বন্দরবাসীর দীর্ঘদিনের কাঙ্ক্ষিত ৫ নম্বর ঘাটের ফেরি সার্ভিসটি ফের চালু না করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। সড়ক ও জনপথ বিভাগের কার্যনির্বাহী কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান বলেন, ‘এখানে আবার ফেরি চালু করার কোনো পরিকল্পনা নেই। যাত্রী কম হওয়ায় এমপি মহোদয় (সেলিম ওসমান) নিজেই বন্ধ করার জন্য বলেছিলেন। তার নির্দেশেই বন্ধ করা হয়েছে।’
এর আগে দুই ধাপে পাঁচটি ফেরি দিয়ে ফেরি সার্ভিস চালু করা হলেও দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ ৫ নম্বর ঘাট থেকে ময়মনসিংহ পট্টি হয়ে নবীগঞ্জ ঘাটের ফেরি চলাচল। রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ৫ নম্বর ঘাটের ফেরির পন্টুন পানিতে তলিয়ে যায়। সম্প্রতি পন্টুনটি পানির নিচ থেকে তোলা হয়েছে। অবশ্য পন্টুন তোলা হলেও আবারও ফেরি সার্ভিস চালু করার কোনো পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। ৫ নম্বর ঘাট এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় ডুবে থাকা ফেরির পন্টুনটি পানির নিচ থেকে তোলা হয়েছে। তবে দীর্ঘদিন পানির নিচে ডুবে থাকায় রং উঠে গেছে। এছাড়া পন্টুনে ওঠার সিঁড়িটিও জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। বন্দরের বয়োজ্যেষ্ঠ বাসিন্দা মোবারক মিয়া নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, ‘আমাদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল এই ফেরি। আমরা পেয়েও ছিলাম। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে সেটা শুধু সান্ত্বনা দেওয়ার জন্য ছিল।’ তিনি বলেন, এখানে যে ফেরি ছিল তা হয়তো কেউ বিশ্বাসই করত না যদি পন্টুনটি না তোলা হতো।
নবীগঞ্জ ঘাট ও হাজীগঞ্জ ঘাটেও প্রায় একই অবস্থা। মাত্র একটি ফেরি চালানো হয় ঘাটগুলোতে। ফেলে রাখতে রাখতে এখন পাঁচটি ফেরির মধ্যে মাত্র একটি ফেরি ভালো আছে। দুইটি ফেরি নেই আর দুইটি অকেজো হয়ে পড়ে আছে।
নারায়ণগঞ্জের শহর ও বন্দরবাসীর সেতুবন্ধনে দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ছিল শীতলক্ষ্যা নদীতে ব্রিজ ও ফেরি সার্ভিসের। দীর্ঘদিনের সেই দাবির প্রেক্ষিতে গত বছরের ১৪ জুন শীতলক্ষ্যা নদীর হাজীগঞ্জ-নবীগঞ্জ ঘাটে দুইটি ফেরি দিয়ে সার্ভিসের উদ্বোধন করেছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য একেএম সেলিম ওসমান, একই বছরের ২১ আগস্ট ৫ নম্বর ঘাট থেকে ময়মনসিংহ পট্টি পর্যন্ত ফেরি সার্ভিসের উদ্বোধন করেন তিনি। কিন্তু কয়েক মাসের মধ্যেই অনিয়মিত হতে শুরু করে ফেরি চলাচল। এরপর একটি ফেরি রেখে অন্যগুলো নবীগঞ্জ ঘাটে নিয়ে আসা হয়। পরবর্তীতে ৫ নম্বর ঘাটে ফেরি চলাচল একেবারে বন্ধ করে দিয়ে সবগুলো ফেরি নবীগঞ্জ ঘাটে সরিয়ে আনা হয়।
