ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশগ্রহণ প্রশ্নে মতবিরোধ দেখা দিয়েছে বাম গণতান্ত্রিক জোটে। নির্বাচনে অংশ নিতে চায় জোটের বড়ো শরিক দল বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), তবে ভোটে অংশ না নেওয়ার পক্ষে একাট্টা জোটের বাকি ছয় শরিক দল। বর্তমান নির্বাচন কমিশনের (ইসি) প্রতি আস্থা না থাকলেও রাজনৈতিক লড়াইয়ের অংশ হিসেবে সিটি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পক্ষে যুক্তি দেখাচ্ছে সিপিবি। যদিও অন্য শরিকদের মতে, সরকারের ‘আজ্ঞাবহ’ এই ইসির অধীনে নির্বাচনে যাওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই।
সিপিবির ঢাকা কমিটি বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে আগামী ৩০ জানুয়ারি অনুষ্ঠেয় ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কথা জানায়। উত্তরে সাজেদুল হক রুবেলকে এবং দক্ষিণে মানবেন্দ্র দেবকে সিপিবি মেয়র প্রার্থী করার প্রস্তুতিও নেয়। কিন্তু জোটভুক্ত অন্য দলগুলোর আপত্তির কারণে গতকাল রবিবার পল্টনে সিপিবির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে বৈঠকে বসেন বাম গণতান্ত্রিক জোটের নেতারা।
বৈঠক শেষে জোটের সমন্বয়ক ও বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক জানান, নির্বাচনে সিপিবির অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছে বাসদ, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, বাসদ (মার্কসবাদী), গণসংহতি আন্দোলন, ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগ ও গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির নেতারা। তিনি বলেন, জোটের নেতারা মনে করছেন—এই নির্বাচনে যাওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই। সাধারণ মানুষের ন্যূনতম গণতান্ত্রিক অধিকার ভোটাধিকার প্রয়োগ, তা বাস্তবায়নে ইসি আস্থা তৈরি করতে পারেনি। ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর ভোট ডাকাতির প্রধান সহযোগী ছিল এই ইসি।
এ বিষয়ে সিপিবি সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, ৩১ ডিসেম্বরের আগে সিপিবি নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো কথা বলবে না। তবে আমরা সবরকম প্রস্তুতি নিয়ে রাখছি। জোটের সমন্বয়কের কথা প্রসঙ্গে সেলিম বলেন, সিপিবি নির্বাচনে অংশ নিলেও তাতে জোটের ঐক্যে সমস্যা হবে বলে আমরা মনে করি না।
