের রক্ত জোঁকের মতো চুষে ধ্বংস করছে দেশকে। পরিশেষে, প্রবাসীদের প্রতি সরকারের আন্তরিকতার সঙ্গে কার্যকর পদক্ষেপ একান্তভাবে কামনা করি।
শ্রীধর দত্ত, মেলাঘর, পটিয়া, চট্টগ্রাম
