ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার কুটি ইউনিয়নের মাইজখার গ্রামে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের দায়ে ড্রেজার মালিক ইউপি সদস্য আলমগীর হোসেনকে গতকাল রবিবার ভ্রাম্যমাণ আদালত এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১ লাখ টাকা জরিমানা করে। আসামিকে পুলিশের গাড়িতে করে থানায় নিয়ে যাবার সময় তার সহযোগীরা ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশের গাড়ির গতিরোধ করে হামলা চালিয়ে আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় হামলাকারীদের ছত্রভঙ্গ করার জন্য পুলিশ ১২ রাউন্ড ফাঁকা গুলিবর্ষণ করে। ঘটনাস্থল থেকে এক যুবককে আটক করে পুলিশ। সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত এ ব্যাপারে মামলা হয়নি।
কসবা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাসুদ উল আলম জানান, অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর অবস্থানে। রবিবার পাঁচ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে পুরো উপজেলায় ড্রেজারের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হয়। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রশান্ত বৈদ্য ও সালেক মুহিতের নেতৃত্বে উপজেলার মাইজখার এলাকায় অভিযানকালে সেখানে কসবা পশ্চিম ইউনিয়নের সদস্য আলমগীর হোসেনের অবৈধ ড্রেজার জব্দ করে ধ্বংস করা হয়। পরে তাকে ১ লাখ টাকা জরিমানা ও ১ বছরের কারাদণ্ড দেয়। তাকে নিয়ে আসার সময় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের গাড়ি ও পুলিশের ওপর হামলা করে আলমগীরকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে তার লোকজন।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রশান্ত বৈদ্য জানান, আলমগীরের তিনটি ড্রেজারের পাইপ ও যন্ত্রাংশ ধ্বংস করেন তিনি। অপরদিকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাসুদ উল আলম কুটি ইউনিয়নে দুইটি ড্রেজারের পাইপ ও যন্ত্রাংশ ধ্বংস করেন এবং সোহাগ মিয়া নামের এক ড্রেজার মালিককে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। কসবা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাহাঙ্গীর হোসেন মেহারী গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য মো. নোয়াব মিয়াকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন এবং সাতটি ড্রেজার মেশিনের পাইপ ধ্বংস করেন। অপরদিকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল্লা আল বাকীর নেতৃত্বে মূলগ্রাম এলাকায় অভিযান চালিয়ে সাতটি ড্রেজারের পাইপ ও বিপুল পরিমাণ পাইপ ধ্বংস করা হয়। মোট ২৪ হাজার ফুট অবৈধ ড্রেজারের পাইপ ধ্বংস করা হয়।
