পর্যটকে মুখর বান্দরবানের দর্শনীয় স্থান

আপডেট : ৩০ ডিসেম্বর ২০১৯, ২২:৩১

বান্দরবান প্রতিনিধি

শীতে শিশিরভেজা সকালে ভ্রমণপিপাসু মানুষের আনাগোনা বেড়ে বদলাতে শুরু করেছে দর্শনীয় স্থানগুলোর দৃশ্যপট। প্রতিদিনই কুয়াশার চাদরে ঢেকে থাকা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি বান্দরবান জেলায় বেড়ানোর জন্য অনেকে ছুটে আসছেন দূর পাহাড়ে। গতকাল সোমবারও বান্দরবানের অন্যতম দর্শনীয় স্থান পাহাড়ের চূড়ায় গড়ে তোলা নীলাচল, মেঘলা পর্যটন কমপ্লেক্স, শৈল প্রপাত, চিম্বুক পাড়া, নীলগিরি, স্বর্ণ মন্দির ট্যুরিস্ট স্পটগুলোতে ঘুরে বেড়াতে দেখাগেছে বেড়াতে আসা পর্যটকদের।

ঢাকা থেকে বেড়াতে আসা পর্যটক আব্দুর রব, জামিল আহমেদ, ফারহানা লীনা বলেন, বান্দরবান থেকে নীলগিরি যাওয়া-আসা রেইট ভাড়া হচ্ছে ৪ হাজার ২০০ টাকা। কিন্তু কাউন্টারে গিয়েও নীলগিরি যেতে ট্যুরিস্ট গাড়ি মিলছে না, বলা হচ্ছে সব গাড়ি বুকিং। ট্যুরিষ্ট গাড়িগুলোর ভোগান্তি এবং পর্যটক হয়রানি যেন দিনদিন আরো বাড়ছে। পর্যটকদের জিম্মি করে কয়েকগুণ বেশি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে চালকেরা।

রাজশাহী থেকে বেড়াতে আসা পর্যটক মুনতাসির, সায়েদ হোসেন, নিলুফা ইয়াসমিন অভিযোগ করে বলেন, নিরাপত্তার খোড়া অজুহাতে পর্যটক হয়রানি বাড়ছে বান্দরবানে। চিম্বুকের ওয়াইজংশন ক্যাম্পে পর্যটকদের ভোটার আইডি চেক করা হচ্ছে। এত্তগুলো মানুষের আইডি কার্ড দেখতে কত সময় লাগে, গাড়ির দীর্ঘ লাইন জমে যায়।

আবাসিক হোটেলমালিক সমিতির বান্দরবানের জেলা সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম জানান, পর্যটন শিল্পের সঙ্গে পার্বত্য এই জনপদের অর্থনৈতিক চাকাও ওঠানামা করে। শীতের শুরুতে পর্যটকদের আনাগোনা বৃদ্ধি পাওয়ায় ঘুরেদাঁড়াতে শুরু করেছে পর্যটন শিল্প। চাঙ্গা হয়ে উঠছে পর্যটন শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যবসাবাণিজ্যও। স্থানীয় পাহাড়ি ব্যবসায়ী লাল পিয়াম বম বলেন, পাহাড়িদের তৈরি কোমর তাঁতের পোশাক (কাপড়) এবং বাঁশ, কাঠের তৈরির হস্তশিল্পের বিভিন্ন জিনিসপত্রের প্রধান ক্রেতা হচ্ছে পর্যটক। বেড়াতে আসা দেশি-বিদেশি পর্যটকেরাই এসব জিনিসপত্র কিনে নিয়ে যায়। শীতে বেচাবিক্রি বেড়েছে হস্তশিল্পের।

টুরিস্ট জীপগাড়ি শ্রমিক সমিতির নেতা মোহাম্মদ কামাল বলেন, পর্যটকবাহী প্রায় ৩০০-র মতো গাড়ি রয়েছে বান্দরবানে। গাড়িগুলোর সঙ্গে জড়িত কয়েকশ শ্রমিকও রয়েছে। সারাবছর পর্যটক কম থাকায় টুরিস্ট গাড়িগুলোর শ্রমিকেরাও অর্থনৈতিকভাবে অনেক কষ্টে দিন কাটায়। তবে শীতে পর্যটকের আগমন বাড়ায় তাদের মুখেও হাসি ফুটেছে। তবে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় এবং পর্যটক হয়রানির প্রমাণ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।